উত্তর আটলান্টিক চুক্তি সংস্থা (ন্যাটো) সম্প্রতি একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে—মোট দেশজ উৎপাদনের ৫ শতাংশ প্রতিরক্ষা ব্যয়ে উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ। তবে এই সিদ্ধান্তের পরেও জোটের সদস্য রাষ্ট্রগুলো কোন হুমকিটি সবচেয়ে জরুরি তা নিয়ে কোনো সাধারণ ঐকমত্যে পৌঁছাতে পারেনি। এর ফলে বর্তমানে জোটের তিনটি দেশ—লিথুয়ানিয়া, স্পেন ও তুরস্ক—নিজ নিজ নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও আঞ্চলিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় ভিন্ন ভিন্ন যুদ্ধের জন্য তাদের সামরিক বাহিনী ও অস্ত্রভান্ডার প্রস্তুত করছে। লিথুয়ানিয়া পূর্ব ইউরোপে রাশিয়ার সম্ভাব্য হুমকি মোকাবিলায় মনোযোগ দিচ্ছে, স্পেন ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলে নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সজ্জিত হচ্ছে, অন্যদিকে তুরস্ক সিরিয়া, ইরাক ও পূর্ব ভূমধ্যসাগর নিয়ে বিভিন্ন সংঘাতে জড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনায় নিজেকে তৈরি করছে। এই বৈচিত্র্যময় অগ্রাধিকার ন্যাটোর সম্মিলিত প্রতিরক্ষা ব্যয়কে একটি অভিন্ন উদ্দেশ্যের পরিবর্তে একাধিক, কখনও কখনও ভিন্নমুখী, কৌশলগত লক্ষ্যে পরিচালিত করছে। প্রতিরক্ষা শিল্প ও পুঁজি বাজারের জন্য এ অবস্থা বড় ধরনের অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করেছে। বিনিয়োগকারী ও প্রতিরক্ষা ঠিকাদাররা জোটের প্রকৃত অগ্রাধিকার নিয়ে দ্বিধাগ্রস্ত, কারণ একই ব্যয় লক্ষ্যমাত্রার আওতায় বিভিন্ন দেশ নিজ নিজ হুমকি মোকাবিলার জন্য ভিন্ন ধরনের সামরিক সরঞ্জাম ও সক্ষমতা অর্জন করছে। এর ফলে প্রতিরক্ষা পুঁজির কার্যকর বরাদ্দ ও দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
ন্যাটোর ৫% ব্যয় লক্ষ্যমাত্রা: হুমকি নির্ধারণে জোটে বিভক্তি
প্রতিরক্ষা ব্যয় জিডিপির ৫ শতাংশে উন্নীত করতে সম্মত ন্যাটো সাধারণ হুমকি চিহ্নিত করতে ব্যর্থ হয়েছে। লিথুয়ানিয়া, স্পেন ও তুরস্ক বিভিন্ন যুদ্ধের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে, যা প্রতিরক্ষা পুঁজি বিনিয়োগে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।




