ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার আকটের চর ইউনিয়নে আকট বাজারসংলগ্ন একটি খালের ওপর দিয়ে নড়বড়ে একটি বাঁশের সাঁকো প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে পার হচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। আকট খাল নামে পরিচিত এই জলধারায় কোনো পাকা সেতু না থাকায় অন্তত তিন শ’ পরিবারের দেড় হাজারেরও বেশি মানুষ বছরের পর বছর ধরে ভোগান্তি সহ্য করছেন।

পদ্মা নদী থেকে উৎপত্তি হওয়া এই খাল প্রায় আট কিলোমিটার পথ প্রবাহিত হয়ে আড়িয়াল খাঁ নদে গিয়ে পড়েছে। এর গড় প্রস্থ প্রায় ১০০ মিটার। খালের ওপারের এলাকায় বসতি গড়ে ওঠে আড়াই দশক আগে। পরবর্তীকালে, ২০১২ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে বটতলা আদর্শ গ্রামে ৭৫টি ও গুচ্ছগ্রামে ১০০টি পরিবারকে সরকারি আশ্রয়ণ প্রকল্পের আওতায় পুনর্বাসিত করা হয়। ২০২৪ সালে আরও ৬০টি ঘর নির্মাণ করা হলেও স্থায়ী সেতু না থাকা ও অন্যান্য ভোগান্তির জেরে বর্তমানে বেশির ভাগ বাসস্থান পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে।

গত ১৮ জুলাই সরেজমিনে দেখা যায়, খালের ওপরের বাঁশনির্মিত জরাজীর্ণ সাঁকোটিই একমাত্র মাধ্যম হিসেবে কাজ করছে। স্থানীয়দের সাথে আলাপে জানা যায়, তিনটি আশ্রয়ণ প্রকল্প ও আশপাশের এলাকার বাসীন্দাদের নিয়মিত উপজেলা সদরে যাতায়াত করতে হয়। স্কুল, মাদ্রাসা বা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে পৌঁছতে এই সাঁকো পার হওয়া বাধ্যতামূলক। গুচ্ছগ্রামের বাসিন্দা কাকলী আক্তার জানান, এ অঞ্চলের কমপক্ষে অর্ধশত শিক্ষার্থী আকট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও আকটের চর সাগর চন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করে। বর্ষাকালে সাঁকোটির অবস্থা আরও বিপজ্জনক হয়ে ওঠে, ফলে প্রায়ই শিক্ষার্থীদেরা বিদ্যালয়ে যেতে ব্যর্থ হয়। বহুবার সেতু নির্মাণের দাবি জানানো হলেও কোনো প্রশাসনিক উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়নি।

বটতলা আশ্রয়ণ প্রকল্পের আরেক বাসিন্দা কোহিনূর বেগম তুলে ধরেন স্বাস্থ্যসেবার চ্যালেঞ্জ। তাঁর মতে, কারও অসুস্থ হলে বা কোনো প্রসূতিকে হাসপাতালে নেওয়ার সময় চরম বিপাকে পড়তে হয়। দূরত্বের কারণে আকট বাজার থেকে সদরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স প্রায় আট কিলোমিটার দূরের পথ। শারদীয় মৌসুমে পদ্মার চরে কাশফুলের সমারোহে পর্যটকদের ভিড় বাড়ে। তখন বাঁশের সাঁকোটি খুলে রেখে খেয়া নৌকার ব্যবস্থা করা হয়, যার ফলে স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রতি বার পারাপারে অতিরিক্ত ভাড়া বহন করতে হয়।

স্থানীয় ইউপি সদস্য আনোয়ার ব্যাপারী দুর্ভোগের বিষয়টি বহুবার উত্থাপিত করার কথা উল্লেখ করলেও কোনো অগ্রগতি হয়নি বলে হতাশা প্রকাশ করেন। আকটের চর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আসলাম ব্যাপারী জানান, পাঁচ বছর ধরে নিজের আর্থিক অর্থায়নে বাঁশের সাঁকোটি মেরামত করে আসছেন, যা বর্তমানে অত্যন্ত জীর্ণ। উপজেলা উন্নয়ন সমন্বয় সভায় একাধিকবার স্থায়ী সেতুর জন্য আবেদন করা হলেও কোনো প্রকল্প অনুমোদিত হয়নি। এ প্রসঙ্গে উপজেলা প্রকৌশলী আবুল কালাম আজাদ বলেন, পাকা সেতুর অভাবে জনজীবনে যে ভোগান্তি হচ্ছে তা তার জানা ছিল না। তিনি দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শনপূর্বক এ বিষয়ে উদ্যোগ গ্রহণের কথা জানিয়েছেন। এলাকাবাসীর জোর দাবি, দ্রুত একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণ করে এই দীর্ঘস্থায়ী দুর্ভোগের স্থায়ী অবসান ঘটাতে হবে এবং শিক্ষা, চিকিৎসা ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি নিশ্চিত করতে হবে।