ক্রিস্টোফার নোলানের মহাকাব্যিক চলচ্চিত্র ‘দি ওডিসি’ আগামী ১৭ জুলাই, ২০২৬-এ বিশ্বব্যাপী প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেতে চলেছে। হোমারের প্রাচীন গ্রিক মহাকাব্যের এই নতুন রূপান্তরের শুটিং হয়েছে পেলোপোনিজের বিভিন্ন স্থানে। ফলে এই অঞ্চলের প্রতি পর্যটকদের আগ্রহ আরও বেড়ে যাবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। শুধু শুটিং লোকেশনে ছবি তোলার বাইরেও একটি গভীর ও অর্থপূর্ণ ভ্রমণ অভিজ্ঞতা গড়ে তোলার উপায় নিয়ে আলোচনা করেছেন কয়েকজন ভ্রমণ বিশেষজ্ঞ।

পেলোপোনিজের দক্ষিণ-পশ্চিম কোণে অবস্থিত মেসিনিয়া অঞ্চলেই কেন্দ্রীভূত রয়েছে বেশিরভাগ শুটিং লোকেশন—পাইলোস, ভয়েডোকিলিয়া সৈকত, নেস্টরের গুহা এবং মেথনি দুর্গ। বিএনবিস্টে-এর প্রতিষ্ঠাতা ইয়াহিয়া দাউদ বলেন, “মেসিনিয়া সবসময়ই গ্রিসের সবচেয়ে গোপন রত্ন হিসেবে বিবেচিত হতো, কিন্তু নোলান এখানে ‘দি ওডিসি’র শুটিং করার পর তা খুব দ্রুত বদলে যাচ্ছে।” তিনি জানান, ভয়েডোকিলিয়া সৈকত ও মেথনি দুর্গে পর্যটকদের ভিড় হবে বলেই ধারণা, তবে গিয়ালোভার আলমিরোলাক্কাস সৈকতটিও একটি শুটিং লোকেশন, যা অনেকেই জানেন না।

পেলোপোনিজ অঞ্চলের পর্যটনের উপ-আঞ্চলিক গভর্নর থানোস মিশেলনগোনাসের মতে, “পেলোপোনিজের প্রকৃত মোহনীয়তা তার সবচেয়ে বিখ্যাত স্থানগুলোর বাইরেও ছড়িয়ে রয়েছে।” তিনি বলেন, পর্যটকরা আরকাডিয়ার পার্বত্য অঞ্চলে হাইকিং করতে পারেন, মানির পাথরনির্মিত গ্রামগুলো ঘুরে দেখতে পারেন, নেমিয়ায় পারিবারিক মালিকানাধীন ওয়াইনারি আবিষ্কার করতে পারেন, মেসিনিয়ায় অলিভ অয়েল উৎপাদন প্রক্রিয়া প্রত্যক্ষ করতে পারেন এবং বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী গ্রাম ভ্রমণ করতে পারেন। তার ভাষ্য, আন্তর্জাতিক ও দেশীয় পর্যটক এবং স্থানীয়রা একই সরাইখানা ও রেস্তোরাঁয় আসে বলে “দর্শনার্থীর অভিজ্ঞতা এবং স্থানীয় জীবন একীভূত হয়ে যায়।”

রেসপনসিবল ট্রাভেল-এর জ্যেষ্ঠ লেখক ও পারিবারিক ভ্রমণ বিশেষজ্ঞ সারা ফেইথ মনে করেন, “পেলোপোনিজে আপনি গ্রিক সংস্কৃতির সঙ্গে সত্যিকারের এবং অকৃত্রিমভাবে সংযুক্ত হতে পারেন।” তিনি জানান, এই অঞ্চল থেকে তাদের পরিবার-বান্ধব সেরা কিছু পর্যালোচনা এসেছে, যেখানে শিশুরা জনমানবহীন দ্বীপের চারপাশে স্নরকেলিং, কালামাটা উপসাগরে সি কায়াকিং এবং লুসিয়োস গিরিখাতে হাইকিং উপভোগ করেছে।

