মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কমোডিটি ফিউচার ট্রেডিং কমিশন (সিএফটিসি) একটি তদন্ত শুরু করেছে, যার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বক্তব্যের ওপর বাজি ধরা এক টেলিপ্রম্পটার অপারেটর। অভিযোগ, ওই ব্যক্তি কalshi নামের ভবিষ্যদ্বাণী বাজার প্ল্যাটফর্মে ট্রাম্পের বিভিন্ন প্রকাশ্য মন্তব্যকে কেন্দ্র করে বাজি ধরেছিলেন এবং তা থেকে ৯০ হাজার ডলারের বেশি অর্থ উপার্জন করেন। এই পুরো লেনদেনের অধিকাংশ মুনাফা—প্রায় পুরোটাই—কালশি নিজেদের কাছে রেখে দেয় বলে জানা গেছে।
ঘটনাটি সামনে আসার পরই নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। কীভাবে একজন টেলিপ্রম্পটার অপারেটর রাষ্ট্রপতির বক্তব্যের আগেই সেগুলোর বিষয়ে তথ্য পেয়েছিলেন এবং সেই তথ্য ব্যবহার করে আর্থিক বাজি ধরতে পেরেছিলেন—সেটিই তদন্তের মূল প্রশ্ন। কালশি প্ল্যাটফর্মে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বক্তব্যকে ঘিরে বাজি ধরার সুযোগ ছিল এবং সেখান থেকেই বিপুল অঙ্কের মুনাফা অর্জিত হয়।
তদন্তে উঠে আসছে, ওই টেলিপ্রম্পটার অপারেটর তাঁর কাজের সুযোগ ব্যবহার করে ট্রাম্পের দেওয়া বিবৃতিগুলোর বিষয়ে আগাম ধারণা পেতেন। এরপর কালশিতে সেই তথ্যের ভিত্তিতে বাজি ধরার মাধ্যমে লাভবান হন। তবে কালশি কর্তৃপক্ষ দাবি করছে, এই বাজি তাদের প্ল্যাটফর্মের নিয়মের মধ্যেই পড়ে কিনা, সেটি তারা খতিয়ে দেখছে। এদিকে, সিএফটিসি ইতিমধ্যে এই বিষয়ে প্রাসঙ্গিক তথ্য ও নথি চেয়ে পাঠিয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ঘটনা ভবিষ্যদ্বাণী বাজার এবং রাজনৈতিক বক্তব্যের অপব্যবহারের সম্ভাব্য ঝুঁকি তুলে ধরেছে। যুক্তরাষ্ট্রের আইন অনুযায়ী, কারও ব্যক্তিগত বা পেশাগতভাবে প্রাপ্ত গোপন তথ্য ব্যবহার করে আর্থিক লেনদেন করা নিষিদ্ধ। এই মামলায় সেটিই প্রমাণিত হলে জড়িত ব্যক্তির বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। তদন্তের পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ভর করছে প্রাপ্ত তথ্য-প্রমাণের ওপর।



