আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থীদের বিজয়ী করতে বিখ্যাত ধনকুবের ইলন মাস্ক তার সুপার পলিটিক্যাল অ্যাকশন কমিটিকে (পিএসি) প্রায় ১২ কোটি ডলার ব্যয়ের অনুমতি দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার দ্য নিউ ইয়র্ক টাইম্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য ফাঁস হয়, যা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে মাস্কের উঠতি-পড়তি সম্পর্কের মধ্যেই জিওপির সঙ্গে তার জোটকে আরও সুসংহত করার ইঙ্গিত বহন করছে।

পরিকল্পনা সম্পর্কে জানা দুটি নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সূত্রের বরাত দিয়ে টাইমস জানিয়েছে, মাস্কের 'আমেরিকা পিএসি' ১০ থেকে ১২ কোটি ডলার খরচ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। এই তহবিল প্রাথমিকভাবে কমপক্ষে আটটি রাজ্যের সিনেট আসন এবং একাধিক হাউস প্রতিনিধি সভার আসনের প্রতিদ্বন্দ্বিতায় মনোনিবেশ করবে। সংস্থাটি টাইমসকে জানায়, তারা 'অবধারিত সিনেট ও হাউস রেসগুলোতে আক্রমণাত্মক ও রক্ষণাত্মক—উভয় ক্ষেত্রেই সক্রিয় থাকবে' এবং '২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনের জন্য এক ঐতিহাসিক ভোটার উপস্থিতি নিশ্চিতকরণ কার্যক্রম' পরিচালনা করবে। অ্যাক্সিওসের বুধবারের এক প্রতিবেদনে বেনামি সূত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়, আমেরিকা পিএসি তাদের প্রচেষ্টা মূলত সেইসব রিপাবলিকান ভোটারকে সক্রিয় করার দিকে ব্যয় করবে, যারা অ-রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের বছরে সাধারণত ভোট দিতে যান না।

টাইমস-এর মতে, প্রাথমিক লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে রয়েছে আলাস্কা, আইওয়া, মেইন, মিশিগান ও ওহাইওর সিনেট আসন এবং উত্তর ক্যারোলাইনা, জর্জিয়া ও টেক্সাসের প্রতিদ্বন্দ্বিতায়ও জড়িত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। উল্লেখ্য, এই ব্যাপক অর্থব্যয়ের সময় আমেরিকা পিএসি তদন্তের সম্মুখীন, কারণ গত বছর এপ্রিলে উইসকনসিনের দুই ভোটারকে 'সক্রিয় বিচারপতিদের বিরোধিতায় আবেদন'-এ স্বাক্ষরের বিনিময়ে ১০ লাখ ডলার পুরস্কার হিসেবে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

২০২৪-এর নির্বাচনী চক্র থেকে আমেরিকা পিএসি-র ফেডারেল নির্বাচন কমিশনে দাখিল করা নথিপত্র বলছে, তাদের ব্যয়ের সিংহভাগই ভোটার যোগাযোগ, আইনি সহায়তা ও বিজ্ঞাপনে নিবিষ্ট। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত তারা অস্টিনভিত্তিক রাজনৈতিক আইন সংস্থা লেক্স পলিটিকাকে ২৩ লাখ ডলার পরিশোধ করেছে, যার সহ-প্রতিষ্ঠাতা আমেরিকা প্যাকের সাবেক আইনজীবী।

রিপাবলিকানদের হাউস ও সিনেটে তাদের ক্ষীণ সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারানোর আশঙ্কা রয়েছে, যার পেছনে অন্যতম কারণ ট্রাম্পের ক্রমহ্রাসমান জনপ্রিয়তা, অর্থনীতি নিয়ে অব্যাহত অসন্তোষ এবং ইরান যুদ্ধের প্রতি রিপাবলিকানদের ক্রমবর্ধমান নেতিবাচক মনোভাব। বুধুবার প্রকাশিত একটি সিএনএন জরিপ অনুযায়ী, সাধারণ কংগ্রেসের ভোটের প্রশ্নে ডেমোক্র্যাটরা রিপাবলিকানদের চেয়ে ৮ পয়েন্ট এগিয়ে এবং অত্যন্ত সক্রিয় ভোটারদের মধ্যে তাদের সুবিধা ২০ পয়েন্ট। এদিকে, এ সপ্তাহে প্রকাশিত একাধিক জরিপে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা রেকর্ড নিম্নে নেমে গেছে।

ট্রাম্পের ২০২৪ সালের নির্বাচনে বিজয়ী করতে মাস্ক ২৬ কোটি ডলারেরও বেশি ব্যয় করে ইতিহাসের সর্ববৃহৎ রাজনৈতিক দাতা হয়ে ওঠেন। ট্রাম্প প্রশাসনের সাথে তার মনোমালিন্য ও দল ত্যাগের পর সাম্প্রতিক সময়ে রিপাবলিকান রাজনীতিতে তার এই প্রত্যাবর্তন বিষয়টি ইঙ্গিত দেয় যে পূর্বের অভিমান কমে আসতে পারে। তিনি আগে জিওপি-র নিন্দা করে নিজের দল গঠনের অঙ্গীকার করলেও পরবর্তীতে ট্রাম্পের সাথে সম্পর্ক আংশিক মেরামত করেন। গত বছর ট্রাম্পের অভিশংসনের দাবি ও জেফ্রি এপস্টাইন-এর মতো বিতর্কিত প্রসঙ্গে করা বেশ কিছু আপত্তিকর পোস্ট মুছে ফেলেন এবং টুইট করে অনুশোচনা প্রকাশ করেন। এরপর থেকে একাধিক বার তারা জনসম্মুখে একত্রিত হয়েছেন, এমনকি এই বছরের শুরুতে ট্রাম্পের চীন সফরেও তাঁর সাঙ্গে গিয়েছিলেন।

রাজনীতির বিষয়ে নিজের অবস্থান সম্পর্কে মাস্ক গত সপ্তাহে দ্য ইকোনমিস্ট-কে বলেছেন, 'আমার মনে হয় আমি রাজনীতিতে কিছুটা বেশি জড়িয়ে পড়েছি, সত্যি বলতে বয়ে গিয়েছিলাম।' গত বছরের মে মাসে ব্লুমবার্গকে তিনি বলেছিলেন, 'রাজনৈতিক ব্যয়ের দিক থেকে, আমি ভবিষ্যতে অনেক কম করব।'