মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিমান বাহিনী নেভাডায় নজিরবিহীন বড় পরিসরের যুদ্ধ মহড়া সম্পন্ন করেছে, যেখানে ফাইটার পাইলটরা একযোগে একাধিক ‘সহযোগী যুদ্ধবিমান’ (Collaborative Combat Aircraft - CCA) পরিচালনা করেন। এই চালকবিহীন সিস্টেমের মধ্যে ছিল ওয়াইএফকিউ-৪৪এ ফিউরি ও ওয়াইএফকিউ-৪২এ ডার্ক মার্লিন।

নকল যুদ্ধ অভিযানে বিমান সৈনিকদের সঙ্গে নিয়ে এই স্বয়ংক্রিয় বিমানগুলো উড্ডয়নের অনুশীলন চালানো হয়। বিমান বাহিনীর প্রধান স্টাফ জেনারেল কেন উইলসবাখ এক বিবৃতিতে মন্তব্য করেন, “আমাদের বিমান সৈনিকদের পাশে উড়তে চালকবিহীন সিস্টেম সমন্বিত করার মাধ্যমে আমরা যুদ্ধের নাগাল বাড়াতে ও প্রাণঘাতীতা বৃদ্ধি করতে সক্ষম হচ্ছি।”

যদিও এর আগে সীমিত পরিসরে ‘অনুগত সহযোদ্ধা’ হিসেবে বড় চালকবিহীন বিমান পরিচালনার প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছিল, ক্রীচ বিমান বাহিনী ঘাঁটির এই মহড়াই প্রথম ঘটনা যেখানে সহযোগী যুদ্ধবিমানগুলো বৃহৎ পরিণত যুদ্ধ মহড়ায় বিমান সেনানীদের সঙ্গে অংশ নেয়। এই উদ্যোগের লক্ষ্য ছিল দ্রুত ও ব্যাপক হারে স্বয়ংক্রিয় বিমানগুলোকে সমর মহড়ায় যুক্ত করা।

যুদ্ধের ক্রমবর্ধমান যন্ত্রীকরণের ক্ষেত্রে এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে, মহড়া চলাকালে ফিউরি এআইএম-১২০ অ্যামর্যাম (AIM-120 AMRAAM) আকাশ-থেকে-আকাশে নিক্ষেপ করা ক্ষেপণায়ক নিক্ষেপ করে। এই হালকা কিন্তু শক্তিশালী স্ব-নির্দেশিত ক্ষেপণায়ক শব্দের চেয়ে দ্রুতগতিতে উড়ে দৃষ্টিসীমার বাইরের লক্ষ্যবস্তুতে চরম নির্ভুলতায় আঘাত হানে। এটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় সব ফাইটার জেটে ব্যবহৃত হয়। একটি স্বয়ংক্রিয় সিস্টেম কর্তৃক স্ব-নির্দেশিত ক্ষেপণায়ক ব্যাবহার যন্ত্র-থেকে-যন্ত্রের পারস্পরিক সহযোগনার এক অভূতপূর্ব দৃষ্টা।

বর্তমানে বিমান বাহিনী দ্রুত গতিতে ১,০০০ স্বয়ংক্রিয় বিমান মোতায়েনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। গত মাসে তারা সহযোগী যুদ্ধবিমানের উৎপাদন বাড়াতে কয়েকটি চুক্তি প্রদান করে। ওয়াইএফকিউ-৪২-এর জন্য জেনারেল অ্যাটোমিক্স ও ওয়াইএফকিউ-৪৪-এর জন্য অ্যান্ডুরিলকে প্রকৌশল, উন্নয়ন ও উৎপাদনের চুক্তি দেওয়া হয়, পাশাপাশি স্বয়ংক্রিয় সফটওয়্যার বিকাশের জন্যও অতিরিক্ত চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

নেরাদায় অনুষ্ঠিত যুদ্ধ মহড়ার পরিধি এবং এখন স্বয়ংক্রিয় বিমানগুলো যে ধরণের কার্যক্রম চালাচ্ছে, তা ইঙ্গিত দেয় যে চালকবিহীন নৌযানের পাশাপাশি চালকবিহীন ফাইটার বিমান ভবিষ্যতের যুদ্ধ পরিচালনার ধরন নির্ধারণ করবে।