ভবিষ্যদ্বাণীর বাজারগুলোর অভূতপূর্ব উত্থানের মধ্যেই একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে চলে এসেছে: এই খাতের তদারকির দায়িত্ব শেষ পর্যন্ত কার হাতে থাকবে? নতুন চুক্তির ধরন প্রবর্তনের ফলে এই আর্থিক ইকোসিস্টেমকে সম্ভবত একটির পরিবর্তে দুটি নিয়ন্ত্রক সংস্থার অধীনে কাজ করতে হতে পারে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে কমোডিটি ফিউচার্স ট্রেডিং কমিশন (সিএফটিসি) এবং সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি)—উভয় সংস্থাই এই প্ল্যাটফর্মগুলোর ওপর নিজেদের এখতিয়ার প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চালাতে পারে।
প্রথাগতভাবে, কিছু ভবিষ্যদ্বাণী চুক্তি ইতিমধ্যেই সিএফটিসির তদারকির আওতায় রয়েছে। কিন্তু প্ল্যাটফর্মগুলো যখন নির্বাচনের ফলাফল বা খেলাধুলার মতো ইভেন্ট-ভিত্তিক চুক্তি চালু করছে, তখন সেগুলোকে অনেকে জুয়া বা সিকিউরিটিজ হিসেবে ব্যাখ্যা করতে পারেন, যা স্বয়ংক্রিয়ভাবে এসইসির ডোমেইনে নিয়ে যায়। দুই সংস্থার মধ্যে এই বিভাজন বাজার অংশগ্রহণকারীদের জন্য একটি অনিশ্চিত আইনি পরিবেশ তৈরি করতে পারে।
শিল্প-সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, দ্রুত বর্ধনশীল এই খাতের জন্য একটি সুস্পষ্ট নিয়ন্ত্রক কাঠামো এখন সময়ের দাবি। যদি দ্রুত কোনো সমন্বিত নীতিমালা প্রণয়ন না করা হয়, তাহলে উদ্ভাবনী এই বাজারটি আইনি জটিলতায় আটকে যেতে পারে। বর্তমানে, ব্যবহারকারীরা বাইনারি কন্ট্রাক্ট বা ইভেন্ট কন্ট্রাক্টের মতো নতুন পণ্যে বিপুল আগ্রহ দেখাচ্ছেন, যা এই বিতর্ককে আরও উসকে দিয়েছে।
পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, দ্বৈত তদারকির ফলে কমপ্লায়েন্স খরচ বেড়ে যাবে এবং ছোট প্ল্যাটফর্মগুলোর টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়বে। তবে অন্যদিকে, একটি শক্তিশালী নিয়ন্ত্রক কাঠামো বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়াতে পারে এবং মূলধারার অর্থনীতিতে এই বাজারগুলোর গ্রহণযোগ্যতা নিশ্চিত করতে পারে। আপাতত, পুরো শিল্পটি কোন পথে যায়, সেটি নির্ভর করছে ওয়াশিংটনের নীতিনির্ধারকদের পরবর্তী সিদ্ধান্তের ওপর।



