রাশিয়ার সামরিক বাহিনী যুদ্ধক্ষেত্রে বাংলাদেশি নাগরিকদের মোতায়েন করেছে বলে অভিযোগ তুলেছে ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের গোয়েন্দা অধিদপ্তর। তাদের দাবি, একটি আড়িপাতা অভিযানে রুশ সৈন্যদের এক ফোনালাপ রেকর্ড করা হয়, যেখানে এক সেনা সদস্য খারকিভ অঞ্চলে দুই বাংলাদেশি ‘বিদেশি ভাড়াটে যোদ্ধাকে’ খুঁজে পাওয়ার কথা স্বীকার করেন। ওই দুই ব্যক্তি যুদ্ধক্ষেত্রে দিকভ্রান্ত হয়ে পড়েছিলেন বলে কথোপকথনে ইঙ্গিত মেলে।

গোয়েন্দা সংস্থার বরাত দিয়ে জানা যায়, ফোনে কথা বলা রুশ সেনাটি ওই বাংলাদেশিদের কোনো কল সাইন বা নির্দিষ্ট অবস্থান সম্পর্কে অবগত ছিলেন না। তবে তিনি তাদের পরিচয় নিশ্চিত করতে সক্ষম হন এবং নাম দুটি ‘রুবি’ ও ‘মইসেল’ বলে উদ্ধৃত করেন। কথিত ভাড়াটে সেনারা রুশ সেনাকে একটি প্রতীকচিহ্নের ছবিও দেখিয়েছিলেন, যেখানে বাঘের মুখমণ্ডলের নকশা এবং ‘ষষ্ঠ অ্যাসল্ট’ (ব্রিগেড) লেখা বিদ্যমান ছিল।

ইউক্রেনের গোয়েন্দা সংস্থার বক্তব্য অনুযায়ী, রাশিয়ার সামরিক নেতৃত্ব বিদেশি ভাড়াটে যোদ্ধাদের প্রতি নিজস্ব সেনাদের মতোই নিষ্ঠুর আচরণ করে এবং ইচ্ছাকৃতভাবে তাদের প্রাণনাশের ঝুঁকির মধ্যে ঠেলে দেয়। এর আগে চলতি বছরের মার্চে খারকিভ ফ্রন্টের দায়িত্বপ্রাপ্ত ইউক্রেনীয় সামরিক মুখপাত্র ভিক্টর ট্রেহুবভ জানিয়েছিলেন, ওই অঞ্চলের যুদ্ধক্ষেত্রে অন্যান্য এলাকার তুলনায় রুশ বাহিনীর মধ্যে বিদেশি ভাড়াটে সেনার উপস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। পাশাপাশি, চাকরির মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে বাংলাদেশি যুবকদের ইউক্রেন যুদ্ধে অংশ নিতে বাধ্য করার অভিযোগও দীর্ঘদিন ধরে উঠে আসছে। রুশ যুদ্ধশিবির থেকে এর আগে এক বাংলাদেশি যুবকের আর্তি ফাঁস হয়েছিল, যেখানে তিনি জীবনের প্রতি অনীহা প্রকাশ করেন।

সংশ্লিষ্ট ফোনালাপে রুশ সেনাটি বাংলাদেশি এই দুই ব্যক্তির পরিচয় ও প্রতীক সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করলেও তাদের সঙ্গে কার্যকর যোগাযোগ স্থাপনে ব্যর্থ হন। ইউক্রেনীয় গোয়েন্দারা এই অডিও ক্লিপকে রাশিয়ার পক্ষে বিদেশি নাগরিকদের ব্যবহারের একটি প্রামাণ্য দলিল হিসেবে উপস্থাপন করছে।