বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশে নির্বাচন সম্পূর্ণ ত্রুটিমুক্ত হবে না বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী। তাঁর ভাষ্য, শতভাগ নিখুঁত নির্বাচন প্রতিবেশী দেশ ভারতেও সম্ভব নয়, সেখানেও প্রতি নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। তবে ফলাফল ঘোষণার পর সব পক্ষ তা মেনে নেয় বলে জানান তিনি।

রাজধানীর তোপখানা রোডের সিরডাপ মিলনায়তনে সোমবার দুপুরে '২০২৬ সালের রাজনৈতিক ও নির্বাচনী সহিংসতা: গণতান্ত্রিক উত্তরণের পথের ওপর প্রভাব' শীর্ষক এক সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন রিজভী। ইউরোপিয়ান পার্টনারশিপ ফর ডেমোক্রেসি (ইপিডি) এবং অধিকার যৌথভাবে এই আলোচনার আয়োজন করে।

সংলাপে রিজভী উল্লেখ করেন, গত ৫ আগস্টের পর থেকে সম্প্রতি পর্যন্ত বহু নেতা-কর্মীকে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের কারণে বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠন থেকে বহিষ্কার, অব্যাহতি এবং শোকজ করা হয়েছে। এই পদক্ষেপকে তিনি ইতিবাচক অগ্রগতি হিসেবে চিহ্নিত করেন। তাঁর মতে, অতীতে বিরোধী দলের কার্যালয়ে হামলা বা নেতাকর্মীদের বাধা দেওয়ার ঘটনায় উৎসাহিত করা হতো, কিন্তু এবার সন্ত্রাস ও দখলদারির সঙ্গে জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হয়নি। নিজেদের ভুল শোধরানোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিতে পারা একটি দলের জন্য সঠিক পথে থাকার প্রমাণ বলে মন্তব্য করেন তিনি।

রাজনৈতিক বাক্যবিন্যাসের বিষয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়ে রিজভী বলেন, সরকার ও বিরোধী দল উভয়কেই ভাষা ও শব্দ প্রয়োগে যত্নবান হতে হবে, তবেই নেতাকর্মীদের মধ্যে সহিংসতা ছড়াবে না। তিনি জোর দিয়ে বলেন, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য যত আইনই প্রণয়ন করা হোক না কেন, মানুষের মানসিকতার পরিবর্তন না হলে তা ফলপ্রসূ হবে না। বিরোধী দলের সমালোচনা গঠনমূলক ও পারস্পরিক উপকারী হওয়া উচিত, যাতে রাষ্ট্রীয় গণতন্ত্রের বিকাশ ঘটে। তিনি সতর্ক করে বলেন, একতরফা আচরণ গণতন্ত্রের জন্য ক্ষতিকর, কারণ এক হাতে তালি বাজে না।

'উল্টে দেব, পাল্টে দেব'-এর মতো বিতর্কিত রাজনৈতিক উচ্চারণ প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, এসব কথা বলা হলেও এর প্রকৃত মূল্য দিতে হয় নিম্নস্তরের কর্মীদের, যাদের সন্তানরা বিদেশে পড়াশোনার সুযোগ পায় না। তিনি রাজনৈতিক বক্তব্যেও সংযমের আহ্বান জানান।

বিচার বিভাগের প্রসঙ্গ টেনে বিএনপি নেতা বলেন, বিচারক নিয়োগে রাজনৈতিক বিবেচনা উন্নত দেশেও থাকে, তবে চেয়ারে বসার পর তাদের নিরপেক্ষ থাকতে হয়। গত ১৭ বছরে এজলাস থেকে হুমকি দেওয়া এবং বিচার বিক্রির ঘটনার পুনরাবৃত্তি না হওয়ার আশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, সুবিবেচনাপ্রসূত রায় দেওয়ার মানসিকতার বিচারকই কাম্য।

সংলাপে আরও বক্তব্য দেন সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা শারমিন এস মুরশিদ, জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য নাজিবুর রহমান মোমেন ও মারদিয়া মমতাজ, এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান, এনসিপির সংসদ সদস্য মাহমুদা আলম, যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিন, নির্বাচন বিশেষজ্ঞ আবদুল আলীম, অধিকারের পরিচালক এ এস এম নাসিরউদ্দিন এলান ও তাসকিন ফাহমিনা এবং ইপিডির প্রকল্প পরিচালক আনাস্তাসিয়া এস উইবাওয়া।