বিশ্বের বৃহত্তম ব্যাংকের শীর্ষ নির্বাহী জেমি ডাইমন তার দীর্ঘ পেশাদার জীবনের পরবর্তী অধ্যায় সম্পর্কে ইঙ্গিত দিয়েছেন। ৭০ বছর বয়সী এই ব্যাংকিং জায়ান্ট জানিয়েছেন, তিনি সিইও পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর পর বিভিন্ন ক্ষেত্রে সক্রিয় থাকতে চান। সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে তিনি অ্যাক্সিওসকে বলেন, তার ইচ্ছা পছন্দের মানুষের সঙ্গে ব্যবসা চালিয়ে যাওয়া। তিনি সম্ভবত একটি বই লিখবেন, যেখানে ব্যবস্থাপনা ও আর্থিক সংকট নিয়ে আলোচনা থাকবে। তার মতে, ২০০৮ সালের আর্থিক সংকটের অনেক দিক এখনও মানুষ পুরোপুরি উপলব্ধি করতে পারেনি। শিক্ষকতার প্রতিও তার আগ্রহ রয়েছে, যা শিল্পের অভিজ্ঞ নেতাদের জন্য একটি জনপ্রিয় পথ। প্রাক্তন জেনারেল ইলেকট্রিকের সিইও জেফ ইমেল্টও স্ট্যানফোর্ডের ব্যবসায়িক স্কুলে লেকচারার হিসেবে কাজ করেছেন। এছাড়াও, ডাইমন মিডিয়াভিত্তিক কোনো কাজের কথাও ভাবছেন। তিনি বলেন, তাকে কিছু না কিছু করতেই হবে, তিনি নিষ্ক্রিয় হয়ে বসে থাকতে চান না। জেপি মরগান চেজ এই বিষয়ে আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি।

ডাইমন প্রায় দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে বিশ্বের সর্বোচ্চ বাজার মূলধনের ব্যাংকটির নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তিনি ২০০৮ সালের আর্থিক সংকট, যুগান্তকারী অধিগ্রহণ এবং রেকর্ড মুনাফার সময়কালে ব্যাংকটিকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। সিইও হিসেবে সিইও পদত্যাগের স্বাভাবিক বয়স ৬৩ বছর পেরিয়ে গেলেও তিনি এখনও দায়িত্বে রয়েছেন। তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, আগামী তিন বছরের মধ্যে তিনি প্রধান নির্বাহীর পদ থেকে সরে দাঁড়াতে পারেন। তবে তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, তিনি অবসরকে ঐতিহ্যগত অর্থে দেখেন না। তিনি বই লিখতে, শিক্ষকতা করতে এবং সন্তানদের সঙ্গে কাজ করতে চান, যদি তারা চায়। তিনি সম্ভাব্য চেয়ারম্যান হিসেবে থাকার কথাও বলেছেন, তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বোর্ডের হাতে।

ডাইমনের উত্তরসূরি নির্ধারণের প্রতিযোগিতাও এখন স্পষ্ট হচ্ছে। সম্প্রতি ব্যাংকটির কনজিউমার অ্যান্ড কমিউনিটি ব্যাংকিং বিভাগের সিইও ম্যারিয়ান লেক ব্যাংক ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছেন, যা সম্ভাব্য উত্তরসূরিদের তালিকা থেকে একজনকে বাদ দিয়েছে। অপর অভ্যন্তরীণ প্রার্থী জেনিফার পিপস্যাকও এই পদে আগ্রহী নন বলে জানিয়েছেন। এখন শীর্ষ প্রার্থী হিসেবে ব্যাংকটির কো-প্রেসিডেন্ট ডগ পেটনো এবং ট্রয় রোহরবাউ এর নাম উঠে এসেছে।

অন্যান্য সিইওরাও অবসরকে নিষ্ক্রিয় সময় হিসেবে দেখেন না। মাইক্রোসফটের প্রাক্তন সিইও স্টিভ বালমার ২০১৪ সালে পদত্যাগের পর ক্রীড়া ও অন্যান্য উদ্যোগে জড়িয়ে পড়েন। তিনি লস অ্যাঞ্জেলেস ক্লিপার্স কিনেছিলেন, যা এখন ৭.৫ বিলিয়ন ডলার মূল্যের। এছাড়াও তিনি ইউএসএ ফ্যাক্টস প্রতিষ্ঠা করেন এবং স্ট্যানফোর্ড ও ইউএসসি-তে শিক্ষকতা করেন। পেপসিকোর প্রাক্তন সিইও ইন্দ্রা নুই ২০১৯ সালে পদত্যাগের পর অ্যামাজনের বোর্ডে এবং ডাচ স্বাস্থ্য কোম্পানি রয়্যাল ফিলিপসের তত্ত্বাবধায়ক বোর্ডে কাজ করছেন। তিনি শিল্প ও বিজ্ঞানের পৃষ্ঠপোষক এবং তার বই 'মাই লাইফ ইন ফুল' প্রকাশ করেছেন। স্টারবাকসের প্রাক্তন তিনবারের সিইও হাওয়ার্ড শুল্টজ ৭২ বছর বয়সেও দাতব্য, লেখালেখি এবং ভেঞ্চার ক্যাপিটালে সক্রিয়। তিনি শুল্টজ ফ্যামিলি ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠা করেছেন এবং ম্যাভেরন নামক ভিসি ফার্মের অংশীদার। তিনি ব্যবসা নিয়ে চারটি বই লিখেছেন।