রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাতে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো যে উভয় পক্ষকেই অস্ত্র সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে, তা নতুন কোনো বিষয় নয়। তবে এই অঞ্চলের বেশিরভাগ দেশই যুদ্ধে বড় মাপের অস্ত্র সরবরাহকারীতে পরিণত হবে না বলেই বিশ্লেষকদের ধারণা। একইসঙ্গে ইরান ছাড়া অন্য কোনো মধ্যপ্রাচ্য দেশ রাশিয়ার যুদ্ধ প্রচেষ্টায় সক্রিয়ভাবে যোগ দেবে এমন সম্ভাবনাও ক্ষীণ।

মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর এই অবস্থান মূলত তাদের কৌশলগত স্বার্থ ও কূটনৈতিক ভারসাম্যের ওপর নির্ভর করছে। একদিকে যেমন পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে তাদের নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে, অন্যদিকে রাশিয়ার সঙ্গেও তারা বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা বজায় রেখেছে। ফলে কোনো একক পক্ষের পক্ষে স্পষ্ট অবস্থান নেওয়া তাদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে বলে পর্যবেক্ষকদের মন্তব্য।

তবে এর অর্থ এই নয় যে মধ্যপ্রাচ্য সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ। বিভিন্ন দেশ গোপনে বা পরোক্ষভাবে যুদ্ধরত পক্ষগুলোকে অস্ত্র বা সামরিক প্রযুক্তি সরবরাহ করছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। কিন্তু এসব সরবরাহের পরিমাণ এবং ধরন এমন, যা যুদ্ধের গতিপথে বড় পরিবর্তন আনতে সক্ষম নয়। বিশেষ করে ইরান রাশিয়াকে ড্রোন ও অন্যান্য সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহ করছে বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয়েছে।

এই প্রেক্ষাপটে মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশগুলো নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে যে তারা যুদ্ধে জড়িয়ে পড়তে চায় না। তাদের মূল লক্ষ্য নিজেদের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে এর প্রভাব পুরো অঞ্চলের ওপর পড়তে পারে বলে তারা আশঙ্কা করছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর এই দ্বিধান্বিত অবস্থান যুদ্ধের ফলাফলের ওপর নির্ভর করে বদলাতে পারে। যদি যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হয় এবং এক পক্ষ স্পষ্টভাবে দুর্বল হয়ে পড়ে, তাহলে কিছু দেশ তাদের অবস্থান পুনর্বিবেচনা করতে বাধ্য হতে পারে। তবে আপাতত এই অঞ্চলের দেশগুলো যে কৌশল অবলম্বন করেছে, তাতে তারা যুদ্ধের সরাসরি অংশগ্রহণকারী হওয়া এড়িয়ে যাচ্ছে।

সামগ্রিকভাবে, মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক বাস্তবতা এমন যে, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে এই অঞ্চলের দেশগুলোর ভূমিকা সীমিত থাকবে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা যুদ্ধের আগুনে জ্বালানি যোগাতে আগ্রহী নয়, বরং সংঘাতের সমাধানে মধ্যস্থতার চেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার পক্ষপাতী।