গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার বোনারপাড়া সরকারি কাজী আজহার আলী মডেল উচ্চবিদ্যালয় মাঠে আজ সোমবার দুপুরে জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত এক জনসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে দলের আমির শফিকুর রহমান এ কথা বলেন। সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির ও গাইবান্ধা-৫ (সাঘাটা ও ফুলছড়ি) আসনের সংসদ সদস্য আবদুল ওয়ারেছ।

বক্তব্যের শুরুতেই বিএনপির প্রতি ইঙ্গিত করে শফিকুর রহমান বলেন, চাঁদাবাজ ও দুর্নীতিবাজদের হাত বন্ধ করে ন্যায়-ইনসাফভিত্তিক বাংলাদেশ গড়তে চান তারা, যেখানে সবার জন্য সমান অধিকার থাকবে। এ লক্ষ্যেই গণভোট হয়েছিল বলে মন্তব্য করেন তিনি। সরকারের দিকেও তির্যক ইঙ্গিত করে জামায়াত আমির বলেন, সরকারে যাঁরা আছেন, তাঁরাও আগে ‘হ্যাঁ’ ভোটে রায় দেওয়ার কথা বলেছিলেন, কিন্তু এখন তাঁরা ‘না’ হয়ে গেছেন, অথচ আমরা ‘হ্যাঁ’র ওপরই আছি।

জনগণের রায় অমান্য করার পরিণতি সম্পর্কে সতর্ক করে শফিকুর রহমান বলেন, অতীতে জনতার রায়কে অগ্রাহ্য করে কেউ টিকতে পারেনি, শান্তি বা সম্মান পায়নি, ক্ষমতাও পাকাপোক্ত করতে পারেনি। ১৪, ১৮, ২৪ সালের নির্বাচনই এর প্রমাণ বলে উল্লেখ করেন তিনি। সরকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, জনগণের রায় মেনে নিয়ে ফ্যাসিবাদের পথ বন্ধ করে সংস্কার সাধন করুন এবং মানবিক ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গঠনের পথ খুলে দিন। বিরোধী দল হিসেবে সরকারকে সর্বাত্মক সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।

বর্তমান সরকারের পথ সম্পর্কে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রসঙ্গ টেনে জামায়াত আমির বলেন, যে পথে সরকার এখন হাঁটছে, সেটি পালানোর পথ। শেখ হাসিনাও আগে বলতেন তিনি পালাবেন না, কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাঁকে পালাতে হয়েছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, এই পথে হাঁটলে মক্কা বা দিল্লি কোনো জায়গাতেই যাওয়া যাবে না, বরং এই পথের শেষ ঠিকানা দিল্লি। দেশের মানুষ দিল্লির খবরদারি বা কোনো আধিপত্য চায় না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

গত ১৫ বছর সরকার ও বিরোধী দল হিসেবে তারা ‘মজলুম’ ছিল উল্লেখ করে শফিকুর রহমান প্রশ্ন তোলেন, মজলুমরা কেন আবার জালিম হতে যাবে? সরকার গঠনের পর থেকে দলের পাঁচজন নিহত হওয়ার ঘটনা তুলে ধরে তিনি বলেন, তারা আর খুনের রাজত্ব ফিরে আসতে দেবে না। এখানেই থামার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, খুনের দিকে আর পা বাড়ানো যাবে না। বাংলাদেশের যুবসমাজ কারও চোখ রাঙানিতে ভয় পায় না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ফ্যাসিবাদ প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, ফ্যাসিবাদ কোনো নির্দিষ্ট দলের সঙ্গে থাকে না, এটি একটি ভাইরাস। বাংলার মাটিতে কোনো ফ্যাসিবাদকে প্রশ্রয় দেওয়া হবে না। ২০২৪ সালের মতো আবারও রাস্তায় নামার প্রস্তুতি রাখতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি। প্রয়োজনে জাতির জন্য শতবার রাস্তায় নামা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন। যারা জনগণের কাছ থেকে চাঁদা আদায় করে, তারাই দুর্বল, আমরা দুর্বল নই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

জনসমাবেশে আরও বক্তব্য দেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আবদুল হালিম, গাইবান্ধা-১ আসনের সংসদ সদস্য মাজেদুর রহমান, গাইবান্ধা-২ আসনের সংসদ সদস্য আবদুল করিম, গাইবান্ধা-৩ আসনের সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম এবং কেন্দ্রীয় ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ সিবগা।

এর আগে সকাল সোয়া ১০টার দিকে বোনারপাড়ায় পৌঁছান জামায়াত আমির। পরে তিনি গত ২১ জুন হামলায় নিহত শিবির কর্মী সাইফুল্লাহ বারী ও সালাউদ্দিনের কবর জিয়ারত করেন এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করে সমবেদনা জানান ও আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন।