রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকায় মার্শাল আর্টের আড়ালে উগ্রবাদী তৎপরতা চালানোর অভিযোগে গ্রেপ্তার সাত ব্যক্তির তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। রোববার ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মনিরুল ইসলামের আদালত এই আদেশ দেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন জানিয়েছেন, সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় পুলিশ সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করলেও আদালত তিন দিন মঞ্জুর করেন।
শুনানির সময় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আদালতকে বলেন, আসামিরা দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছিলেন। তারা ধর্ম ও মার্শাল আর্টের আড়ালে উগ্রবাদী কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিলেন এবং খেলাফত প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কাজ করছিলেন। এসব আসামি অল্প বয়সী হওয়ায় তারা কার দ্বারা প্রভাবিত হয়েছে তা জানতে রিমান্ড জরুরি বলে দাবি করেন আইনজীবী। অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী সাদ্দাম হোসেন ও রিয়াজ উদ্দিন রিমান্ড আবেদন বাতিল চেয়ে জামিনের আবেদন জানান। তাদের বক্তব্য, আসামিরা নির্দোষ এবং তাদের বিরুদ্ধে উগ্রবাদী বা জঙ্গি সংশ্লিষ্টতার কোনো প্রমাণ নেই। তারা শুধুমাত্র আত্মরক্ষার জন্য মার্শাল আর্ট শেখাতেন।
পুলিশের রিমান্ড আবেদন ও মামলার নথি থেকে জানা যায়, গত ৫ জুলাই যাত্রাবাড়ীর মিনি কক্সবাজার এলাকার একটি বালুর মাঠে অভিযান চালিয়ে ছয়জনকে আটক করা হয়। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন শাহ আমানত সাবির, মো. হোসাইন তানিম, মো. জুনায়েদ, আতাউল্লাহ শাহ, মো. আবিদুর রহমান ও মো. বায়োজিত। জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে যশোর থেকে মো. তাহসীন ইসলাম ওরফে সুলতান ওরফে মুসান্নাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে যাত্রাবাড়ী থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইন, ২০০৯ (সংশোধিত ২০১৩)-এর ৬, ৭, ১০, ১১, ১২ ও ১৩ ধারায় মামলা দায়ের করেন থানার উপপরিদর্শক (এসআই) এবি সিদ্দিকী।
এর আগে দুই দফায় ছয় দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছিল সাবির ও তানিমকে। সর্বশেষ গ্রেপ্তার তাহসীনকে প্রথম দফায় রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে, বাকি আসামিরা প্রথম দফার রিমান্ড শেষে কারাগারে ছিলেন। পুলিশের আবেদনে বলা হয়, জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা 'সাবির ভাইয়ের জামাত' নামে একটি সংগঠনের কথা জানিয়েছেন। 'ফাতাহ কমব্যাট সিস্টেম' নামে একটি ফেসবুক পেজের মাধ্যমে মার্শাল আর্ট শেখানোর আড়ালে সদস্য সংগ্রহ ও উগ্রবাদী কার্যক্রম পরিচালনা করা হতো। সদস্যরা ফেসবুক, মেসেঞ্জার, হোয়াটসঅ্যাপ ও টেলিগ্রাম ব্যবহার করে ছদ্মনামে যোগাযোগ রাখতেন। পুলিশের দাবি, তাহসীন ইসলামের কাছে সংগঠনের অন্যান্য সদস্য, তাদের যোগাযোগব্যবস্থা ও কার্যক্রম সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য রয়েছে। পলাতক সদস্যদের শনাক্তের জন্য তাকে জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন বলে জানায় পুলিশ। শুনানি শেষে আদালত তাহসীনসহ সবার তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

