জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বিপন্ন প্রাণীদের বাঁচাতে যৌথভাবে ২০০ মিলিয়ন ডলারের একটি বিশাল উদ্যোগ চালু করেছেন হলিউড অভিনেতা লিওনার্দো ডিক্যাপ্রিও ও অ্যামাজনের প্রতিষ্ঠাতা জেফ বেজোস। ডিক্যাপ্রিওর সংগঠন ‘রি:ওয়াইল্ড’ এবং বেজোসের ‘আর্থ ফান্ড’ মিলে ‘ফিনিক্স স্পিসিজ প্রজেক্ট’ নামের এই প্রকল্প চালু করেছে, যা বিপন্ন প্রজাতির পুনরুদ্ধারে নিবেদিত ইতিহাসের সবচেয়ে বড় একক তহবিল বলে দাবি করা হচ্ছে।

২০২১ সালে ডিক্যাপ্রিও এবং রি:ওয়াইল্ডের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও জীববিজ্ঞানী ওয়েস সেক্রেস্টের সঙ্গে বেজোস ও তাঁর স্ত্রী লরেন সানচেজ বেজোসের সাক্ষাৎ হয়। বেজোস আর্থ ফান্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন এবং লরেন ভাইস চেয়ার। এই বৈঠকের পর স্থানীয় সরকার, পরিবেশবাদী গোষ্ঠী এবং আদিবাসী জনগোষ্ঠীর সঙ্গে কীভাবে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ প্রজাতির পতন রোধ করা যায়—তা নিয়ে একাধিক আলোচনা হয়। সেই আলোচনার ফলস্বরূপ ফিনিক্স স্পিসিজ প্রজেক্টের জন্ম।

এই উদ্যোগের আওতায় যে প্রাণীগুলোকে রক্ষা করার চেষ্টা করা হবে সেগুলোর মধ্যে রয়েছে: মাদাগাস্কারের গোল্ডেন-ক্রাউন্ড সিফাকা লেমুর; নর্থ ক্যারোলিনার হিকরি নাট গর্জ গ্রিন স্যালামান্ডার (যা ফুসফুসবিহীন ও শুধুমাত্র একটি ছোট ক্যানিয়নে বাস করে); ফিলিপাইনের ভিসায়ান ওয়ার্টি পিগ; মেক্সিকোর কোজুমেল হার্ভেস্ট মাউস (যা শুধু ইউকাটান উপদ্বীপের একটি দ্বীপে পাওয়া যায়); গ্যালাপাগোস দ্বীপপুঞ্জের উলফ আগ্নেয়গিরির পিঙ্ক ল্যান্ড ইগুয়ানা; দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মালয়ান প্যাঙ্গোলিন বা সুন্ডা প্যাঙ্গোলিন; তানজানিয়ার প্যানকেক কচ্ছপ (যার চ্যাপ্টা ও নমনীয় খোলসের জন্য নামকরণ); কলম্বিয়ার পাহাড়ে পাওয়া স্টারি নাইট হারলেকুইন টোড; এবং নিউ গিনির অ্যাটেনবরোর লং-বিকড ইকিডনা (একটি মনোট্রিম বা স্তন্যপায়ী প্রাণী যা ডিম পাড়ে এবং যার নামকরণ করা হয়েছে শতবর্ষী প্রকৃতিবিদ ডেভিড অ্যাটেনবরোর সম্মানে)।

প্রকল্পটির লক্ষ্য ছোট ছোট কিন্তু সফল সংরক্ষণ প্রচেষ্টাগুলোকে দীর্ঘমেয়াদী সহায়তা দেওয়া। অ্যাসোসিয়েশন ফানাম্বির নির্বাহী পরিচালক তিয়ানা আন্দ্রিয়ামানানা এক বিবৃতিতে বলেন, “আমরা বছরের পর বছর ধরে গোল্ডেন-ক্রাউন্ড সিফাকাকে বাঁচানোর চেষ্টা করেছি একটি বাজেটে যা এই প্রজাতির প্রাপ্যতার কাছাকাছিও ছিল না, কিন্তু এটিকে বিলুপ্ত হতে দেওয়া কখনোই বিকল্প ছিল না। এই তহবিল, এই বৈশ্বিক প্ল্যাটফর্ম ও প্রযুক্তিগত সহায়তা যা সম্ভব তা বদলে দেয়।”