যুক্তরাষ্ট্র সরকার বুধবার মেক্সিকোর সবচেয়ে শক্তিশালী মাদক কার্টেলের নতুন নেতা জুয়ান কার্লোস গনজালেজের তথ্য দেওয়ার জন্য পুরস্কারের পরিমাণ ৫ মিলিয়ন ডলার থেকে বাড়িয়ে ২৫ মিলিয়ন ডলার করেছে। ‘পেলন’ নামে পরিচিত এই ব্যক্তি একজন মার্কিন নাগরিক এবং সম্প্রতি কার্টেলের প্রধান হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন। ট্রাম্প প্রশাসন জালিস্কো নিউ জেনারেশন কার্টেলের (সিজেএনজি) বিভিন্ন নেতার জন্য মোট ১০০ মিলিয়ন ডলার পুরস্কার ঘোষণা করেছে এবং কার্টেল সদস্যদের পরিবার ও ব্যবসায়িক সহযোগীদের ভিসা সীমিত করেছে।
মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই পুরস্কার এবং পাঁচজন উচ্চপদস্থ নেতার বিরুদ্ধে নতুন করে আনা অভিযোগের লক্ষ্য সংগঠনের নেতৃত্বকে পঙ্গু করে দেওয়া। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মেক্সিকো ও অন্যান্য লাতিন আমেরিকার দেশগুলোর ওপর তার নিরাপত্তা এজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্য চাপ বাড়াচ্ছেন। ভারপ্রাপ্ট অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্ল্যাঞ্চ ওয়াশিংটনে সাংবাদিকদের বলেন, “এই অত্যাধুনিক সংগঠনগুলো সহিংসতা ও ভয় ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্রে ফেন্টানিল, কোকেন, মেথ এবং অন্যান্য অবৈধ মাদক আমদানি নিয়ন্ত্রণ করে। তাদের কর্মকাণ্ড আমাদের সমাজে সহিংসতা ও মৃত্যু ছড়িয়ে দেয়।”
সিজেএনজি আটটি মেক্সিকান মাদক কার্টেলের মধ্যে একটি যাদেরকে বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। গত ফেব্রুয়ারিতে মেক্সিকান সামরিক বাহিনীর অভিযানে নেতা নেমেসিও রুবেন ওসেগুয়েরা সার্ভান্তেস বা ‘এল মেঞ্চো’ নিহত হওয়ার পর সংগঠনটি বড় ধাক্কা খায়। ওই অভিযানে যুক্তরাষ্ট্র গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহ করেছিল, যার ফলে জালিস্কো রাজ্যে সহিংসতা বেড়ে যায়। এল মেঞ্চোর সৎপুত্র এবং দ্বৈত মেক্সিকান ও মার্কিন নাগরিক গনজালেজ কার্টেলের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছেন বলে জানা গেছে, যা অ্যাভোকাডো উৎপাদন থেকে মাদক পাচার পর্যন্ত বিভিন্ন কাজে জড়িত।
বুধবারের এই পদক্ষেপের কয়েক সপ্তাহ আগে যুক্তরাষ্ট্র গনজালেজসহ কার্টেলের সঙ্গে জড়িত ৫০ জন ব্যক্তি ও কোম্পানির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল। এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় সম্পদ জব্দ করা হয় এবং উল্লিখিত ব্যক্তিদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের আর্থিক লেনদেন বন্ধ করে দেওয়া হয়। কার্টেলটিকে মেক্সিকোর সবচেয়ে বড় হিসেবে বিবেচনা করা হয়, যার উপস্থিতি দেশটির ৩২টি রাজ্যের মধ্যে ২১টিতে রয়েছে। এর কার্যক্রম যুক্তরাষ্ট্রসহ বেশ কয়েকটি দেশে বিস্তৃত হয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসন মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লডিয়া শেইনবাউমের সরকারের ওপর কার্টেলগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য চাপ বাড়াচ্ছে, এমনকি সামরিক পদক্ষেপের হুমকিও দিচ্ছে।
নতুন করে উন্মোচিত অভিযোগপত্রে এল মেঞ্চোর সাবেক জামাই হুলিও আলবার্তো কাস্তিলো রদ্রিগেজ এবং হুগো গনজালো মেন্দোজা গায়তানকে অভিযুক্ত করা হয়েছে, যাকে কর্তৃপক্ষ প্রাক্তন নেতার ধর্মপুত্র হিসেবে বর্ণনা করেছে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সমস্ত আসামি মাদক পাচার ও অস্ত্র সংক্রান্ত অপরাধে অভিযুক্ত। মার্কিন ড্রাগ এনফোর্সমেন্ট অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের প্রধান টেরেন্স কোল সাংবাদিকদের বলেন, “এটি সিজেএনজির বিরুদ্ধে একটি লড়াই যা আমরা সবেমাত্র শুরু করেছি, এবং আমরা পিছপা হব না।”




