বিজ্ঞানীরা সম্প্রতি গণপ্রজাতন্ত্রী কঙ্গোর (ডিআরসি) লোমামি জাতীয় উদ্যানের গভীর ক্রান্তীয় বনাঞ্চলে একটি নতুন প্রজাতির বানর শনাক্ত করেছেন। এই প্রাইমেটটির গোলাপি-কমলা রঙের ঠোঁট এবং কালো মুখ, যা একে অন্যান্য প্রজাতি থেকে আলাদা করে। দেশটির মধ্য-পূর্বাঞ্চলের লোমামি জাতীয় উদ্যানের উঁচু গাছের মাথায় লুকিয়ে থাকা অবস্থায় এটি প্রথম দেখা যায় ২০০৮ সালে। তবে তখন এটি নতুন প্রজাতি বলে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এর এক দশক পর, ২০১৮ সালে আরেকটি দর্শনের পর একটি আন্তর্জাতিক গবেষক দল এই বানরটির সন্ধানে বেরিয়ে পড়ে এবং বিস্তারিত পর্যবেক্ষণ ও গবেষণার পর এটি যে বিজ্ঞানের কাছে সম্পূর্ণ নতুন একটি প্রজাতি, তা নিশ্চিত করে।

ফ্রাঙ্কফুর্ট জুলজিক্যাল সোসাইটির আফ্রিকা পরিচালক ড. ক্যারেন লরেনসন এই আবিষ্কারকে 'অসাধারণ' বলে আখ্যা দিয়েছেন। তাঁর মতে, এই ঘটনা প্রমাণ করে যে প্রাকৃতিক জগতে এখনও অনেক কিছু অনাবিষ্কৃত রয়েছে এবং আরও বেশি করে অনুসন্ধানের প্রয়োজন। তিনি বলেন, 'এটি সত্যিই চমকপ্রদ যে আমাদের গ্রহে এখনও নতুন প্রজাতি আবিষ্কৃত হচ্ছে, বিশেষ করে এমন একটি অঞ্চলে যা ইতিমধ্যেই সংরক্ষিত এলাকা হিসেবে পরিচিত।' গবেষক দলটি দীর্ঘদিন ধরে এই বানরটির আচরণ, খাদ্যাভ্যাস ও বাসস্থান সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করেছে। তবে এই প্রজাতিটির সঠিক বৈজ্ঞানিক নামকরণ ও শ্রেণিবিন্যাস এখনও চূড়ান্ত হয়নি। ধারণা করা হচ্ছে, এটি সেরকোপিথেসিডি পরিবারের অন্তর্ভুক্ত হতে পারে, তবে জিনগত পরীক্ষা-নিরীক্ষার পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে।

লোমামি জাতীয় উদ্যানটি ডিআরসির একটি গুরুত্বপূর্ণ জীববৈচিত্র্যের হটস্পট। এর আগেও এখানে বেশ কিছু বিরল প্রজাতির প্রাণী ও উদ্ভিদ আবিষ্কৃত হয়েছে। এই নতুন বানর প্রজাতির আবিষ্কার আবারও প্রমাণ করে যে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে এখনও অনেক অজানা প্রজাতি লুকিয়ে আছে, যাদের সংরক্ষণের জন্য জরুরি পদক্ষেপ প্রয়োজন। সংরক্ষণবাদীরা আশা করছেন, এই আবিষ্কার লোমামি জাতীয় উদ্যানের সুরক্ষা ও গবেষণা তৎপরতা আরও জোরদার করতে সহায়তা করবে।