আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) তাদের ইকোনমিক আউটলুক আপডেটের জুলাই ২০২৬ সংস্করণে বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য মিশ্র পূর্বাভাস দিয়েছে। বুধবার প্রকাশিত এই প্রতিবেদনে ২০২৬ সালে বিশ্ব অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি ৩ শতাংশে স্থির থাকার কথা বলা হয়েছে, আগামী বছর তা কিছুটা বেড়ে ৩ দশমিক ৪ শতাংশ হতে পারে। গত এপ্রিলের পূর্বাভাসের তুলনায় সামগ্রিকভাবে বড় কোনো পরিবর্তন দেখা যায়নি।

প্রতিবেদনে মূলত মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধকে প্রবৃদ্ধির ধীরগতির প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। তবে আইএমএফ মনে করছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) মতো প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতি ও ব্যবহার বৃদ্ধি পাওয়ায় বৈশ্বিক প্রযুক্তি খাতে একটি শক্তিশালী চাহিদানির্ভর গতি তৈরি হয়েছে, যা যুদ্ধজনিত নেতিবাচক প্রভাবের কিছুটা ভারসাম্য রাখছে। কোন দেশের অর্থনীতি কেমন প্রভাবিত হবে, তা মূলত যুদ্ধের সঙ্গে তাদের সম্পৃক্ততা এবং বৈশ্বিক প্রযুক্তি মূল্যশৃঙ্খলে তাদের অবস্থানের ওপর নির্ভর করছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

যুদ্ধের বাইরে থাকা জ্বালানি রপ্তানিকারক দেশগুলো বর্তমানে অনুকূল বাণিজ্য শর্ত থেকে লাভবান হচ্ছে। অন্যদিকে, প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতির দেশগুলো—এমনকি তারা জ্বালানি আমদানিকারক হলেও—তুলনামূলকভাবে শক্তিশালী অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সুবিধা পাচ্ছে। তবে যেসব দেশ জ্বালানি আমদানির ওপর অত্যন্ত নির্ভরশীল এবং বৈশ্বিক প্রযুক্তি মূল্যশৃঙ্খলে তাদের অংশগ্রহণ সীমিত, সেসব দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড দুর্বল হয়ে পড়ছে। আইএমএফের মতে, নিম্ন আয়ের অনেক দেশই এই শ্রেণির মধ্যে পড়ে।

মূল্যস্ফীতি প্রসঙ্গে আইএমএফ জানিয়েছে, বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতি ২০২৫ সালে ৪ দশমিক ১ শতাংশ থেকে বেড়ে ২০২৬ সালে ৪ দশমিক ৭ শতাংশে পৌঁছাতে পারে। ২০২৭ সালে তা কিছুটা কমে ৩ দশমিক ৯ শতাংশে নামার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এপ্রিলের পূর্বাভাসের তুলনায় মূল্যস্ফীতির এই হার বাড়ানো হয়েছে, যা ইঙ্গিত দেয় যে ২০২৪ সালের শুরু থেকে চলা মূল্যস্ফীতি হ্রাসের ধারা আপাতত থেমে গেছে।

ভবিষ্যৎ সম্পর্কে আইএমএফ সতর্ক করে বলেছে, সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হলো মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত আবারও তীব্র হওয়া। এতে জ্বালানি ও অন্যান্য পণ্যের দামে অস্থিরতা দীর্ঘায়িত হতে পারে, বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থা আরও ব্যাহত হতে পারে এবং মূল্যস্ফীতি বেড়ে আর্থিক পরিস্থিতি কঠোর হতে পারে। তবে ইতিবাচক সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেয়নি সংস্থাটি। জ্বালানি বাজার প্রত্যাশার চেয়ে দ্রুত স্বাভাবিক হলে, প্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগ আরও বাড়লে, বাণিজ্য বাধা কমাতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদার হলে এবং কাঠামোগত সংস্কার বাস্তবায়িত হলে বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি প্রত্যাশার চেয়েও ভালো হতে পারে বলে মত আইএমএফের।

দেশভিত্তিক পূর্বাভাসে দেখা গেছে, ২০২৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বেড়ে ২ দশমিক ৩ শতাংশ হবে, যা ২০২৫ সালে ছিল ২ দশমিক ১ শতাংশ। অন্যদিকে, চীন ও ভারতের প্রবৃদ্ধির হার কিছুটা কমতে পারে। চীনের প্রবৃদ্ধি ৪ দশমিক ৬ শতাংশ এবং ভারতের ৬ দশমিক ৪ শতাংশ হতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে আইএমএফ।