ইংল্যান্ডের দুই পেসার ওলি রবিনসন ও জশ টাং ক্রিকেট ইতিহাসে সম্ভবত প্রথমবারের মতো একটি ম্যাচ বলকে দুই ভাগ করে নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেওয়ার অভিনব সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। হেডিংলিতে পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্টের প্রথম দিনে পাকিস্তান ১৭১ রানে অলআউট হলে ইংল্যান্ডের পক্ষে ১০টি উইকেটই পড়ে যায় এই দুই পেসারের দখলে—প্রত্যেকে ৫টি করে উইকেট লাভ করেন। একই ইনিংসে দুই বোলারের ৫ উইকেট লাভের এমন সমতা ক্রিকেটে অত্যন্ত বিরল। এর আগে ২০০৬ সালে ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে সাইমন হার্মিসন ও মন্টি পানেসার পাকিস্তানের বিপক্ষেই একই কীর্তি গড়েছিলেন, যা ছিল ১৮ বছর আগের ঘটনা। তবে এবার স্পিন নয়, পেসারদের হাত ধরে এল এই ঐতিহাসিক সমতা।

ম্যাচ শেষে মাঠ ছাড়ার সময় দুই পেসারের মনে খেলে যায় এক অদ্ভুত বুদ্ধি। স্মৃতিটাকে আরও স্পর্শকাতর করে তুলতে তাঁরা সিদ্ধান্ত নেন—বলটি কেটে দুই ভাগ করা হবে। তাঁদের এই প্রস্তাবে রাজি হয়ে যায় টিম ম্যানেজমেন্ট। হেডিংলির গ্রাউন্ড স্টাফদের কাছে পাঠানো হয় বলটি। করাত দিয়ে লাল চামড়ার বলটিকে নিখুঁত দুই খণ্ডে বিভক্ত করা হয়। এরপর অর্ধেক বল নেন রবিনসন, বাকি অর্ধেক নেন টাং। ক্রিকেটের ইতিহাসে এমন স্মারক তৈরি হওয়ার ঘটনা সত্যিই দুর্লভ।

রবিনসন এই অভিজ্ঞতা সম্পর্কে বলেন, মাঠ থেকে বের হওয়ার সময় টাংকে তিনি প্রস্তাব দেন বলটি কেটে ভাগ করে নেওয়ার। টাংও সঙ্গে সঙ্গে রাজি হয়ে যায়। রবিনসনের ভাষ্য, ক্রিকেটে অর্ধেক বল খুব একটা দেখা যায় না, আর একই ইনিংসে দুই বোলারের ৫ উইকেটও রোজ ঘটে না। তাই এটি মনে রাখার মতো একটি ব্যাপার হয়ে থাকল। টাংও কৃতিত্ব দেন সিনিয়র সতীর্থকে। তিনি জানান, রবিনসনই প্রথম এই প্রস্তাব দেয়। গ্রাউন্ড স্টাফদের কাজের প্রশংসা করে টাং বলেন, জীবনে প্রথম এমন কিছু দেখলেন তিনি। এই অর্ধেক বলটি তিনি অবশ্যই বিশেষ জায়গায় তুলে রাখবেন।

খেলার প্রথম দিনে পাকিস্তানের টপ অর্ডারের চার ব্যাটসম্যানকে সাজঘরে ফেরান রবিনসন। এরপর ‘দ্য মপ’ নামে পরিচিত জশ টাং নিজের নামের সার্থকতা প্রমাণ করে পাকিস্তানের টেল-এন্ডারদের একাই গুড়িয়ে দেন। জবাবে ব্যাট করতে নেমে দিন শেষে ইংল্যান্ড ২ উইকেটে ১১২ রান তুলেছে। জো রুটের দ্বিতীয় দফার অধিনায়কত্বের শুরুটাও তাই দারুণ হলো।

এই দিনটির সঙ্গে জড়িয়ে আছে আরও একটি ব্যক্তিগত গল্প। গেল সপ্তাহেই রবিনসনের ঘর আলো করে এসেছে তাঁর দ্বিতীয় কন্যা ইভা। বৃহস্পতিবার রাত দুইটায় ইভার জন্ম হয়। লিডসের হোটেলে এসে ঘুম পুষিয়ে নেওয়ার লড়াই করতে হচ্ছে তাঁকে। তবে নতুন একটি শিশুর মুখ দেখার পর সপ্তাহটি তার জীবনের সবচেয়ে বিশেষ হয়ে ওঠে। মাঠে এমন কিছু করতে পেরে অনুভূতিটি অন্য রকম মিষ্টি বলেও মন্তব্য করেন রবিনসন। পরিবার মাঠে না থাকলেও তাঁর মন পড়েছিল সেখানেই।