গর্ভধারণকালে ডায়াবেটিস, থাইরয়েড ও অ্যাড্রিনালজনিত রোগসহ নানা ধরনের অন্তঃক্ষরা গ্রন্থির অসুখ মা ও অনাগত সন্তানের জন্য গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে। এসব রোগের আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতি ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে চিকিৎসকদের সর্বশেষ বৈজ্ঞানিক জ্ঞান সমৃদ্ধ করতে রাজধানীর ঢাকা ক্লাবে একটি বিশেষ সেমিনারের আয়োজন করা হয়। ‘প্রেগন্যান্সি অ্যান্ড কমন এন্ডোক্রাইন ডিজঅর্ডার’ শীর্ষক এই বৈজ্ঞানিক সেমিনারের আয়োজক ছিল বাংলাদেশ এন্ডোক্রাইন সোসাইটির (বিইএস) উইমেনস হেলথ টাস্কফোর্স। সায়েন্টিফিক পার্টনার হিসেবে ছিল পপুলার ফার্মাসিউটিক্যালস পিএলসি।
সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের স্ত্রী ও প্রসূতিবিদ্যা বিভাগের সাবেক বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. মালিহা রশিদ। তিনি বলেন, গর্ভধারণকালে এন্ডোক্রাইন রোগের প্রভাব শুধু মায়ের শরীরেই সীমাবদ্ধ থাকে না, এটি অনাগত শিশুর সুস্থ বিকাশের সঙ্গেও নিবিড়ভাবে জড়িত। তাই প্রসূতি ও এন্ডোক্রাইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বিত চিকিৎসা নিশ্চিত করা এবং চিকিৎসকদের নিয়মিত বৈজ্ঞানিক প্রশিক্ষণের সুযোগ তৈরি করা জরুরি।
বিশিষ্ট এন্ডোক্রাইনোলজিস্ট অধ্যাপক ডা. ফারুক পাঠান তাঁর বক্তব্যে জানান, চিকিৎসাবিজ্ঞানে প্রতিনিয়ত নতুন গবেষণা ও চিকিৎসা নির্দেশিকা যুক্ত হচ্ছে। এই অগ্রগতি চিকিৎসকদের কাছে পৌঁছে দিতে এ ধরনের বৈজ্ঞানিক সেমিনার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তিনি বিশ্বাস করেন, জ্ঞান ও অভিজ্ঞতার এই বিনিময় শেষ পর্যন্ত রোগীদের আরও নিরাপদ ও উন্নত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে সহায়তা করবে।
বাংলাদেশ এন্ডোক্রাইন সোসাইটির সভাপতি ডা. ফারিয়া আফসানা সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন। তিনি উল্লেখ করেন, এন্ডোক্রাইন রোগের চিকিৎসায় মাল্টিডিসিপ্লিনারি সমন্বয় এখন সময়ের দাবি। এই আয়োজন চিকিৎসকদের মধ্যে অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং রোগীকেন্দ্রিক সেবা আরও কার্যকর করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
উইমেনস হেলথ টাস্কফোর্সের কনভেনর অধ্যাপক ডা. তানজিনা হোসেন স্বাগত বক্তব্যে বলেন, গর্ভাবস্থায় এন্ডোক্রাইন রোগের যথাযথ ও সময়োপযোগী ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে মা ও নবজাতকের জটিলতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব। সেজন্য চিকিৎসকদের সর্বশেষ বৈজ্ঞানিক তথ্য ও আন্তর্জাতিক নির্দেশনা নিয়ে নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও শিক্ষাদানের ওপর জোর দেন তিনি।
বাংলাদেশ এন্ডোক্রাইন সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক ডা. এম সাইফুদ্দিন বলেন, দেশে এন্ডোক্রাইন চিকিৎসার মানোন্নয়নে ধারাবাহিক বৈজ্ঞানিক শিক্ষা ও গবেষণার বিকল্প নেই। ভবিষ্যতেও এমন সেমিনার অব্যাহত থাকবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
সেমিনারে ডা. শাহিন ইবনে রহমান, ডা. আহমেদ ইফরাদ বিন রওনক, ডা. সানজিদা ইসলাম, ডা. রিফাত ফেরদৌস ও ডা. আফিয়া জয়নব তন্নি বৈজ্ঞানিক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। তারা অ্যাড্রিনাল ইনসাফিসিয়েন্সি, থাইরয়েড ম্যালিগন্যান্সির ইতিহাস থাকা নারীদের চিকিৎসা, প্রোল্যাকটিনোমা, পলিএন্ডোক্রাইন মেটাবলিক ওভারিয়ান সিনড্রোম ও গ্রেভস ডিজিজসহ বিভিন্ন বিষয়ের ওপর বর্তমান চিকিৎসা নির্দেশনা, বাস্তব অভিজ্ঞতা ও কেসভিত্তিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে আলোচনা করেন।
প্যানেলিস্ট হিসেবে অংশ নেন ডা. নাজমা আক্তার, ডা. মির্জা শরিফুজ্জামান, ডা. মারুফা মোস্তারী, ডা. ফৌজিয়া আনার ও ডা. রেজওয়ানা সোবহান। তারা বিভিন্ন কেস নিয়ে মতামত ও অভিজ্ঞতা বিনিময় করেন।
পপুলার ফার্মাসিউটিক্যালস পিএলসির গ্রুপ প্রোডাক্ট ম্যানেজার শ্রীকান্ত ভট্টাচার্য বলেন, আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানের অগ্রগতি তখনই রোগীর কাছে পৌঁছায় যখন চিকিৎসকদের নিয়মিত বৈজ্ঞানিক শিক্ষার সুযোগ থাকে। এই উদ্যোগের অংশীদার হতে পেরে তারা গর্বিত এবং ভবিষ্যতেও চিকিৎসাবিজ্ঞানের অগ্রগতিতে পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দেন।
সেমিনারে দেশের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতাল, মেডিকেল কলেজ এবং বিশেষায়িত স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের এন্ডোক্রাইনোলজিস্ট, স্ত্রীরোগ ও প্রসূতিবিদ, মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ও চিকিৎসকরা উপস্থিত ছিলেন। বাংলাদেশ এন্ডোক্রাইন সোসাইটির নির্বাহী কমিটির সদস্য এবং পপুলার ফার্মাসিউটিক্যালসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও অনুষ্ঠানে অংশ নেন।




