গ্রামবাংলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে এখন চোখে পড়ে আধুনিক বাণিজ্যিক কাঠামো। একসময় যেখানে কাঁচাবাজার ও ছোট দোকানই ছিল ভরসা, সেখানে এখন গড়ে উঠেছে ব্র্যান্ডের শোরুম, ডায়াগনস্টিক সেন্টার, ফার্মেসি ও বহুতল ভবন। এই রূপান্তরের পেছনে রয়েছেন বিদেশে কর্মরত লক্ষ লক্ষ বাংলাদেশি, যারা কেবল পরিবারের ভরণপোষণেই থেমে থাকেননি বরং নিজ এলাকায় প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ করেছেন।

প্রচলিত ধারণায় প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্সকে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের মাধ্যম হিসেবেই দেখা হয়। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে প্রতিটি রেমিট্যান্সের পেছনে লুকিয়ে থাকে কঠোর পরিশ্রম, পরিবার থেকে দূরে থাকার বেদনা ও নানাবিধ ত্যাগের ইতিহাস। শুধু তা-ই নয়, এই অর্থের বড় একটি অংশ দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের অর্থনীতিতে ফিরে আসে। কেউ বাজার নির্মাণ করেছেন, কেউ স্বাস্থ্যসেবা বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন। কেউ হয়তো সফল হয়েছেন, কেউ ব্যর্থ হয়েছেন; তবে প্রতিটি উদ্যোগই নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছে এবং স্থানীয় উদ্যোক্তা তৈরিতে সহায়তা করেছে।

দুর্ভাগ্যজনকভাবে উন্নয়ন আলোচনায় প্রবাসীদের এই অবদান প্রায়ই উপেক্ষিত থেকে যায়। তাদের ভূমিকা কেবল রেমিট্যান্সের শুষ্ক পরিসংখ্যানেই সীমাবদ্ধ রাখা হয়। অথচ গ্রামীণ অর্থনীতির রূপান্তর ও স্থানীয় বাজার সম্প্রসারণে তাঁদের অংশগ্রহণ অপরিসীম। এই প্রেক্ষাপটে রাষ্ট্রীয় মূল্যায়ন পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনার পরামর্শ দিয়েছেন লেখক মঈন উদ্দিন সরকার সুমন, যিনি বাংলাদেশ প্রেসক্লাব কুয়েতের সভাপতি।

তাঁর মতে, প্রবাসীদের শুধু বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের উৎস হিসেবে না দেখে জাতীয় উন্নয়নের কৌশলগত অংশীদার হিসেবে বিবেচনা করা জরুরি। নিরাপদ বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি, ব্যাংকিং সেবা সহজীকরণ, প্রশাসনিক হয়রানি হ্রাস ও সামাজিক মর্যাদা নিশ্চিত করার বিষয়গুলো এখন সময়ের দাবি। প্রবাসীদের পাঠানো প্রতিটি অর্থ শুধু একটি আর্থিক লেনদেন নয়, এটি একটি পরিবারের স্বপ্ন ও দেশের অগ্রগতির ভিত্তি হিসেবে কাজ করে। কাজেই গ্রামীণ আধুনিকতার ইতিহাস রচনায় এই অগণিত মানুষের অবদানকে স্বীকৃতি দিতেই হবে।