মাইক্রোসফট তাদের উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেমের নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী করতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নির্ভর একটি নতুন স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা চালু করছে। বিশ্বব্যাপী সাইবার অপরাধীরা এআই ব্যবহার করে আগের তুলনায় অনেক দ্রুত নিরাপত্তা দুর্বলতা চিহ্নিত করে হামলা চালানোর সুযোগ পাচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত অপারেটিং সিস্টেমটির নিরাপত্তা জোরদারে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

প্রতিষ্ঠানটির তৈরি 'এমড্যাশ' (MDash) নামের মাল্টি-মডেল এআই স্ক্যানিং ব্যবস্থার জন্য ক্লাউডভিত্তিক পৃথক অবকাঠামো গড়ে তোলা হয়েছে। মাইক্রোসফটের অটোনোমাস কোড সিকিউরিটি (ACS) দলের তৈরি এই প্রযুক্তিতে ১০০টির বেশি বিশেষায়িত এআই এজেন্ট একসঙ্গে কাজ করে সম্ভাব্য নিরাপত্তা ত্রুটি খুঁজে বের করে। এর ফলে সফটওয়্যারের ত্রুটি দ্রুত শনাক্ত, বিশ্লেষণ ও সমাধান সম্ভব হবে। পাশাপাশি, 'জিরো-ডে' ধরনের সাইবার হামলার ঝুঁকিও কমে যাবে বলে জানিয়েছে মাইক্রোসফট।

শুধু ত্রুটি শনাক্ত করেই থেমে থাকছে না প্রতিষ্ঠানটি। এখন থেকে নতুন কোনো ফিচার বা সফটওয়্যার হালনাগাদ তৈরির শুরুতেই উন্নয়ন প্রক্রিয়ার প্রতিটি ধাপে এআই ব্যবহার করা হবে। এ জন্য নিজেদের সিকিউর ডেভেলপমেন্ট লাইফসাইকেল (এসডিএল) নীতিমালা হালনাগাদ করছে মাইক্রোসফট। নতুন নীতিমালায় এআইনির্ভর সম্ভাব্য হামলার কৌশল বিবেচনায় রেখে নিরাপদ সফটওয়্যার তৈরির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ও সমাধানের মান যাচাই মানুষের হাতেই থাকবে। মাইক্রোসফট জানিয়েছে, ঝুঁকির মাত্রা মূল্যায়ন, প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নির্ধারণ এবং সমাধানের মান নিশ্চিত করবেন নিরাপত্তা প্রকৌশলীরাই। মাইক্রোসফটের উইন্ডোজ অ্যান্ড ডিভাইসেস বিভাগের সহসভাপতি পবন দাভুলুরি এক ব্লগ বার্তায় জানিয়েছেন, এআইনির্ভর সাইবার হামলার গতি বৃদ্ধি পাওয়ায় নিরাপত্তা ত্রুটি শনাক্তকরণ ও হালনাগাদ প্রকাশের গতিও বাড়ানো জরুরি হয়ে পড়েছে। এই কারণেই উইন্ডোজের নিরাপত্তাব্যবস্থায় এআইকে আরও বড় পরিসরে কাজে লাগানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সূত্র: জেডডিনেট।