বিশ্বব্যাপী নির্মাণ শিল্পের বড় চ্যালেঞ্জ হলো শ্রম সংকট। যুক্তরাষ্ট্রে ২০২৬ সালে প্রায় সাড়ে তিন লাখ নতুন শ্রমিকের প্রয়োজন হবে, আর আবাসনের ঘাটতি ৩০ থেকে ৪০ লাখ ইউনিট। এই সংকট মোকাবিলায় রোবট প্রযুক্তি কাজে লাগানোর উদ্যোগ নিয়েছে আমস্টারডামভিত্তিক স্টার্টআপ Monumental। কোম্পানির প্রতিষ্ঠাতা সালার আল খাফাজি ২০১৬ সালে তার আগের ব্যবসা Silk Palantir-এর কাছে বিক্রি করার পর নির্মাণ খাতে রোবট ব্যবহারের ধারণা নিয়ে কাজ শুরু করেন। অনেকেই এই উদ্যোগকে খুবই ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করলেও তিনি পিছপা হননি। সম্প্রতি Monumental ৩২ মিলিয়ন ডলারের সিরিজ বি ফান্ডিং রাউন্ড সম্পন্ন করেছে, যার নেতৃত্ব দিয়েছে খোসলা ভেঞ্চারস। ফরচুনের একচুসিভ প্রতিবেদন অনুযায়ী, এর আগে ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে তারা Plural ও Hummingbird-এর নেতৃত্বে ২৫ মিলিয়ন ডলার সংগ্রহ করেছিল। নতুন অর্থ দিয়ে কোম্পানি এ বছর যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে প্রবেশ, ইউরোপের রোবট বহর বাড়ানো এবং মেশিনগুলোর কাজের পরিধি সম্প্রসারণের পরিকল্পনা করছে।

নির্মাণ প্রযুক্তি খাতে অতীতে বিপুল ভেঞ্চার ক্যাপিটাল বিনিয়োগ হলেও সাফল্য আসেনি। গত বছরগুলোর তুলনায় এ খাতে বিনিয়োগ ৩৩ শতাংশ কমে গেছে। সফটব্যাংকসমর্থিত Katerra সম্পূর্ণ নির্মাণ সরবরাহ শৃঙ্খল এক ছাদের নিচে আনার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয় এবং ২০২১ সালে দেউলিয়া ঘোষণা করে। অন্যদিকে, অস্ট্রেলিয়ার FBR-এর ট্রাকমাউন্টেড ইট বিছানোর রোবট ঘণ্টায় ৩৬০টি ইট বসাতে পারলেও প্রতিটি মেশিনের দাম প্রায় ৬ মিলিয়ন ডলার হওয়ায় ঠিকাদাররা ঝুঁকি নিতে রাজি হননি। এই ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা নিয়ে Monumental সম্পূর্ণ ভিন্ন পথ বেছে নিয়েছে।

কোম্পানিটি ছোট, বৈদ্যুতিক ও স্ব-চালিত ইট বিছানো রোবটের বহর তৈরি করে, যা নির্মাণস্থলে দেয়াল নির্মাণ করে। Monumental একটি বিশেষায়িত উপ-কন্ট্রাক্টরের মতো কাজ করে, যেখানে পুরো দলটাই রোবট। ঠিকাদাররা পরিচিত ইউনিটে (প্রতি ইট বা প্রতি বর্গমিটার) মূল্য পায়, আর বাকি সবকিছু সামলায় Monumental নিজেই। প্রতিষ্ঠাতা আল খাফাজি বলেন, “আমরা তাদের দেয়াল বিক্রি করি।” কোম্পানি ঠিকাদারের নির্ধারিত ইট ও মর্টার ব্যবহার করে, ফলে নিয়ন্ত্রক সংস্থার নতুন কোনো অনুমোদনের প্রয়োজন হয় না—যা এর আগে অনেক কোম্পানির পথরোধ করেছিল। বর্তমানে ইউরোপের একাধিক নির্মাণস্থলে Monumental-এর ১৫০টির বেশি রোবট কাজ করছে।

আল খাফাজি শ্রম সংকটকে একটি ফাঁক হিসেবে দেখেন, যা পূরণ করতে রোবট শ্রমিকদের প্রতিস্থাপন নয়, বরং সহায়ক হবে। তার মতে, “প্রতিদিন ১০ হাজার রোবটও যদি মোতায়েন করা যায়, তবু ঘাটতির মাত্র কয়েক শতাংশ পূরণ হবে।” এই দৃষ্টিভঙ্গি যুক্তরাষ্ট্রের মতো শক্তিশালী ইউনিয়ন ও কঠোর অভিবাসন নীতি সম্পন্ন বাজারে কোম্পানির জন্য রাজনৈতিক সুরক্ষা তৈরি করবে। কারণ সেখানে অনানুষ্ঠানিক শ্রমবাহিনী সংকুচিত হচ্ছে।

এই খাতে আরও প্রতিযোগী রয়েছে। সুইজারল্যান্ডের Gravis Robotics গত নভেম্বরে ২৩ মিলিয়ন ডলার সংগ্রহ করে বিদ্যমান ভারী যন্ত্রপাতিতে ক্যামেরা ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা যুক্ত করে স্বায়ত্তশাসিত করার প্রযুক্তি এনেছে। অন্যদিকে, Caterpillar, Komatsu ও Volvo-র মতো শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোও স্বায়ত্তশাসিত নির্মাণ বাজারে প্রবেশ করছে, যার বর্তমান আকার ১০ বিলিয়ন ডলার এবং বার্ষিক প্রবৃদ্ধি প্রায় ৮ শতাংশ। তবে Gravis যেখানে বিদ্যমান মেশিনে কেবল সংযোজন করে, Monumental প্রথম থেকেই নিজস্ব রোবট বহর মোতায়েন করে। তাদের যুক্তরাষ্ট্রে লক্ষ্য হলো টেক্সাস, ফ্লোরিডা, ভার্জিনিয়া ও অ্যারিজোনা, যেখানে নির্মাণকাজ ও শ্রম সংকট সবচেয়ে প্রকট। আল খাফাজির ১৮ মাসের পরিকল্পনা অনুযায়ী, কমপক্ষে দুটি রাজ্যে ১০০টির কাছাকাছি রোবট স্থায়ীভাবে মোতায়েন করতে চান কোম্পানিটি। ভবিষ্যতে ইট বিছানো থেকে শুরু করে সম্পূর্ণ ফ্যাসাড নির্মাণ পর্যন্ত কাজের পরিধি বাড়ানোর লক্ষ্য রয়েছে। তিনি কল্পনা করেন, একদিন সাধারণ নির্মাণস্থলেই এই রোবটগুলো চোখে পড়বে। প্রতিবেদনটি ফরচুন ডট কমে প্রথম প্রকাশিত হয়।