‘প্রেমের সূচক’ শিরোনামের নতুন গানটি প্রকাশের মধ্য দিয়ে সংগীতাঙ্গনে আলোচনায় এসেছেন তরুণ শিল্পী এনজেল নূর। সম্প্রতি নিজের ইউটিউব চ্যানেলে গানটি প্রকাশ করেছেন তিনি। মাত্র দুই সপ্তাহের ব্যবধানে গানটি ৩০ হাজারের বেশি ভিউ অর্জন করেছে। শ্রোতাদের কাছ থেকে প্রশংসাও কুড়িয়েছে এটি। গানটির কথা, সুর ও কণ্ঠ দিয়েছেন এনজেল নিজেই।

গানটি প্রসঙ্গে এক শ্রোতা মন্তব্য করেছেন, এটি নিছক গান নয়, বরং একলা বৃষ্টির বিকেলে গাড়ির কাচে জমে থাকা জলবিন্দুর মতো নীরব অনুভূতির প্রকাশ। আরেক শ্রোতা লিখেছেন, কণ্ঠটি যেন ভোরের শিশিরে ভেজা ফুলের পাপড়ির মতো কোমল ও হৃদয়ছোঁয়া।

গানটি লেখার সময় নিজেকে একটি অতিথি পাখির সঙ্গে তুলনা করেছেন এনজেল। যেমনটি অতিথি পাখি এক দেশ থেকে আরেক দেশে গিয়ে ঘর বাঁধে, প্রেমে পড়ে, কিন্তু জানে আবহাওয়া বদলালে তাকে চলে যেতে হবে। গানেও সেই অনিশ্চয়তা ও বিরহের সুর ফুটে উঠেছে। প্রিয় পাখিকে পাখিটি বারবার প্রশ্ন করে—‘এখনই যাবে কি চলে?’

‘সূচক’ শব্দটি নিয়ে তিনি জানান, শব্দটির একাধিক অর্থ রয়েছে—শুরু, পরিমাপক বা ইন্ডিকেটর। তার প্রেম বা ভালোবাসার অস্তিত্বের পরিমাপকই যেন সেই প্রিয় মানুষ।

এর আগে ‘যদি আবার’ ও ‘তীল’ গানের মাধ্যমে শ্রোতাদের কাছে পৌঁছেছিলেন এনজেল। তবে একটি গান জনপ্রিয় হলে সেটির আদলে আরেকটি গান করার পক্ষপাতী নন তিনি। তার মতে, প্রতিটি গানই একটি ভিন্ন গল্প। তার ভাষ্যমতে, তার কাছে লেখা ৫৮টি গানের প্রতিটিতে আলাদা আলাদা গল্প রয়েছে। নিজেকে সবসময় একজন স্টোরি টেলার হিসেবে পরিচয় দিতে চান তিনি। কারণ, তার প্রতিটি গান স্বতন্ত্র—কোনোটিই ক্লাসিক্যাল, মডার্ন বা রবীন্দ্রসংগীতের ধরনের সঙ্গে পুরোপুরি মেলে না, তবে কিছু একটা তো বটে।

মজার বিষয় হলো, তার ফোনে জমা রয়েছে ৪১২টি সুর। স্টুডিওতে বসে নয়, দৈনন্দিন কাজের ফাঁকে যখনই কোনো সুর মাথায় এসেছে, তাৎক্ষণিক রেকর্ড করে রেখেছেন তিনি। কখনো বাইক চালানোর সময়, কখনো রান্না করার সময়, এমনকি কারও সঙ্গে কথা বলার মধ্যেও সুর এলে তা ধরে রাখেন।

বাণিজ্যিক মিউজিকের অনেক অফার পেয়েও সেগুলো ফিরিয়ে দিয়েছেন এনজেল। কারণ, নির্মাতারা প্রায়ই এমন ‘হিট’ গান চান যেখানে কেবল কুইক এন্টারটেইনমেন্ট বা নির্দিষ্ট কিছু বিট থাকে। তার মতে, সব গান যদি শুধু শ্রোতার চাহিদার কথা ভেবে ফর্মুলায় তৈরি হয়, তাহলে আর্ট বা গল্প বলার আর কিছু অবশিষ্ট থাকে না। ইউটিউবে মার্কেটিং, পিআর বা বুস্টিং করে এক সপ্তাহের জন্য ট্রেন্ডিংয়ে আসা তার কাছে সহজ হলেও তিনি সেটি করতে চান না। তিনি মনে করেন, এমন অনেক গান আছে যা ১০-১৫ দিন পর আর কেউ শোনে না। তিনি চান তার গানগুলো যেন ১০ বছর পরও একইভাবে মানুষ শোনে। তাই দ্রুত হিটের পেছনে না ছুটে নিজের গল্প বলেই যেতে চান তিনি। তার কাছে একটি গান ধীরে মানুষের কাছে পৌঁছালেও সেটি গুরুত্বপূর্ণ, যদি দীর্ঘদিন পরও তা শ্রোতারা শুনতে চান।

সামনে তার পরিকল্পনার কথা জানিয়ে এনজেল বলেন, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও কাজী নজরুল ইসলামের তিনটি করে গান নিয়ে একটি অ্যালবাম করছেন। পাশাপাশি ১২টি মৌলিক গানের অ্যালবামও রয়েছে। অভিনয়ের খবরও আছে—সেপ্টেম্বরের শেষ বা অক্টোবরে একটি সিনেমার শুটিং শুরু হবে, যেখানে তিনি ডালিম কুমার চরিত্রে অভিনয় করবেন।