প্রযুক্তি জায়ান্ট অ্যাপলের শেয়ারের দামে বড় ধরনের পতন দেখা দিয়েছে। কোম্পানির নতুন প্রধান নির্বাহী জন টার্নাসের নেতৃত্বে একটি অত্যন্ত উচ্চাভিলাষী পণ্য — সম্পূর্ণ কাচের তৈরি প্রিমিয়াম আইফোন — বাজারে আনার যে পরিকল্পনা ছিল, তা হঠাৎ করেই বাতিল করে দেওয়া হয়েছে। এই খবর প্রকাশ পাওয়ার পরেই ওয়াল স্ট্রিটে অ্যাপলের শেয়ারের দর পড়তে শুরু করে, কারণ বিনিয়োগকারীরা ধরে নিয়েছিলেন এই নতুন পণ্যটিই কোম্পানির পরবর্তী বড় সাফল্যের চাবিকাঠি হতে পারে।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, ‘অল-গ্লাস’ আইফোনটি হবে অ্যাপলের ইতিহাসে সবচেয়ে বিলাসবহুল এবং প্রযুক্তিগতভাবে সবচেয়ে উন্নত স্মার্টফোন। ধারণা করা হচ্ছিল, টার্নাস তার নতুন দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথম বড় ঘোষণায় এই পণ্যটির মাধ্যমেই নিজের নেতৃত্বের ছাপ রাখবেন। কিন্তু সেই আশা ভঙ্গ হওয়ায় শেয়ারবাজারে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

অ্যাপলের এই সিদ্ধান্তের পেছনে কী কারণ থাকতে পারে তা নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। তবে প্রযুক্তি মহলের একাংশের মতে, উৎপাদন খরচ, প্রযুক্তিগত জটিলতা অথবা ভোক্তা চাহিদা নিয়ে শঙ্কার কারণেই এই প্রকল্পটি থেকে সরে আসা হতে পারে। অনেকের মতে, সম্পূর্ণ কাচের তৈরি ফোন সহজে ভেঙে যাওয়ার ঝুঁকিতে থাকে, যা সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য একটি বড় উদ্বেগের বিষয়। ফলে কোম্পানির অভ্যন্তরীণ মূল্যায়নেও প্রকল্পটির ব্যাপকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল।

এই পতনের ফলে অ্যাপলের বাজার মূলধন উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কমে গেছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, স্বল্পমেয়াদে কোম্পানির শেয়ারের দাম আরও কিছুটা ওঠানামা করতে পারে। তবে দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগকারীদের মধ্যে এখনও আস্থার অভাব নেই বলেও মনে করছেন তারা। অ্যাপল অতীতেও অনেক সময় পণ্য পরিকল্পনা পরিবর্তন করেছে, কিন্তু তারপরও নিজের অবস্থান ধরে রেখেছে।

তবে এই ঘটনার প্রভাব শুধু অ্যাপলের শেয়ারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। প্রযুক্তি খাতের সামগ্রিক বিনিয়োগ পরিবেশেও এর প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশেষ করে যারা নতুন সিইওর নেতৃত্বে অ্যাপলের নতুন যুগ শুরু হবে বলে আশা করেছিলেন, তাদের জন্য এই খবরটি বড় ধরনের ধাক্কা। আগামী দিনে কোম্পানির পক্ষ থেকে কী নতুন কৌশল ঘোষণা করা হয়, সেদিকেই এখন নজর রাখছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা।