টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলায় মা ও মেয়ের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার সকালে ধুপুরিয়া গ্রামের একটি বাড়ি থেকে ২৮ বছর বয়সী কণিকা বেগম এবং তার চার বছরের কন্যা রাজিয়া আক্তারের লাশ উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিক তদন্তে মনে করা হচ্ছে, মেয়েকে বালিশ দিয়ে শ্বাসরোধে হত্যার পর কণিকা নিজেও আত্মহত্যা করেছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কণিকার স্বামী রাজীব হোসেন (৩০) পেশায় একজন নির্মাণশ্রমিক। তাদের সংসারে আর্থিক সংকট নিয়ে প্রায়ই মনোমালিন্য চলত। বৃহস্পতিবার রাতে এক ঝগড়ার পর রাজীব বাড়ি ছেড়ে চলে যান এবং সারা রাত ফিরে আসেননি। শুক্রবার ভোরে কণিকা মেয়েকে নিয়ে বাবার বাড়ি যাওয়ার উদ্দেশ্যে রওনা দেন, কিন্তু পথে রাজীবের বাবা নাজিম মিয়া তাকে ফিরিয়ে নিয়ে আসেন।

বাড়িতে ফিরে কণিকা নিজের ঘরে প্রবেশ করেন। অনেকক্ষণ ধরে কোনো সাড়া না পেয়ে পরিবারের অন্য সদস্যরা ঘরের ভেতরে তাকিয়ে দেখতে পান কণিকার ঝুলন্ত মরদেহ। ঘরে ঢুকে মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখা যায় শিশু রাজিয়ার লাশও। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যান মির্জাপুর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার আদনান মোস্তাফিজ ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবদুল্লাহ আল মামুন।

পুলিশ দুইটি মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজে পাঠিয়েছে। থানার ওসি জানান, পারিবারিক কলহের জেরে কণিকা তার মেয়েকে হত্যার পর নিজেও আত্মহত্যা করেছেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তবে ময়নাতদন্তের রিপোর্টের পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।