বর্তমানে জনপ্রিয় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা পরিষেবাগুলোর ব্যবহারকারীর অ্যাকাউন্ট সাইবার অপরাধীদের নতুন লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে। চ্যাটজিপিটি, ক্লড এবং পারপ্লেক্সিটির মতো প্ল্যাটফর্মে অনধিকার প্রবেশের মাধ্যমে ব্যক্তিগত কথোপকথন ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য চুরি হওয়ার ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ফলে নিয়মিতভাবে নিজের অ্যাকাউন্টে কোনো অচেনা যন্ত্র থেকে অ্যাক্সেস নেওয়া হচ্ছে কি না, তা যাচাই করা অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে।

প্রথমেই সামগ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার দিকে নজর দেওয়া প্রয়োজন। যদি অ্যাকাউন্টে কোনো অপরিচিত ডিভাইসের নাম দেখা যায় বা অস্বাভাবিক কার্যক্রম লক্ষ্য করা যায়, তবে বিষয়টি কখনোই উপেক্ষা করা উচিত নয়। দ্রুত সন্দেহজনক সেশন বন্ধ করতে হবে এবং প্রয়োজনে গোপনকোড পরিবর্তন করতে হবে। একাধিক অনলাইন সেবার জন্য একই পাসওয়ার্ড ব্যবহার করা বিপজ্জনক; কারণ একটি অ্যাকাউন্টের তথ্য ফাঁস হলে একই কোড ব্যবহার করা অন্য সব পরিষেবাও ঝুঁকিতে পড়ে। প্রতিটি প্ল্যাটফর্মের জন্য পৃথক ও শক্তিশালী পাসকোড নির্ধারণ করতে হবে। পাশাপাশি একটি পাসওয়ার্ড ম্যানেজার ব্যবহার করা এবং মাল্টি ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন (এমএফএ) সক্রিয় রাখলে সুরক্ষার স্তর আরও মজবুত হয় এবং অনধিকার প্রবেশের সম্ভাবনা কমে আসে।

চ্যাটজিপিটির ক্ষেত্রে, ব্রাউজারে প্ল্যাটফর্মটি খুলে নিচের বাঁ দিকের নিজের নামের ওপর ক্লিক করতে হবে। এরপর ‘সেটিংস’ থেকে ‘সিকিউরিটি অ্যান্ড লগইন’ বেছে নিয়ে ‘অ্যাকটিভ সেশনস’-এ প্রবেশ করলে অ্যাকাউন্ট ব্যবহারের বিস্তারিত তালিকা দেখা যাবে। সেখানে কোনো অজানা যন্ত্রের নাম থাকলে বুঝতে হবে গোপনে কেউ অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করছে। সে ক্ষেত্রে ‘লগআউট অল’ নির্বাচন করে সব যন্ত্র থেকে একযোগে লগআউট করা সম্ভব। পরবর্তী ধাপে পাসওয়ার্ড পরিবর্তনের জন্য ওয়েবসাইটে গিয়ে ই-মেইল ঠিকানা লিখে ‘ফরগট পাসওয়ার্ড’ বেছে নিতে হবে। এরপর ‘কনটিনিউ’ চাপলে ই-মেইলে একটি ছয় সংখ্যার কোড আসবে। ওই কোড লগইন পেজে বসিয়ে আবার ‘কনটিনিউ’ চাপলে নতুন গোপনকোড তৈরি হয়ে যাবে।

ক্লড প্ল্যাটফর্মে অনধিকার অনুপ্রবেশ শনাক্ত করতে কম্পিউটারের ব্রাউজারে পরিষেবাটি চালু করতে হবে। নিচের বাঁ দিকে নিজের নামের ওপর ক্লিক করে ‘সেটিংস’ থেকে ‘অ্যাকাউন্ট’ অপশনে গেলে ‘অ্যাকটিভ সেশনস’ দেখা যাবে। তালিকায় কোনো অচেনা সেশন থাকলে তার ওপর মাউস রেখে ডান পাশে থাকা তিনটি উল্লম্ব বিন্দুর আইকনে ক্লিক করে ‘লগআউট’ বা ‘টার্মিনেট’ বেছে নিতে হবে। প্রয়োজনে ‘লগআউট অব অল ডিভাইসেস’ নির্বাচন করে সব যন্ত্র থেকে একসঙ্গে বেরিয়ে আসা যায়। এরপর ই-মেইল ঠিকানা দিয়ে পুনরায় লগইন করতে হবে। উল্লেখ্য, ক্লডে প্রচলিত পাসওয়ার্ড ব্যবহারের সুবিধা নেই। তাই কোড পরিবর্তনের বদলে নিয়মিত সন্দেহজনক সেশন বন্ধ করাই বেশি কার্যকর।

পারপ্লেক্সিটির ক্ষেত্রে বর্তমানে কোন কোন যন্ত্রে অ্যাকাউন্ট চালু আছে, তা দেখার কোনো সুবিধা নেই। তাই গোপনে কেউ ব্যবহার করছে বলে সন্দেহ হলে সব সক্রিয় সেশন থেকে একযোগে লগআউট করতে হবে। ব্রাউজারে পরিষেবাটি খুলে নিচের বাঁ দিকে নিজের নামের ওপর ক্লিক করতে হবে। এরপর ‘অল সেটিংস’ থেকে ‘সাইন আউট অব অল সেশনস’-এ গিয়ে ‘কনফার্ম’ চাপলেই সব সক্রিয় সেশন থেকে বেরিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে। তারপর ই-মেইল ঠিকানা দিয়ে আবার লগইন করতে হবে।

উল্লিখিত সব পদক্ষেপ অনুসরণ করে এবং নিয়মিত মনিটরিংয়ের মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা তাদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা অ্যাকাউন্টের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারবেন। এই প্রতিবেদনটি টেকক্রাঞ্চের তথ্যের ভিত্তিতে প্রস্তুত করা হয়েছে।