রস+আলোর পাঠকদের জন্য এবার এক ভিন্ন ধাঁচের সাক্ষাৎকার। বর্তমান সময়ের সবচেয়ে আলোচিত ও সমালোচিত চরিত্র, যাকে এক নামে সবাই চেনে — সেই বিদ্যুৎ মশাইয়ের এক্সক্লুসিভ সাক্ষাৎকারটি প্রকাশ পেয়েছে। টানা চার ঘণ্টা লোডশেডিংয়ের পর রীতিমতো পাগল হওয়ার আগ মুহূর্তে এই সাক্ষাৎকার নিয়েছেন ময়মনসিংহ সরকারি কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র ওয়াসিম সাদাত।

শুরুতে বিদ্যুৎ মশাইকে সালাম জানিয়ে ওয়াসিম জিজ্ঞেস করেন, এবার তিনি কতক্ষণ থাকবেন। জবাবে বিদ্যুৎ মশাই পা নামিয়ে কথা বলতে বলেন এবং ডিসিপ্লিনের কথা তুলে ধরেন। তবে সাংবাদিকের বিনয়ের সঙ্গে ক্ষমা চাওয়ায় তিনি বলেন, ডিসিপ্লিন ছাড়াও অনেক কিছু চলে, এমনকি গোটা দেশও মাঝে মাঝে ডিসিপ্লিন ছাড়া চলে।

পরে ওয়াসিম জানতে চান, ইদানীং তার ঘোরাফেরার নেশা বেড়ে গেছে কি না। বিদ্যুৎ মশাই স্পষ্ট বলেন, এটা ঠিক নেশা নয়, বরং এক ধরনের প্যাশন। জীবনে একবার সবাইকে আউট অফ প্যাশন কিছু করতে হয়, তিনিও এখন ঘোরাফেরাকেই প্রাধান্য দিচ্ছেন। তিনি বলেন, মামলা-টামলা খেলে পরের কয়েক মিনিট মন খারাপ থাকে, তখন গাড়ি চালানোর সময়ও আস্তে চলতে হয় — জনৈক লোকাল বাস ড্রাইভারের মতো।

জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়ার প্রসঙ্গ তুললে বিদ্যুৎ মশাই ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানান। তিনি বলেন, জনসেবা করেই তার আজ এই হাল। সময়ে-অসময়ে কত মানুষের গালি খেতে হয় — ফ্যান আস্তে ঘুরলে গালি, লাইটের আলো কম হলেও গালি। একজন এলিট ক্লাস সার্ভিস প্রোভাইডার হয়ে কেন তিনি এসব সহ্য করবেন। তিনি জানান, তিনি বরাবরই কবিগুরুর ভক্ত এবং কবিগুরুর সেই দেখানো পথেই তিনি বেরিয়ে পড়েছেন।

সাংবাদিকের মতে, লোকজনের মুখে শোনা যাচ্ছে তার আচরণে এখন বেশ ঔদ্ধত্য দেখা যাচ্ছে এবং তার সাক্ষাৎ পাওয়া দুরূহ হয়ে উঠেছে। এতে বিদ্যুৎ মশাই ক্ষুব্ধ হয়ে বলেন, এ কারণেই তিনি পত্রিকায় সাক্ষাৎকার দিতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন না। বিদ্রোহী কবি নজরুলের চেতনায় বিশ্বাসী হয়ে খানিক বিদ্রোহী আচরণ করলেই তাকে ঔদ্ধত্য বলে অপমান করা হয়। তিনি কাব্যভাষায় প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, তিনি যুগে যুগে আসেন, মহাবিপ্লবের জন্য আসিয়াছেন — স্রষ্টার শনি মহাকাল ধুমকেতু হয়ে।

জনগণের অভিযোগ প্রসঙ্গে বলা হয়, আগে তিনি অল্পক্ষণের জন্য ঘর ছাড়তেন, আর এখন অল্প সময়ের জন্য ঘরে ফেরেন। বিদ্যুৎ মশাই এর জবাবে বলেন, সবই ওনার ইশারা। এরপর তিনি উঠে পড়ার তাগিদ প্রকাশ করেন এবং বলেন, আপনাদের জন্য অনেক সময় ঘরে থাকতে হয়েছে, এখন বাইরের হাওয়া বড় বেশি প্রয়োজন। তার ফি টেবিলের ওপর রেখে যেতে বলেই তিনি চলে যান। যেতে যেতে তিনি বেসুরো গলায় গেয়ে ওঠেন — আমায় ডেকো না, ফেরানো যাবে না, ফেরারি পাখিরা কূলায় ফেরে না...

সাক্ষাৎকার শেষে ওয়াসিমের মনের কোণায় ধিক শব্দ করে ওঠে। তিনিও আনমনে গেয়ে ওঠেন — আবার দেখা হলে পুরোনো গান, পুরোনো কবিতা ফিরিয়ে দেব, শুধু পুরোনো চিঠি চেয়ো না, ভিজে গেছে সব চোখের জলে।