শনিবার থেকে কলকাতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর–সংলগ্ন বাঁকড়া এয়ারপোর্ট মসজিদে নামাজ আদায়ে বাধা সৃষ্টি হয়েছে। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ মসজিদের প্রধান ফটক, যা বিমানবন্দরের ৮ নম্বর গেট দিয়ে যায়, সেটি বন্ধ করে দিয়েছে। ফলে মুসল্লিরা মসজিদে প্রবেশ করতে পারছেন না।

কর্তৃপক্ষের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক বিমান নিরাপত্তা বিধি অনুযায়ী রানওয়ে থেকে কোনো স্থাপনার দূরত্ব কমপক্ষে ২৪০ মিটার হতে হবে। কিন্তু মসজিদটি রানওয়ের মাত্র ১৬৫ মিটার দূরে অবস্থিত। এটি সিআইএসএফ–এর তত্ত্বাবধানে থাকা নিরাপত্তা বলয়ের ভেতরে পড়েছে বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়। নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণেই মসজিদটি স্থানান্তর জরুরি বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদক মহম্মদ জমিরউদ্দিন স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে জানান, এই সিদ্ধান্তের আগে কোনো নোটিশ দেওয়া হয়নি। তার ভাষ্য, শুক্রবার নামাজ পড়ার পর শনিবার হঠাৎই গেট বন্ধ করে দেওয়া হয়। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে মসজিদ স্থানান্তর নিয়ে দীর্ঘদিন আলোচনা চললেও এতদিন নামাজে বাধা দেওয়া হয়নি বলে জানান তিনি। কর্তৃপক্ষ মসজিদটির জন্য আরও প্রশস্ত জায়গা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বলেও উল্লেখ করেন জমিরউদ্দিন।

ঐতিহাসিকভাবে মসজিদটি ১৮৯০ সালে নির্মিত হয়, যখন কলকাতা বিমানবন্দর এখনও স্থাপিত হয়নি। বিমানবন্দর স্থাপিত হয় ১৯২৪ সালে, অর্থাৎ মসজিদ নির্মাণের ৩৪ বছর পর। সে সময় এলাকাটি অবিভক্ত বাংলার অংশ ছিল। স্থানীয় ইতিহাস অনুযায়ী, বর্তমান বাংলাদেশের সাতক্ষীরা অঞ্চল এবং পশ্চিমবঙ্গের ব্যারাকপুর মহকুমার মানুষ এই মসজিদে নামাজ আদায় করতেন। মসজিদটির পুরোনো নাম ছিল 'গৌরীপুর জামে মসজিদ'।

পশ্চিমবঙ্গে বর্তমান বিজেপি সরকারের আমলে এটাই প্রথম কোনো মসজিদে নামাজ বন্ধের ঘটনা। মুখ্যমন্ত্রী তথা বিতর্কিত নেতা শুভেন্দু অধিকারী বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের এই উদ্যোগকে সমর্থন জানিয়েছেন।

এ ঘটনায় উত্তেজনা না ছড়ানোর জন্য শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন ভারতের বৃহত্তম মুসলিম সংগঠন জমিয়ত উলামায়ে হিন্দের রাজ্য সভাপতি সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরী। তিনি বলেন, বিষয়টি নিয়ে দুঃখ থাকলেও কেউ যেন রাস্তায় না নামেন। তিনি বিজেপির সঙ্গে সংঘর্ষ এড়ানোর কথা বলেন এবং আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের ওপর জোর দেন। তার মতে, জোর করে মসজিদের দরজা বন্ধ করা ঠিক হয়নি। তিনি দারুল উলুম দেওবন্দ, মুসলিম পারসোনাল ল বোর্ড এবং জমিয়ত উলামায়ে হিন্দের সঙ্গেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনার আহ্বান জানিয়েছেন।