রাজধানীতে চাকরিপ্রত্যাশীদের প্রতারণা এবং ডাকাতির পরিকল্পনা বাস্তবায়নের প্রচেষ্টায় দুই পৃথক অভিযান চালিয়ে মোট পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)-র গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)। মঙ্গলবার বিকেলে মিন্টো রোডে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ডিবি অতিরিক্ত কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম এই অভিযানের বিস্তারিত বিবরণ প্রদান করেন।
প্রথম অভিযানে, সেনাবাহিনী, পুলিশ এবং র্যাবের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পরিচয় দিয়ে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে মো. নুরুল চৌধুরী (৪০) নামের এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়। সোমবার দিবাগত রাত পৌনে চারটার দিকে উত্তরার ভূইয়াবাড়ি বাঁশতলা এলাকার সানডে সোসাইটি আবাসিক এলাকার একটি বাড়ি থেকে রমনা বিভাগের ডিবি দল তাকে গ্রেপ্তার করে। তদন্তে জানা গেছে, নুরুল চৌধুরী দীর্ঘ সময় ধরে তার সহযোগীদের সঙ্গে নিয়ে এই প্রতারণা চক্রটি পরিচালনা করছিলেন। তিনি নিজেকে কখনো 'মেজর আল মামুন', কখনো 'কর্নেল নাজিম' আবার কখনো 'মেজর তানভীর' হিসেবে পরিচয় দিতেন। মূলত বেকার যুবক, রিকশাচালক, শ্রমিক এবং দিনমজুরের মতো নিম্নআয়ের মানুষদের লক্ষ্য করে তিনি সেনাবাহিনীতে সৈনিক, রাঁধুনি কিংবা পিয়ন পদে চাকরির প্রতিশ্রুতি দিতেন। এছাড়া তিনি পুলিশ সুপার তারিকুর রহমান এবং এসবি ও ডিবির সদস্য হিসেবে পরিচয় দিয়েও প্রতারণা চালাতেন। তার বিরুদ্ধে শাহ আলী থানায় মামলা রয়েছে।
নুরুল চৌধুরীর কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ ভুয়া সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সেনাবাহিনীর মেজর এবং র্যাবের কর্নেল পদমর্যাদার ভুয়া পরিচয়পত্র, একটি জাল পাসপোর্ট, ১০ সেট সেনাবাহিনীর পোশাক, ভুয়া নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি এবং চাকরির আবেদন ফরম। এছাড়া বিশ্বাসযোগ্যতা তৈরির জন্য বিভিন্ন বাহিনীর পোশাক পরিহিত পাসপোর্ট সাইজের ছবি, দুটি ওয়াকিটকি ও চার্জার, তিনটি অ্যান্ড্রয়েড ফোন এবং সেনাবাহিনীর চিকিৎসা বই ও প্যাড উদ্ধার করা হয়েছে। ডিবি পুলিশ জানিয়েছে, এই চক্রের বাকি সদস্যদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
অন্যদিকে, রাজধানীর হাতিরঝিল সংলগ্ন একটি বাসায় ডাকাতির পরিকল্পনা করার সময় চার সদস্যের একটি দলকে গ্রেপ্তার করেছে ডিবির গুলশান বিভাগের একটি দল। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—মো. রাকিব (৩২), রাশেদুল হাওলাদার (২৭), জুবায়ের ইসলাম (৪০) এবং বিজয় সরকার ওরফে ডেফিড (২৭)। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায়, ছয় সদস্যের এই দলটি ওই বাসায় স্বর্ণালঙ্কার ও মূল্যবান সামগ্রী লুটের নীল নকশা তৈরি করেছিল এবং এর আগের দিন এলাকাটি রেকি করেছিল। অভিযানের সময় তাদের কাছ থেকে দুটি বিদেশি পিস্তল, দুটি ম্যাগাজিন, পাঁচটি গুলি, একটি খেলনা পিস্তল, তিনটি চাপাতি, পাঁচটি ককটেল, একটি স্পাইক ড্যাগার এবং চলচ্চিত্র শুটিং ইউনিটের দুটি কার্ড জব্দ করা হয়। দলের বাকি দুজন সদস্য পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছেন।




