যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার দ্বিতীয় মেয়াদে প্রশাসনে নিয়োগের ক্ষেত্রে আনুগত্যের পাশাপাশি সম্পদের বিষয়টিকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন। ভোক্তা অধিকার রক্ষা সংস্থা 'পাবলিক সিটিজেন'-এর সম্প্রতি প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এক চমকপ্রদ তথ্য। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্পের প্রশাসনে এমন কর্মকর্তার সংখ্যা ৫৭ জন, যাদের ব্যক্তিগত সম্পদের পরিমাণ অন্তত ১০০ মিলিয়ন ডলার। এই সংখ্যাটি পূর্ববর্তী তিন মার্কিন রাষ্ট্রপতির নিয়োগ করা একই শ্রেণির কর্মকর্তাদের সম্মিলিত সংখ্যার তুলনায় চারগুণ বেশি।

নিযুক্ত এই ৫৭ জন ধনকুবেরের মধ্যে ১৭ জন রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন এবং বাকি ৪০ জন নির্বাহী বিভাগের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ উচ্চপদে নিয়োজিত। ট্রাম্পের ক্যাবিনেটে এই প্রবণতা আরও স্পষ্ট; মোট ২৩ জন সদস্যের মধ্যে আটজনই ১০০ মিলিয়ন ডলারের বেশি সম্পদের অধিকারী। এর মধ্যে বাণিজ্য সচিব হাওয়ার্ড লুটনিক এবং শিক্ষা সচিব লিন্ডা ম্যাকমাহন দুজনই বিলিয়নেয়ার। এছাড়া প্রতিরক্ষা বিভাগের ডেপুটি সেক্রেটারি স্টিফেন ফেইনবার্গ এবং স্মল বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেটর কেলি লোফলারও বিলিয়নেয়ারের তালিকায় রয়েছেন। ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট এবং বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের সম্পদের পরিমাণ কয়েকশ মিলিয়ন ডলার।

বিগত প্রশাসনের সাথে তুলনা করলে দেখা যায়, রিপাবলিকান জর্জ ডব্লিউ বুশ এবং ডেমোক্র্যাট জো বাইডেন—উভয় প্রশাসনের সদস্যের মধ্যে পাঁচজন করে ১০০ মিলিয়ন ডলারের বেশি সম্পদের অধিকারী ছিলেন। অন্যদিকে, বারাক ওবামার শাসনামলে এই সংখ্যা ছিল মাত্র তিন জন। উল্লেখ্য, এই তালিকায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নিজস্ব সম্পদ (যা ফোর্বসের হিসেবে ৬ বিলিয়ন ডলারের বেশি) এবং বিশ্বের শীর্ষ ধনী ইলন মাস্কের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি, যদিও মাস্ক সরকারি সংকুচিতকরণের বিষয়ে ট্রাম্পকে পরামর্শ দিয়েছেন।

ট্রাম্পের এই নিয়োগ কৌশলের পেছনে তার নিজস্ব যুক্তি রয়েছে। তার মতে, আর্থিক সাফল্য হলো নির্বাহী দক্ষতা এবং দরকষাকষির সক্ষমতার প্রমাণ। তিনি মনে করেন, দক্ষ ব্যবসায়িক নেতারা অত্যন্ত মেধাবী এবং তাদের পরামর্শ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে সহায়ক। এই দৃষ্টিভঙ্গি থেকেই তিনি তার প্রথম বছরে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, আর্থিক প্রবিধান শিথিলকরণ এবং বড় বিনিয়োগের ক্ষেত্রে কর ছাড়ের মতো নীতি গ্রহণ করেছেন, যা মূলত ধনী শ্রেণির জন্য সুবিধাজনক।

তবে এই অতি-ধনকুবের কেন্দ্রিক শাসন ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিশেষজ্ঞরা। পাবলিক সিটিজেনের সহ-প্রেসিডেন্ট লিসা গিলবার্ট সতর্ক করে বলেছেন, যখন সরকারের নিয়ন্ত্রণ কেবল অতি-ধনী শ্রেণির হাতে থাকে, তখন সেখানে ভুল প্রণোদনা এবং দুর্নীতির ঝুঁকি বেড়ে যায়। এতে প্রশ্ন ওঠে যে, এই কর্মকর্তারা আসলে কার স্বার্থ রক্ষা করছেন।

রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ট্রাম্প এখন এক চ্যালেঞ্জের মুখে। মধ্যবিত্ত এবং শ্রমজীবী মানুষের সমর্থনের ওপর ভর করে তিনি হোয়াইট হাউসে ফিরলেও, বর্তমানে অর্থনীতি পরিচালনায় তার প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা কমছে। গত মাসে এক জরিপে দেখা গেছে, মাত্র ৩২% মার্কিন প্রাপ্তবয়স্ক তার অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনায় সন্তুষ্ট, যা তার দ্বিতীয় মেয়াদের শুরুতে ছিল ৪০%। নভেম্বরে কংগ্রেসের সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখার লড়াইয়ে রিপাবলিকান পার্টির জন্য এটি একটি বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।