শুক্রবার মেক্সিকোর দক্ষিণাঞ্চলীয় চিয়াপাস রাজ্যের উপকূলবর্তী এলাকায় একটি শক্তিশালী ভূকম্পন অনুভূত হয়, যার মাত্রা ছিল রিখটার স্কেলে ৭.৩। যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) প্রাথমিকভাবে এই কম্পনের তীব্রতা ৭.৪ এবং ভূগর্ভে এর গভীরতা ১০ কিলোমিটার বলে উল্লেখ করলেও, পরবর্তী পরিমার্জিত তথ্যে গভীরতা ১৫.২ কিলোমিটার বলে নিশ্চিত করা হয়।
এই তীব্র ভূকম্পনের অভিঘাতে প্রতিবেশী রাষ্ট্র গুয়াতেমালা এবং এল সালভাদরের বিভিন্ন স্থাপনা ও ভবনও কেঁপে ওঠে। তাৎক্ষণিকভাবে কোনো দেশ থেকেই বড় ধরনের প্রাণহানি বা সম্পদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির তথ্য নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।
ঘটনার পরপরই যুক্তরাষ্ট্রের সুনামি সতর্কীকরণ কেন্দ্র এক সতর্কবার্তায় জানায়, ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থলের ৩০০ কিলোমিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে থাকা উপকূলীয় অঞ্চলগুলো বিপজ্জনক সুনামি তরঙ্গের ঝুঁকির মধ্যে পড়তে পারে। বিশেষ করে মেক্সিকো ও গুয়াতেমালার কিছু সৈকতে স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে ০.৩ থেকে সর্বোচ্চ ১ মিটার পর্যন্ত উচ্চতার জলোচ্ছ্বাস তৈরি হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়।
অন্যদিকে, মেক্সিকোর নৌবাহিনী প্রধান রায়মুন্দো মোরালেস এক নিয়মিত সরকারি সংবাদ সম্মেলনে এই আশঙ্কা কিছুটা প্রশমিত করে জানান, সমুদ্রের জলতলের উচ্চতা আধা মিটারের বেশি বাড়ার সম্ভাবনা নেই। সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে তিনি জনসাধারণকে সাময়িকভাবে সমুদ্রসৈকত পরিহার করে চলার আহ্বান জানান। মোরালেস বলেন, ‘এ মুহূর্তে বড় কোনো সংকট কিংবা সামুদ্রিক সম্পদের ক্ষয়ক্ষতির সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না। ভূমিকম্পজনিত সুনামির কারণে কিছু কিছু সৈকতে পানির স্তর বড়জোর আধা মিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে।’
মূল কম্পনের পর মেক্সিকো, গুয়াতেমালা ও এল সালভাদরে একাধিক পরাঘাত (আফটারশক) অনুভূত হয়, যেগুলোর মধ্যে কয়েকটির মাত্রা রিখটার স্কেলে ৫ থেকে ৬-এর মধ্যে ওঠানামা করেছিল বলে জানা গেছে।


