ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের সরকার আর্জেন্টিনা ফুটবল দলের বিশ্বকাপ জয় উদযাপনের সময় প্রদর্শিত একটি ব্যানার নিয়ে 'হতাশা কিন্তু বিস্ময় নয়' বলে মন্তব্য করেছে। ম্যাচ শেষে আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়রা 'লাস মালভিনাস সন আর্জেন্টিনাস'—যার অর্থ 'ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ আর্জেন্টিনার'—লেখা একটি ব্যানার ধরে রাখেন, যা যুক্তরাজ্যের সঙ্গে দীর্ঘদিনের ভৌগোলিক বিরোধের বিষয়। ফকল্যান্ড সরকার বিবৃতিতে আশা প্রকাশ করে যে ফিফা 'নিজস্ব নিয়ম অনুযায়ী এই ধরনের আচরণের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে' এবং ক্রীড়াঙ্গনে রাজনীতি আনা উচিত নয় বলে জানায়। তাদের বক্তব্য, 'আমরা চাই না দ্বীপপুঞ্জ ও তাদের মানুষকে ইংল্যান্ড-আর্জেন্টিনা প্রতিটি আলোচনায় রাজনৈতিক ফুটবলে পরিণত করা হোক।'
ডাউনিং স্ট্রিট ফিফার কাছে এই ঘটনা তদন্তের দাবি সমর্থন করেছে। প্রধানমন্ত্রীর সরকারি মুখপাত্র বলেন, 'বিশ্বকাপ আমাদের না হলেও ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ নিশ্চিতভাবেই আমাদের। ফকল্যান্ডের প্রতি আমাদের অঙ্গীকার কখনো দুর্বল হবে না।' তিনি আরও যোগ করেন যে ব্যানার প্রদর্শনকারী খেলোয়াড়দের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য কোনো ব্যবস্থা ফিফার বিষয়, তবে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থার উচিত এ বিষয়ে তদন্ত করা। ব্যবসা সচিব পিটার কাইলও একই মত প্রকাশ করেছেন।
অন্যদিকে, হোয়াইট হাউসের ফিফা টাস্ক ফোর্সের প্রধান অ্যান্ড্রু গিউলিয়ানি শুক্রবার সাংবাদিকদের বলেন, দলের 'এই বিবৃতি দেওয়ার সুযোগ ও ক্ষমতা' মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে রয়েছে। তিনি মার্কিন সংবিধানের প্রথম সংশোধনীর বাকস্বাধীনতার অধিকারের কথা উল্লেখ করে বলেন, 'আমরা যুক্তরাষ্ট্রে আমাদের প্রথম সংশোধনীর অধিকারে বিশ্বাস করি।' এই মন্তব্য ঘটনাকে ঘিরে বিতর্ক আরও উসকে দিতে পারে, কারণ এর আগে ডাউনিং স্ট্রিট ফিফার তদন্তের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিল।
বুধবারের সেমিফাইনাল ম্যাচের পর আর্জেন্টিনার ভাইস প্রেসিডেন্ট ভিক্টোরিয়া ভিলারুয়েল এক্সে পোস্ট করেন যে 'এটি আর একটি সাধারণ ম্যাচ ছিল না' এবং আর্জেন্টাইন সেনাদের মতো দেখতে একটি ভিডিও সংযুক্ত করেন। তিনি লেখেন, 'ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ আর্জেন্টিনার। তারা স্টেডিয়ামে ব্যানার আনা নিষেধ করেছিল, কিন্তু ভুলে গিয়েছিল যে আমরা আমাদের রক্তে ও হৃদয়ে এটি বহন করি।'
প্রসঙ্গত, ১৯৮২ সালে ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে ব্রিটেন ও আর্জেন্টিনার মধ্যে একটি সংক্ষিপ্ত কিন্তু তিক্ত যুদ্ধ সংঘটিত হয়। একটি ব্রিটিশ সামরিক টাস্ক ফোর্স ফকল্যান্ডে অবতরণকারী আর্জেন্টাইন বাহিনীকে বিতাড়িত করে। ৭৪ দিনের এই সংঘাতে ২৫৫ জন ব্রিটিশ সামরিক সদস্য, তিনজন দ্বীপবাসী ও ৬৪৯ জন আর্জেন্টাইন সেনা নিহত হন।
২০১৩ সালে অনুষ্ঠিত গণভোটে ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের মানুষ বিপুল ভোটে যুক্তরাজ্যের অধীনস্থ অঞ্চল হিসেবে থাকার পক্ষে মত দেয়। ৯০ শতাংশের বেশি ভোটারের উপস্থিতিতে ১,৫১৭টি ভোটের মধ্যে ১,৫১৩টি পক্ষে এবং মাত্র তিনটি বিপক্ষে পড়ে।
আর্জেন্টিনা দল তাদের শেষ ষোলোর ম্যাচে মিশরের বিপক্ষে নাটকীয় ৩-২ জয়ের পরও ফকল্যান্ড ও দিয়েগো ম্যারাডোনা এবং লিওনেল মেসির নামে স্লোগান দেয় বলে জানা গেছে। ফিফা রাজনৈতিক বিবৃতি সংক্রান্ত নিয়ম লঙ্ঘনের অভিযোগে আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে পারে।

