মিসরের বিপক্ষে হাইভোল্টেজ বিশ্বকাপ ম্যাচে ম্যাচের ১৫তম মিনিটে গোল হজম করে বসে আর্জেন্টিনা। তবে ১৯ মিনিটে ম্যাচে ফেরার সুযোগ তৈরি হয় পেনাল্টি কিকে। বলটি নিতে এগিয়ে যান লিওনেল মেসি। কিন্তু গোলপোস্টের ডান দিকে নেওয়া তাঁর শটটি দুর্দান্ত দক্ষতায় আটকে দেন মিসরীয় গোলকিপার মোস্তফা শোবের। ঠিক সেই মুহূর্তেই গোলপোস্টের পেছনের গ্যালারিতে ঘটে যায় এক অদ্ভুত ঘটনা। সেখানে দাঁড়িয়ে ছিলেন জনপ্রিয় স্ট্রিমার ও ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর অন্ধভক্ত আই শো স্পিড। পেনাল্টি নেওয়ার ঠিক আগে মেসির মনোযোগ নষ্ট করতে তিনি জোরে জোরে কুকুরের মতো ঘেউ ঘেউ করতে থাকেন, হাত-পা অদ্ভুতভাবে নাড়িয়ে চিৎকার করেন। মেসি যখন পেনাল্টি মিস করেন, স্পিড নিজেই অবাক হয়ে যান এবং লাইভ চ্যাটে আনন্দে চিৎকার করে বলেন, 'এটা কি আসলেই কাজ করেছে? চ্যাট, এটা কি কাজ করেছে?' তবে নিশ্চিত করে বলা যায় না যে শুধুমাত্র স্পিডের এই কর্মকাণ্ডের কারণেই মেসি পেনাল্টি মিস করেছেন। বিশ্বকাপে মেসির পেনাল্টি রেকর্ড অবশ্য ভালো নয়। চলতি আসরে অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে পেনাল্টি মিস করার পর মিসরের বিপক্ষেও ব্যর্থ হন তিনি। টাইব্রেকার বাদ দিয়ে একই বিশ্বকাপে দুটি পেনাল্টি মিস করা ইতিহাসের প্রথম খেলোয়াড় এখন মেসি। তবে শেষ পর্যন্ত কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছে গেছে আর্জেন্টিনা।
কে এই আই শো স্পিড? তাঁর আসল নাম ড্যারেন জেসন ওয়াটকিন্স জুনিয়র। ইন্টারনেট দুনিয়ায় তিনি 'আই শো স্পিড' বা 'স্পিড' নামেই বেশি পরিচিত। যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইওতে জন্ম নেওয়া স্পিড একাধারে অনলাইন স্ট্রিমার, ইনফ্লুয়েন্সার, ইউটিউবার ও র্যাপার। লাইভ স্ট্রিমিংয়ে অদ্ভুত কাণ্ডকারখানা, অতিরিক্ত উত্তেজনা ও চিৎকার চেঁচামেচির জন্য তিনি বিশ্বজুড়ে পরিচিত। জেন-জি ও জেন-আলফার সদস্যরা তাঁর সবচেয়ে বড় ভক্ত।
২০১৬ সালে নিজের ইউটিউব চ্যানেল খোলেন স্পিড। শুরুতে গেম খেলার ভিডিও দিলেও ২০২১ সালের দিকে লাইভ স্ট্রিমিংয়ে তাঁর মজার ও উগ্র প্রতিক্রিয়ার কারণে দ্রুত সবার নজরে আসেন। পরে বিখ্যাত ইউটিউবার মিস্টার বিস্টের সঙ্গে বেশ কিছু ভিডিও করার সুযোগ পান। ২০২২ সাল থেকে ফুটবল নিয়ে ভিডিও বানানো শুরু করেন এবং নিজেকে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর অন্ধভক্ত হিসেবে পরিচয় দিতে থাকেন। মূলত রোনালদোকেই কেন্দ্র করে তাঁর বেশির ভাগ ফুটবল ভিডিও। র্যাপার হিসেবেও স্পিড পরিচিত। চলতি বিশ্বকাপের অফিশিয়াল অ্যালবামে তাঁর 'চ্যাম্পিয়নস' গানটি জায়গা করে নিয়েছে।
স্পিড বেশ কয়েকবার বিশ্বের সেরা 'স্ট্রিমার অব দ্য ইয়ার' পুরস্কার জিতেছেন। এই জনপ্রিয়তার কারণেই ফিফা তাঁকে অফিশিয়াল স্ট্রিমার হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে। বর্তমানে ইউটিউবে তাঁর সাবস্ক্রাইবার ৫৭ মিলিয়নের বেশি, ইনস্টাগ্রামে ৪৫ মিলিয়ন ও টিকটকে ৪৭ মিলিয়ন ফলোয়ার। তিনি বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় ইন্টারনেট সেলিব্রেটি।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে স্পিড যে দলের জার্সি পরে মাঠে খেলা দেখতে গেছেন, সেই দলই হেরে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিয়েছে। আইভরিকোস্ট, কেপ ভার্দে, ব্রাজিল—সব দলের জার্সি পরে তাদের সমর্থন করেও শেষ পর্যন্ত হেরেছে দলগুলো। আর্জেন্টিনা-মিসর ম্যাচে তিনি মিসরের জার্সি পরে ছিলেন। আগে আর্জেন্টিনার জার্সি পরা একটি ছবি ভাইরাল হলেও সেটি এআই দিয়ে তৈরি। তাই এবার আর্জেন্টিনার বদলে মিসরের ভাগ্য খারাপ হয়েছে বলে অনেকের ধারণা।




