চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি মন্দার মুখে পড়েছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন বিশ্লেষকরা। এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত তিন মাসে দেশটির মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) বার্ষিক হার দাঁড়িয়েছে মাত্র ১ দশমিক ৫ শতাংশ। এই পরিমাণ বাজার বিশেষজ্ঞদের পূর্বাভাসের চেয়েও কম। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রবৃদ্ধির এই নিম্নমুখী অবস্থার পেছনে মুখ্য ভূমিকা রেখেছে ফেডারেল সরকারের ব্যয় সংকোচন ও পণ্য মজুতের পরিমাণ কমে যাওয়া।
অর্থনীতিবিদদের অনুমান ছিল যে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ২ শতাংশের আশেপাশে থাকতে পারে, কিন্তু বাস্তবে তা প্রত্যাশার চেয়ে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কম এসেছে। সরকারি ব্যয়ের পাশাপাশি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোর গুদামে পণ্য জমা রাখার প্রবণতা হ্রাস পেয়েছে, যা প্রবৃদ্ধির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। তবে ভোক্তা ব্যয় কিছুটা স্থিতিশীল থাকায় অর্থনীতি পুরোপুরি স্থবির হয়ে পড়েনি বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
অপরদিকে মূল্যস্ফীতির চিত্র কিছুটা ভিন্ন। জুন মাসে মূল মূল্যস্ফীতি (কোর ইনফ্লেশন) ৩ দশমিক ৩ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা আগের মাসের তুলনায় সামান্য কম। এই মূল্যস্ফীতি পরিসংখ্যানটি খাদ্য ও জ্বালানি মূল্য বাদ দিয়ে তৈরি করা হয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কঠোর নীতি গ্রহণ করলেও এখনও লক্ষ্যমাত্রার ২ শতাংশের উপরে রয়েছে হারটি। ফলে সুদের হার কমানোর সিদ্ধান্ত নিতে ফেড অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে।
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জিডিপি প্রবৃদ্ধি ও মূল্যস্ফীতির এই মিশ্র সংকেত ফেডের সামনে চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। প্রবৃদ্ধি বাড়াতে সুদের হার কমানো প্রয়োজন, কিন্তু অন্যদিকে মূল্যস্ফীতি এখনও লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি থাকায় হার কমানো ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। তবে সরকারি ব্যয় হ্রাস প্রবৃদ্ধির গতি কমিয়ে দিলেও দীর্ঘমেয়াদে এটি বাজেট ঘাটতি নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হতে পারে বলে মত দিচ্ছেন কেউ কেউ।
এদিকে বিশ্ববাজারে এই খবরের প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। মার্কিন ডলারের বিনিময় হার কিছুটা দুর্বল হয়েছে, অন্যদিকে শেয়ারবাজারে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। বিনিয়োগকারীরা ফেডের পরবর্তী বৈঠকের দিকে তাকিয়ে আছেন, যেখানে সুদের হারের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা স্পষ্ট হতে পারে।




