কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নতুন করে স্টার্টআপ বুম তৈরি করায়, শিক্ষার্থীদের মধ্যে ডিগ্রি অর্জনে বছর ও লাখ লাখ ডলার ব্যয় করা নাকি পড়াশোনা ছেড়ে কোটি কোটি ডলারের ইউনিকর্ন কোম্পানি গড়ার পিছনে ছোটা—এই বিতর্ক তীব্র হয়েছে। কিন্তু এই প্রসঙ্গে নিজের অভিজ্ঞতা থেকে একটি সতর্কবার্তা দিয়েছেন স্ট্রাইপের বিলিয়নিয়ার সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী প্যাট্রিক কলিসন। তিনি এমআইটি থেকে ড্রপআউট হয়েছিলেন—একবার নয়, দুবার। তবে সম্প্রতি তিনি জেন জেড প্রজন্মকে বলেছেন, এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য তাড়াহুড়ো করার প্রয়োজন নেই। ইয়ান কম্বিনেটরের স্টার্টআপ স্কুলে দেওয়া এক বক্তৃতায় তিনি বলেন, "আমি যখন ড্রপআউট হচ্ছিলাম, তখন লোকে ভেবেছিল এটা খুব অদ্ভুত ব্যাপার।" তিনি আরও বলেন, "আমার মনে হয়, যদি তুমি কলেজ উপভোগ করো, তাহলে শেষ করে নেওয়ার কোনো ক্ষতি নেই। আমি নিজে জরুরি অবস্থার একটা অনুভূতি অনুভব করতাম, যা পিছন ফিরে দেখলে মনে হয়, কিছুটা অপ্রয়োজনীয় ছিল।"

আইরিশ এই উদ্যোক্তা মাত্র ১৬ বছর বয়সে গণিত নিয়ে পড়তে এমআইটিতে ভর্তি হয়েছিলেন। কিন্তু কয়েক মাসের মধ্যেই তিনি তার ভাই জনের সাথে ই-কমার্স সফটওয়্যার কোম্পানি অক্টোমেটিক চালু করতে পড়াশোনা ছেড়ে দেন। ৫ মিলিয়ন ডলারে সেই স্টার্টআপ বিক্রি করে তিনি আবার গণিত ও পদার্থবিদ্যা নিয়ে পড়তে এমআইটিতে ফিরে যান। তবে আরও এক বছর পর আবারও পড়াশোনা ছেড়ে দেন তিনি স্ট্রাইপ চালু করতে, যা বর্তমানে ১৫৯ বিলিয়ন ডলার মূল্যের একটি পেমেন্ট কোম্পানি। কলিসন স্বীকার করেন, তার সেই তাড়াহুড়োর অনেকটাই ছিল একটি ভিত্তিহীন ধারণা থেকে, যেন তাকে 'স্পিডরান' মোডে থাকতে হবে। তিনি বলেন, "আমি ভেবেছিলাম স্টার্টআপ ও সিলিকন ভ্যালির অনেক সুযোগ ক্ষণস্থায়ী, আর যদি তখনই তৈরি না করি, তাহলে তিন বা চার বছরে আর তা সম্ভব হবে না, হয়তো সব সুযোগ শেষ হয়ে যাবে।" কিন্তু এখন ফিরে তাকালে তিনি মনে করেন, "এটি ছিল ভুল অন্তর্দৃষ্টি। কয়েক দশক ধরে দেখা যাচ্ছে, সিলিকন ভ্যালিতে সুযোগের কোনো অভাব নেই।"

কলিসনের অন্যতম প্রধান শিক্ষা হলো, শিক্ষার্থীরা প্রায়ই মনে করে ড্রপআউট করা একটি অপরিবর্তনীয় সিদ্ধান্ত। বাস্তবে, তিনি বলেন, মানুষ যতটা ভয় পায়, তার চেয়ে অনেক সহজে পথ পরিবর্তন করা যায়। তার মতে, "অনেক বাবা-মা মনে করেন ড্রপআউট করা খুব ঝুঁকিপূর্ণ এবং সারা জীবনের জন্য সুনাম নষ্ট করবে। কিন্তু আমার জানামতে, কেউ কখনো সেটা নিয়ে মাথা ঘামায়নি।" তিনি তরুণদের উৎসাহিত করে বলেন, পরিকল্পনা পরিবর্তন হলে পড়াশোনায় ফিরে যাওয়াও সম্ভব।

মার্ক জাকারবার্গ, মাইকেল ডেল ও স্টিভ জবসের মতো বিখ্যাত প্রতিষ্ঠাতারা কলেজ অসমাপ্ত রেখে সফল হলেও, অনেকে শিক্ষা ও অভিজ্ঞতাকে মূল্যবান বলে জোর দিয়েছেন। জেফ বেজোস মনে করেন, ঐতিহ্যবাহী পথই উদ্যোক্তা হিসেবে সাফল্যের সম্ভাবনা বাড়াতে পারে। ইতালিয়ান টেক উইকে তিনি বলেছিলেন, "১৮, ১৯, ২০ বছর বয়সে কলেজ ছেড়ে দিয়ে ভালো উদ্যোক্তা হওয়া সম্ভব, কিন্তু বিল গেটস ও মার্ক জাকারবার্গের মতো সাফল্য ব্যতিক্রম।" তিনি নিজের উদাহরণ টেনে বলেন, ৩০ বছর বয়সে অ্যামাজন শুরু করায় অতিরিক্ত ১০ বছরের অভিজ্ঞতা সাফল্যের সম্ভাবনা বাড়িয়েছে।

শিক্ষা শেষ করার সিদ্ধান্ত যাই হোক না কেন, কলিসন মনে করেন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা আজ ব্যবসা শুরু করার বাধা অনেক কমিয়ে দিয়েছে। স্ট্রাইপের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের তুলনায় প্ল্যাটফর্মে নতুন ব্যবসা চালুর সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। এছাড়া এই স্টার্টআপগুলো আগের তুলনায় দ্রুত ১ মিলিয়ন, ৫ মিলিয়ন ও ১০ মিলিয়ন ডলার রাজস্বের মাইলফলক ছুঁতে পারছে। তিনি বলেন, "ব্যবসা শুরু করার জন্য এখনকার চেয়ে ভালো সময় আর হয়নি।" ইয়ান কম্বিনেটরের অনুষ্ঠানে জেনসেন হুয়াং বলেন, আজকের প্রতিষ্ঠাতাদের সামনে যে সুযোগ আছে, তাতে তিনি আসলে 'ঈর্ষান্বিত'। বিলিয়নিয়ার মার্ক কিউবানও একই মত পোষণ করে বলেন, এআই ব্যবসা শুরু করাকে এত সস্তা ও সহজ করে দিয়েছে যে মাত্র একজন প্রতিষ্ঠাতাও বেসমেন্ট থেকে কোটি কোটি ডলারের কোম্পানি গড়ে তুলতে পারেন।