আফগানিস্তানে জন্ম নেওয়া দুরানা এলমি শৈশবেই পরিবারের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে চলে আসেন। দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ার একটি ঐতিহ্যবাহী আফগান পরিবারে বড় হওয়া এই উদ্যোক্তা এখন সান দিয়েগোভিত্তিক ওয়েলনেস ব্র্যান্ড সিম্বিওটিকার সহ-প্রতিষ্ঠাতা। ব্র্যান্ডটি 'রিপ অ্যান্ড সিপ' পদ্ধতির সাপ্লিমেন্ট প্যাকেটের জন্য পরিচিত, যা দেশজুড়ে জিমব্যাগ ও হ্যান্ডব্যাগে দেখা যায়। এলমি জানান, তিনি আফগানিস্তানে নারীদের অবস্থা দেখে উদ্বিগ্ন। তাঁর ভাষ্যে, ‘আমেরিকান হওয়া সত্যিই এক বিশেষ সুযোগ, যখন তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোর মানুষের জীবন বুঝতে পারবেন।’ এই দৃষ্টিভঙ্গি তাঁর প্রতিটি সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলে—ব্যক্তিগত হোক বা ব্যবসায়িক।

২০১৯ সালে যাত্রা শুরু করে সিম্বিওটিকা। কোভিড মহামারির সময় যখন অনেক ব্যবসা বন্ধ হয়ে যাচ্ছিল, তখন এলমি ও তাঁর স্বামী শাহাব এলমি নিজেদের পুঁজি পুনর্বিনিয়োগ করে প্রতিষ্ঠানটিকে অত্যাবশ্যকীয় ব্যবসা হিসেবে চালিয়ে যান। প্রতিযোগীরা পিছিয়ে পড়লে তাঁরা অনুকূল লিজ শর্ত ও প্রতিভাবান কর্মী নিয়োগের সুযোগ পান। প্রথম পণ্য ছিল লাইপোসোমাল ওমেগা সাপ্লিমেন্ট, যা পিলের তুলনায় বেশি শোষণযোগ্য বলে দাবি করেন এলমি। গ্রাহকরা কেবল প্যাকেট ছিঁড়ে তরল সাপ্লিমেন্ট পান করেন। এলমির মতে, ‘পণ্য আসে যায়, কিন্তু জীবনধারাই টিকে থাকে।’ তাঁর মতে, এই পদ্ধতি সাপ্লিমেন্ট গ্রহণকে বিরক্তিকর কাজের বদলে দৈনন্দিন রুটিনে পরিণত করেছে।

প্রতিষ্ঠানটি এখন পর্যন্ত ২০ কোটির বেশি প্যাকেট বিক্রি করেছে। গত তিন বছরে বিক্রি ৪০০ শতাংশ বেড়েছে এবং ২০১৯ সাল থেকে প্রতি বছর মুনাফায় রয়েছে। প্রাথমিকভাবে নিজস্ব অর্থায়নে চলা সিম্বিওটিকা বার্ষিক আয় ১৫০ মিলিয়ন ডলারে পৌঁছানোর পর গত বছর ২৫ মিলিয়ন ডলারের সিড রাউন্ড সংগ্রহ করে। এটি ছিল তাদের প্রথম বাইরের বিনিয়োগ, যেখানে ৫০ জনের বেশি তারকা বিনিয়োগকারী অংশ নেন। এদের মধ্যে রয়েছেন দ্য উইকেন্ড, পোস্ট ম্যালোন, জোনাস ব্রাদার্স ও শার্ক ট্যাঙ্কের ডেমন্ড জন। ব্র্যান্ডটি ইনক. ম্যাগাজিনের দ্রুত বর্ধনশীল কোম্পানির তালিকায়ও একাধিকবার স্থান পেয়েছে।

এলমি ও তাঁর স্বামী ২৭ বছর বিবাহিত। তাঁরা চারটি কোম্পানি প্রতিষ্ঠা ও বিক্রির অভিজ্ঞতা নিয়ে সিম্বিওটিকা শুরু করেন। তবে শুধু অর্থ উপার্জনের উদ্দেশ্য ছিল না। এলমির বাবা ও শাহাবের দাদা স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতন না থাকায় অকালে মারা যান। তাঁদের দুই মেয়ের জন্য একটি সক্রিয় স্বাস্থ্য উত্তরাধিকার রেখে যেতে চেয়েছিলেন। এলমি এখন কোম্পানির প্রধান ক্রিয়েটিভ ও এক্সপেরিয়েন্স অফিসার।

অনলাইনের পাশাপাশি সিম্বিওটিকা টার্গেট, উল্টা, স্প্রাউটস ও হোল ফুডসের মতো খুচরা দোকানেও পৌঁছেছে। বছর শেষে আরও জাতীয় খুচরা বিক্রেতার সঙ্গে চুক্তি হবে বলে জানান এলমি। সাফল্যের পথে ব্যর্থতার কথাও খোলামেলা বলেন তিনি। ‘২০১৯ সাল থেকে আমরা যতবার সফল হয়েছি, তার চেয়ে বেশি ব্যর্থ হয়েছি,’ বলেন এলমি। ‘এটি সেই গল্পের অংশ যা কেউ শুনতে চায় না, কারণ আমরা ইনস্টাগ্রামের হাইলাইট রিলের জগতে বাস করি।’ তিনি মনে করেন, দ্রুত কিছুই ভালো হয় না; ব্যর্থতার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।

প্রায় ১৪০ জন কর্মীকে নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষেত্রে এলমি নিজে প্রতিদিন অফিসে আসেন—বাধ্য হয়ে নয়, ইচ্ছা করে। তিনি বলেন, ‘প্রকৃত নেতা সেই “আমাকে করতে হবে” অনুভূতিটিকে “আমি করতে চাই”-এ রূপান্তরিত করে।’ স্বামীর সঙ্গে ব্যবসা চালানোর টানাপোড়েন নিয়েও সৎ তিনি। শক্তিশালী ব্যক্তিত্ব, মাঝে মাঝে নীরব গাড়ি চালনা, এবং অফিসের সমস্যা বাড়িতে না আনার কঠোর নিয়ম—এসব মেনে চলেন। তবে শেষ পর্যন্ত আয়ের চেয়ে প্রভাবকেই বেশি গুরুত্ব দেন এলমি। ‘আমি কতজন নারীকে অনুপ্রাণিত করতে পারি, সেটাই বড় বিষয়,’ বলেন তিনি।