চলচ্চিত্র অঙ্গনে নতুন মাত্রা যোগ করতে যাচ্ছেন নির্মাতা তানিম রহমান অংশু। দীর্ঘদিনের বিরতির পর তিনি ফিরছেন ‘লিম্বো’ নামক নতুন সিনেমা নিয়ে, যা বাংলাদেশের চলচ্চিত্র ইতিহাসে স্পেস ড্রামা ও কসমিক রোমান্স হিসেবে পরিচিতি পেতে পারে। বর্তমানে ছবিটির চিত্রনাট্য রচনার কাজ চলছে এবং পরিকল্পনা অনুযায়ী বছরের শেষের দিকে শুটিং শুরু হতে পারে। এই প্রকল্পের চিত্রনাট্যকার হিসেবে যুক্ত হয়েছেন বলিউডের আলোচিত ও প্রশংসিত ছবি ‘লাপাতা লেডিস’-এর গল্পকার বিপ্লব গোস্বামী। বাংলাদেশের কোনো চলচ্চিত্রে প্রথমবারের মতো কাজ করছেন তিনি।

প্রায় সাত বছরের দীর্ঘ বিরতির পর আবার ক্যামেরার পেছনে ফিরছেন অংশু। তাঁর সর্বশেষ নির্মাণ ‘ন ডরাই’ মুক্তি পেয়েছিল ২০১৯ সালে। এর পর গত ছয়-সাত বছরে বেশ কয়েকটি ছবি পরিকল্পনায় থাকলেও চ্যালেঞ্জিং কোনো বিষয়বস্তু না খুঁজে পাওয়ায় তিনি নতুন কাজ শুরু করেননি। এবার সেই অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে তিনি এমন একটি ধারায় কাজ করতে যাচ্ছেন, যা দেশে আগে কখনো দেখা যায়নি। নির্মাতার মতে, ‘লিম্বো’ দেশের প্রথম স্পেস ড্রামা ও কসমিক রোমান্সধর্মী চলচ্চিত্র। বাংলাদেশে এ ধরনের ছবি নির্মাণ অসম্ভব মনে হলেও একজন নির্মাতা হিসেবে সেই চ্যালেঞ্জই তিনি নিয়েছেন। এখন শিল্পী বাছাইয়ের কাজ চলছে এবং এই সিনেমার মাধ্যমে দীর্ঘ বিরতির পর অভিনয়ে ফেরার কথা রয়েছে তাসকিন রহমানেরও।

এই নতুন যাত্রায় বিপ্লব গোস্বামীর অন্তর্ভুক্তি ছবিটিকে আরও সমৃদ্ধ করবে বলে মনে করছেন অংশু। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, সাধারণ গল্পকে কতটা অসাধারণভাবে মানুষের সামনে উপস্থাপন করা যায়, তা ‘লাপাতা লেডিস’ দিয়ে গোস্বামী প্রমাণ করেছেন। ‘লিম্বো’র গল্পও সাধারণ, তবে এর উপস্থাপনা হবে অসাধারণ এবং একই সঙ্গে সহজবোধ্য। তাই এই প্রকল্পে গোস্বামীর যুক্ত হওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রায় এক বছর আগে দুজনের মধ্যে পরিচয় ঘটে এবং একাধিকবার তাঁদের মধ্যে আলোচনা হয়। পরবর্তী সময়ে ‘লিম্বো’ নিয়ে কথা বলার সময় মনে হয়, এই প্রকল্পে বিপ্লব যুক্ত হলে গল্পটি আরও সমৃদ্ধ হবে। এরপর একসঙ্গে কাজের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়।

বিপ্লব গোস্বামীর নিজের ভাষায়, তিনি কাজটি ঠিকমতো করতে চান এবং বাকিটা মানুষ পর্দায় দেখে জানুক। এমন একটি সুযোগ তৈরির জন্য তিনি পরিচালকের প্রতি কৃতজ্ঞ। অংশু ভাইয়ের দৃষ্টিভঙ্গি যেমন ভালো লেগেছে, তেমনি মানুষ ও নির্মাতা হিসেবেও তিনি প্রশংসার যোগ্য। সিনেমাটি নিয়ে তাঁর যে ভাবনা, তা সত্যিই প্রশংসনীয়—বাংলাদেশ থেকে এ ধরনের বিজ্ঞানভিত্তিক কল্পকাহিনি নির্মাণের চিন্তা। এর আগে ‘লাপাতা লেডিস’ দিয়ে তিনি বাংলাদেশের মানুষের কাছ থেকে প্রচুর ভালোবাসা পেয়েছেন, যা তাঁর কাছে ভীষণ আবেগপূর্ণ। পরবর্তীতে কয়েকজন নির্মাতার সঙ্গে তাঁর কথা হয়েছে এবং নিজেরও কাজ করার আগ্রহ ছিল। ‘লিম্বো’র মতো সুন্দর একটি প্রকল্প দিয়ে সেই ইচ্ছা পূরণ হতে যাচ্ছে বলে তিনি বিশেষভাবে আনন্দিত। প্রথম আলোকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি আরও জানান, বাংলাদেশে তাঁর আসা-যাওয়া রয়েছে এবং এই দেশের মানুষের ভালোবাসা তাঁর জন্য সবসময় বিশেষ।

বর্তমানে চিত্রনাট্য লেখার কাজ এগিয়ে চলছে। ঢাকায় প্রথম আলোর কার্যালয়ে আলাপকালে দুই নির্মাতা ও লেখক—সবাই এই নতুন উদ্যোগ নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। দীর্ঘ বিরতির পর নতুন ধারার সিনেমা নিয়ে অংশুর এই প্রত্যাবর্তন দেশের চলচ্চিত্রপ্রেমীদের মধ্যে নতুন প্রত্যাশা জাগিয়েছে।