ক্যান্সারজনিত মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ মেটাস্ট্যাসিস—যেখানে ক্যান্সার কোষ মূল টিউমার থেকে ছড়িয়ে দেহের অন্যান্য অংশে নতুন টিউমার গঠন করে। এই প্রক্রিয়া প্রতিরোধে এক যুগান্তকারী উদ্ভাবন এনেছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত অধ্যাপক ড. হেমায়েত উল্লাহর নেতৃত্বাধীন এক গবেষক দল। তাঁদের আবিষ্কৃত কিছু ক্ষুদ্র অণু সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের প্যাটেন্ট অ্যান্ড ট্রেডমার্ক অফিস থেকে প্যাটেন্ট অনুমোদন লাভ করেছে।

২০১৯ সালে প্রোভিশনাল প্যাটেন্ট আবেদনের পর দীর্ঘ মূল্যায়ন শেষে ২০২৬ সালে চূড়ান্ত প্যাটেন্ট মঞ্জুর করা হয়। ড. হেমায়েত উল্লাহ বর্তমানে হাওয়ার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের জীববিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জনকারী এই গবেষকের সঙ্গে এ কাজে সহযোগিতা করেছেন জর্জটাউন ইউনিভার্সিটি মেডিকেল সেন্টারের লম্বার্ডি কমপ্রিহেনসিভ ক্যান্সার সেন্টারের অনকোলজি বিভাগের ড. শিবানেসান দক্ষিণামূর্তি।

গবেষণাটির সূত্রপাত উদ্ভিদ ও ভাইরাসের প্রতিলিপি তৈরির কৌশল নিয়ে কাজ করার সময়। সেখানেই গবেষকেরা লক্ষ করেন যে, RACK1 নামক একটি প্রোটিনের গঠন উদ্ভিদ ও মানবকোষে প্রায় অভিন্ন। এই প্রোটিনই ক্যান্সার কোষকে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে ছড়িয়ে পড়তে সহায়তা করে। এই বাস্তবতা থেকে তাঁরা SD29 ও SD29-14 নামে দুটি বাধা প্রদানকারী অণু উদ্ভাবন করেন, যা সরাসরি RACK1 প্রোটিনকে লক্ষ্য করে।

পরীক্ষাগারে স্তন ক্যান্সারের কোষের ওপর প্রয়োগ করে দেখা যায়, অণুগুলো ফোকাল অ্যাডেসন কাইনেজ (FAK) সিগন্যালিং পথকে বাধাগ্রস্ত করছে। FAK পথ কোষের গতিশীলতা ও আনুগত্য নিয়ন্ত্রণ করে। এটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় স্তন ক্যান্সার কোষগুলোর বিস্তার নাটকীয়ভাবে কমে যায়। গবেষকেরা মনে করছেন, ভবিষ্যতে শুধু স্তন ক্যান্সার নয়, ফুসফুস, কোলন ও প্রোস্টেটের মতো অন্যান্য ক্যান্সারের মেটাস্ট্যাসিস প্রতিরোধেও এটি কার্যকর হতে পারে।

বর্তমানে বিশ্বে ক্যান্সারের ছড়িয়ে পড়া ঠেকানোর জন্য কোনো অনুমোদিত ওষুধ নেই বললেই চলে। ড. হেমায়েত উল্লাহর এই কৌশল সেই শূন্যতা পূরণে বড় ভূমিকা রাখতে পারে বলে আশা প্রকাশ করছেন বিশেষজ্ঞরা। তবে গবেষণাপত্রটি এখনো পিয়ার রিভিউ সম্পন্ন করেনি। এটি bioRxiv-এ প্রিপ্রিন্ট হিসেবে প্রকাশিত হয়েছে। প্যাটেন্ট পাওয়ার পর এখন ল্যাবরেটরি থেকে প্রাণী ও সর্বশেষ মানবদেহে ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল সফল হলেই এই অণুগুলো ওষুধ হিসেবে বাজারে আসতে পারবে।