বিশ্বের বৃহত্তম কফি চেইন প্রতিষ্ঠান স্টারবাকস কর্পোরেশন তাদের সফটওয়্যার ব্যয় কমানোর কৌশলের অংশ হিসেবে নিজস্ব কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) সমর্থিত টুল তৈরি করছে। কোম্পানিটি মাইক্রোসফট কর্পোরেশন ও ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস মেশিনস কর্পোরেশন (আইবিএম)-এর কাছ থেকে কেনা কিছু সফটওয়্যারের বিকল্প তৈরি করছে। ব্লুমবার্গ নিউজের নজরে আসা একটি অভ্যন্তরীণ উপস্থাপনা থেকে জানা যায়, স্টারবাকস মাইক্রোসফটের ইনভেন্টরি ট্র্যাকিং সিস্টেম এবং আইবিএম-এর একটি রক্ষণাবেক্ষণ ব্যবস্থাপনা টুলের প্রতিস্থাপন নিয়ে কাজ করছে। আগামী বছরের শেষ নাগাদ নিজস্ব এই সফটওয়্যারগুলোর কয়েকটি চালু হতে পারে, তবে তা পরীক্ষার ফলাফলের ওপর নির্ভর করবে।

দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসায়ীরা প্রযুক্তি বিক্রেতাদের ওপর নির্ভরশীল ছিল, কারণ নিজস্ব টুল তৈরি জটিল এবং ব্যবসায়িক কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার শঙ্কা ছিল। কিন্তু কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সেই ধারণা বদলে দিচ্ছে। এখন স্ক্র্যাচ থেকে অ্যাপ্লিকেশন তৈরি করা সহজ হচ্ছে এবং কোম্পানিগুলো তাদের কর্মীদের এই প্রযুক্তি ব্যবহার করতে উৎসাহিত করছে। বড় সফটওয়্যার কোম্পানিগুলোর জন্য এটি একটি বড় চ্যালেঞ্জ, কারণ তাদের নিজস্ব গ্রাহকরাই এখন এআই ব্যবহার করে প্রতিযোগিতামূলক পণ্য তৈরি করতে পারছে। এই ঘটনা চলতি বছর সফটওয়্যার শেয়ারের দামে প্রভাব ফেলেছে। গত বুধবার premarket ট্রেডিংয়ে মাইক্রোসফটের শেয়ার প্রায় দেড় শতাংশ এবং আইবিএমের শেয়ার ৪ শতাংশ কমেছে। উভয় কোম্পানিই এসএন্ডপি ৫০০-এর তুলনায় পিছিয়ে রয়েছে।

চলতি বছর একটি অভ্যন্তরীণ ফোরামে স্টারবাকসের প্রধান প্রযুক্তি কর্মকর্তা আনন্দ বরদারাজন কর্মীদের জানিয়েছেন, কোম্পানিটি কেবল সফটওয়্যারে বছরে প্রায় ৪০০ মিলিয়ন ডলার ব্যয় করে। তিনি একটি সভায় বলেন, “সফটওয়্যার ব্যয় কমানোর পরিষ্কার সুযোগ রয়েছে”। ব্লুমবার্গ নিউজের রেকর্ড করা ওই সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন। স্টারবাকস তাদের ব্যাপক পুনরুদ্ধার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে ২ বিলিয়ন ডলার খরচ কমানোর চেষ্টা করছে এবং নিজস্ব সফটওয়্যার তৈরি তুলনামূলকভাবে সস্তা হতে পারে। তবে দীর্ঘমেয়াদে নিজস্ব প্রযুক্তি তৈরি করলে রক্ষণাবেক্ষণ ও শ্রম ব্যয় বেড়ে যেতে পারে।

প্রযুক্তি খাতে স্টারবাকস প্রতিটি চুক্তি এবং পরিষেবা পুনর্বিবেচনা করছে। কিছু ক্ষেত্রে, যেসব সফটওয়্যারে তাদের প্রকৌশলীদের ব্যাপক পরিবর্তন করতে হয়, সেগুলোর পরিবর্তে নিজস্ব পণ্য তৈরি করছে তারা। বিষয়টির সাথে পরিচিত ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, স্টারবাকস কয়েক বছর ধরে ওরাকল সিম্ফনির বিকল্প হিসেবে নিজস্ব পয়েন্ট-অফ-সেল সিস্টেম তৈরিতে কাজ করছে। কোম্পানিটি এ বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। তবে চলতি বছরের একটি ব্লগ পোস্টে তারা জানিয়েছে, এআই ও অন্যান্য প্রযুক্তিগত অগ্রগতি তাদের দীর্ঘমেয়াদী প্রবৃদ্ধিকে সমর্থন করবে এবং বারিস্তাদের গ্রাহক সেবায় আরও মনোযোগ দিতে সহায়তা করবে। মাইক্রোসফট, আইবিএম ও ওরাকলের মুখপাত্ররা কোনো মন্তব্য করেননি।

অভ্যন্তরীণ উপস্থাপনা অনুযায়ী, আইবিএম টুলের বিকল্প প্ল্যাটফর্ম তৈরি করতে এআই-সহায়ক কোডিং গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। স্টারবাকস তাদের প্রযুক্তি কর্মীদের এআই ব্যবহারে উৎসাহিত করছে এবং ব্লুমবার্গ নিউজ জানিয়েছে, তারা কর্মীদের বোনাসের সাথেও এই প্রযুক্তি ব্যবহারের ব্যাপারটি যুক্ত করেছে। তবে এআই কত দ্রুত কাজকে গতিশীল ও স্বয়ংক্রিয় করতে পারে, সে সম্পর্কে সংশয় রয়েছে। সম্প্রতি প্রতিষ্ঠানটি তাদের দোকানের ইনভেন্টরি ট্র্যাকিংয়ের জন্য একটি এআই-চালিত সিস্টেম সরিয়ে নিয়েছে এবং ম্যানুয়াল গণনায় ফিরে গেছে। তারা এখনও মাইক্রোসফটের মতো তৃতীয় পক্ষের বিক্রেতাদের সফটওয়্যার ব্যবহার করে চলেছে।

উপস্থাপনায় আরও দেখা যায়, স্টারবাকসের এন্টারপ্রাইজ টেকনোলজি টিম সেপ্টেম্বরে শেষ হওয়া অর্থবছরে তাদের বাজেট প্রায় ৩০ মিলিয়ন ডলার কমানোর পথে রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ১০ মিলিয়ন ডলার সফটওয়্যার ব্যয় কাটছাঁট থেকে আসবে। আরও ১৩ মিলিয়ন ডলার সাশ্রয় হবে প্রফেশনাল সার্ভিস ফার্মগুলোর কন্ট্রাক্টর কমানো এবং কিছু পদ নিজস্ব কর্মী দিয়ে পূরণ করার মাধ্যমে। কোম্পানিটি ন্যাশভিল ও ভারতে অফিস খুলছে, যেখানে প্রযুক্তি কর্মীরা কাজ করবেন, বাকিরা থাকবেন সিয়াটল সদর দপ্তরে। গত বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে স্টারবাকস প্রায় ২,৩০০ চাকরি কেটেছে, যার মধ্যে অনেকগুলি প্রযুক্তি খাতে।

এই প্রতিবেদনটি মূলত ফরচুন ডটকম-এ প্রকাশিত হয়েছিল।