সুনামগঞ্জ জেলায় চলমান টানা বর্ষণে নদ-নদী ও হাওরাঞ্চলের পানির উচ্চতা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর ফলে সৃষ্ট বন্যা পরিস্থিতির আশঙ্কায় পর্যটকদের জীবন ও সম্পদ রক্ষায় জেলা প্রশাসন কঠোর নির্দেশনা জারি করেছে। আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মতিউর রহমান খানের স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ সংক্রান্ত সাতটি নির্দেশনা প্রকাশ করা হয়।

জেলা প্রশাসনের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, আবহাওয়া প্রতিকূল থাকলে, ভারী বৃষ্টি বা দমকা হাওয়া চলাকালে কোনো অবস্থাতেই পর্যটকদের নিয়ে নৌযান চালানো যাবে না। প্রতিটি হাউসবোটে ধারণক্ষমতা অনুযায়ী পর্যাপ্ত সংখ্যক মানসম্মত লাইফ জ্যাকেট, লাইফবয় রিং এবং অন্যান্য জরুরি নিরাপত্তা সরঞ্জাম রাখা বাধ্যতামূলক। এছাড়া অতিরিক্ত যাত্রী বহন সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, যাত্রা শুরুর আগে পর্যটকদের নিরাপত্তা সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা ও জরুরি পরিস্থিতিতে করণীয় সম্পর্কে অবহিত করতে হবে। জেলা প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্দেশ যথাযথভাবে মেনে চলতে হবে। পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটলে বা স্থানীয় প্রশাসন প্রয়োজন মনে করলে হাউসবোট চলাচল সাময়িক বন্ধ রাখার নির্দেশও কার্যকর করতে হবে।

অন্যদিকে, সুনামগঞ্জে বুধবার সকাল ৯টা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ২৬৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যা এ মৌসুমে জেলায় সর্বোচ্চ। এর আগে গত ২৮ এপ্রিল সর্বোচ্চ ১৩৭ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছিল। সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী (পওর বিভাগ-২) এমদাদুল হক জানান, উজানে এবং স্থানীয়ভাবে আরও দুই দিন ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে, ফলে পানি আরও বাড়তে পারে এবং সাময়িক বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে।

বর্তমানে টাঙ্গুয়ার হাওরসহ বিভিন্ন হাওরে বিপুল সংখ্যক পর্যটক ভিড় করছেন। তারা নৌকায় রাত কাটানোর পাশাপাশি নিলাদ্রী লেক, লাকমা ছড়া, বারিকটিলা, যাদুকাটা নদী ও শিমুলবাগানের মতো পর্যটন স্পট ঘুরে দেখছেন। এই পরিস্থিতিতে পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই জেলা প্রশাসন এ উদ্যোগ নিয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানানো হয়েছে।

বন্যা মোকাবিলায় জেলায় একটি নিয়ন্ত্রণ কক্ষ খোলা হয়েছে। উপজেলা পর্যায়ে আশ্রয়কেন্দ্রের তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে। জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তার দায়িত্বে থাকা সহকারী কমিশনার মেহেদী হাসান হৃদয় জানান, সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিতে সকল উপজেলাকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।