২০২৭ সালের এসএসসি পরীক্ষার প্রস্তুতির অংশ হিসেবে বিজ্ঞান বিষয়ের প্রথম অধ্যায় থেকে কিছু গুরুত্বপূর্ণ সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও তার উত্তর বিশদভাবে তুলে ধরা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের সুবিধার্থে বাংলাদেশ ব্যাংক উচ্চবিদ্যালয়, মতিঝিলের সিনিয়র শিক্ষক মো. ফারুক হোসেন এগুলো প্রস্তুত করেছেন। এতে খাদ্যের নিরাপত্তা থেকে শুরু করে জনস্বাস্থ্যের নানা দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।
পাঠ্যসূচির শুরুতেই প্রশ্ন করা হয়েছে, খাদ্য সংরক্ষণের গুরুত্ব কী? এর উত্তরে বলা হয়েছে, খাবারের গুণগত মান অটুট রেখে দীর্ঘসময় ব্যবহারোপযোগী রাখার কৌশলই হলো খাদ্য সংরক্ষণ। এই পদ্ধতি অনুসরণ করলে খাদ্য সহজে পচে যায় না, এর পুষ্টিমান ও স্বাদ অবিকৃত থাকে। শুধু তাই নয়, অপচয় রোধ করে দুর্যোগ বা দুর্ভিক্ষের সময় এটি জরুরি সম্পদ হিসেবে কাজে লাগে।
অণুজীব বা ব্যাকটেরিয়া কর্তৃক উৎপাদিত বিষাক্ত উপাদান ‘টক্সিন’-এর প্রসঙ্গে ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে যে, এটি মানবদেহের জন্য চরম বিপজ্জনক। বিভিন্ন ধরনের এই টক্সিন স্নায়ুতন্ত্রে আঘাত হানে, খাদ্যে বিষক্রিয়া (ফুড পয়জনিং) ঘটায় এবং এমনকি মৃত্যুর কারণ পর্যন্ত হতে পারে।
মাদকদ্রব্যের সামাজিক ক্ষতির দিকটি নিয়ে একটি প্রশ্নোত্তরে বলা হয়েছে, মাদকাসক্তি একক কোনো ব্যক্তির সমস্যা নয়। এটি ব্যক্তির শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য ধ্বংসের পাশাপাশি পারিবারিক বন্ধন ছিন্ন করে এবং সামাজিক মূল্যবোধ ও শৃঙ্খলাকে বিপর্যস্ত করে তোলে। আসক্ত ব্যক্তি প্রায়ই অপরাধপ্রবণ হয়ে সমাজে অরাজকতা সৃষ্টি করে, তাই মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান অপরিহার্য।
একই প্রেক্ষাপটে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পার্শ্ববর্তী এলাকায় তামাকজাত দ্রব্যের প্রিজয় ও প্রচার বন্ধের কারণ ব্যাখ্যা করা হয়েছে। তামাকে বিদ্যমান নিকোটিন স্নায়ুতন্ত্রকে সাময়িক উত্তেজিত করলেও এটি বহুমুখী ক্ষতির কারণ হয়। কৌতূহলী বয়সের কারণে শিক্ষার্থীরা সহজেই এইসব পণ্যের প্রতি আকৃষ্ট হতে পারে, যা তাদের জন্য ভয়াবহ পরিণাম ডেকে আনতে পারে।
শরীরচর্চার গুরুত্ব নিয়ে বলা হয়েছে, এটি দেহের সুস্থতা ও স্বাভাবিক কর্মক্ষমতা ধরে রাখার প্রধান শর্ত। নিয়মিত ব্যায়াম মাংসপেশির সক্ষমতা বাড়ায়, স্নায়ু ও দেহতন্ত্রকে সতেজ রাখে এবং হাঁটাচলাসহ দৈনন্দিক কাজে দক্ষতা আনে। তদুপরি, এটি রক্ত চলাচল প্রক্রিয়া উন্নত করে, হজমশক্তি বাড়ায় ও দেহের তাপ নিয়ন্ত্রণ করে।
শেষ প্রশ্নটি এইচআইভি ভাইরাস নিয়ে। এখানে উল্লেখ করা হয়েছে, এই ভাইরাস রক্তস্রোতে প্রবেশের পর শ্বেতকণিকার টি-লিম্ফোসাইটকে ধ্বংস করে শরীরের স্বাভাবিক রোগ প্রতিরোধক্ষমতা নিঃশেষ করে ফেলে। এর পরিণামে দেহে নানাবিধ বিরল রোগ যেমন—শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণ, মস্তিষ্কের রোগ, পরিপাকতন্ত্রের জটিলতা ও টিউমার আক্রান্তের ঝুঁকি বহুলাংশে বৃদ্ধি পায়। এই বিষয়বস্তুগুলো শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার প্রস্তুতিকে আরও সুদৃঢ় করবে।