স্থানীয় জীবনের সঙ্গে সম্পৃক্ততার ওপর জোর দিয়ে ভিবিটি | কান্ট্রি ওয়াকার্স-এর ট্রিপ ডিজাইনার কেভিন উইল্কস বলেন, সাইকেল চালিয়ে এই উপদ্বীপ ঘুরে দেখার পরামর্শ দেন তিনি, কারণ এতে পর্যটকরা কাছ থেকে ও ধীরগতিতে এলাকাটি অনুভব করতে পারেন। অ্যান্ডান্টে ট্রাভেলস-এর প্রধান পণ্য ও কার্যক্রম কর্মকর্তা মেরি রেনল্ডস জানান, ইথোমি পর্বতের ঢালে অবস্থিত মেসিনি গ্রিসের সবচেয়ে ভালো সংরক্ষিত প্রাচীন শহরগুলোর একটি। এর বিশাল থিয়েটার, ডোরিক অভয়ারণ্য, স্টেডিয়াম এবং মাইলব্যাপী দুর্গ প্রাচীর দর্শনার্থীদের “অবিশ্বাস্যভাবে বিস্মিত করে,” কারণ এত চিত্তাকর্ষক ও জাঁকজমকপূর্ণ একটি স্থান অত্যন্ত অল্প ভিড়ের মধ্যে উপভোগ করা যায়।

বিলাসবহুল থাকার ব্যবস্থা ও সম্প্রদায়-চালিত অভিজ্ঞতার সমন্বয়ের জন্য জ্যাকাডা ট্রাভেল-এর জ্যেষ্ঠ ইউরোপ ডিজাইনার জেমস ওয়াকেলিন আরকাডিয়ার আরকাডিয়ানা গ্রামে যাওয়ার পরামর্শ দেন, যা সাতজন স্থানীয় বাসিন্দার মালিকানাধীন। সেখানে রুটি বেকিং, জ্যাম তৈরি এবং বাগান থেকে টেবিল পর্যন্ত রান্নার মতো হাতে-কলমে কর্মশালার মাধ্যমে পর্যটন ব্যয় সরাসরি গ্রামে পৌঁছে যায়। এছাড়া জলপাই সংগ্রহ, অলিভ মিলিং, জৈব খামার পরিদর্শন ও মৌমাছি পালনের কর্মশালাও স্থানীয় সংস্কৃতির অংশ হওয়ার সুযোগ দেয়।

ভিড় এড়াতে ওয়াকেলিন উপকূলীয় এলাকায় বিকেল বা সূর্যাস্তের সময় যাওয়ার এবং বনাঞ্চলীয় পাহাড়ে হাইকিং, বন্য খাবার সংগ্রহ ও ট্রাফল শিকারের জন্য পরিকল্পনা ভাগ করার পরামর্শ দেন। মিশেলনগোনাস জানান, এই অঞ্চলে ১৫০০ কিলোমিটার উপকূলরেখা থাকলেও ৭৫ শতাংশ এলাকা পার্বত্য। ফলে হাইকিং, আরোহণ ও প্রকৃতিভিত্তিক ভ্রমণ গত এক দশকে বেড়েছে, বিশেষ করে এথেন্সের পর্যটকদের মধ্যে।

সময় নির্বাচনও গুরুত্বপূর্ণ। দাউদ জুলাই ও আগস্ট মাসে ভয়েডোকিলিয়া সৈকত এড়িয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন, কারণ তখন সেখানে “বালিতে জায়গার জন্য লড়াই” করতে হয় এবং প্রবেশপথটি “দুটি গাড়ির জন্যও যথেষ্ট চওড়া নয়।” তিনি গ্রীষ্মকালে সকাল ৯টার আগে বা সন্ধ্যা ৫টার পরে যেতে বলেন, অথবা মে, জুন ও সেপ্টেম্বর মাসে আসতে বলেন। উইল্কস এপ্রিল, মে, অক্টোবর ও নভেম্বর মাসকে সেরা সময় হিসেবে চিহ্নিত করেন। ফেইথ পরিবারের জন্য মে মাসের অর্ধ-বার্ষিক ছুটির সময়কে আদর্শ মনে করেন, যখন আবহাওয়া উষ্ণ কিন্তু গ্রীষ্মের তীব্র গরম আসেনি।

পেলোপোনিজে পৌঁছানো তুলনামূলক সহজ, তবে এলাকাটি গাড়ি চালিয়ে ঘুরে দেখাই উত্তম। বেশিরভাগ পর্যটক কালামাটা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও এথেন্স আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আসেন। এথেন্স থেকে শুরু করে পথে অ্যাক্রোকোরিন্থ—আরেকটি শুটিং লোকেশন—এবং মাইসিনি, এপিডাউরাস বা নাফপ্লিওর মতো পূর্ব পেলোপোনিজের স্থানগুলো ঘুরে দেখা যায়। মেসিনিয়ার সরাসরি প্রবেশদ্বার হলো কালামাটা বিমানবন্দর।