অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট ইতিহাসে বাংলাদেশের হয়ে প্রথম সেঞ্চুরির কীর্তি গড়লেন তানজিদ হাসান। ডারউইনে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের একমাত্র টেস্টের দ্বিতীয় দিনে ১৮৮ বলে ১০১ রানের দায়িত্বশীল ইনিংস খেলে দলকে শক্ত অবস্থানে নিয়ে যান এই বাঁহাতি ওপেনার। মে মাসে সিলেটে পাকিস্তানের বিপক্ষে অভিষেকের পর এটি ছিল তার দ্বিতীয় টেস্ট। এর আগে ৪০ ওয়ানডে ও ৫৩ টি-টোয়েন্টিতে খেলা তানজিদ সব ধরনের ক্রিকেটেই নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছেন। টি-টোয়েন্টিতে ১৩টি ফিফটির পাশাপাশি ওয়ানডেতে রয়েছে ৯টি ফিফটি ও একটি সেঞ্চুরি। টেস্ট অভিষেকের অপেক্ষা ছিল শুধু লাল বলের ক্রিকেটে। ডারউইনের সবুজ উইকেটে প্যাট কামিন্স, জস হ্যাজলউড ও ওয়েবস্টারের মতো বোলারদের মোকাবিলা করে নিজের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরি পূরণ করলেন তিনি।
ম্যাচের ৬৪তম ওভারের শেষ বলে নাথান লায়নকে লং অফে ঠেলে এক রান নিয়েই সেঞ্চুরি স্পর্শ করেন তানজিদ। রান সম্পন্ন করার পরই ড্রেসিংরুমের দিকে ব্যাট উঁচিয়ে উদযাপনে মেতে ওঠেন তিনি। তার এই ইনিংসে আগের দিন ওপেনার সাদমান ইসলাম ও আজ প্রথম সেশনে মুমিনুল হকের উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশ ২৩০ রানে ২ উইকেট হারিয়ে ফেলে। অস্ট্রেলিয়ার প্রথম ইনিংসের ১৯৮ রানের বিপরীতে বাংলাদেশ তখন ৩২ রানে এগিয়ে। মুমিনুলের সঙ্গে দ্বিতীয় উইকেটে ১০২ রানের জুটি গড়েন তানজিদ। তবে ফিফটি থেকে মাত্র ১ রান দূরে থাকতে মুমিনুল আউট হয়ে গেলে জুটিটা ২০০৩ সালে কেয়ার্নসে হাবিবুল বাশার ও হান্নান সরকারের ১০৮ রানের রেকর্ড স্পর্শ করতে পারেনি।
প্রথম ৫০ রান তানজিদ করেন ১০২ বলে, যেখানে ছিল ৫টি চার। পরবর্তী ৫০ রান আসে মাত্র ৮৬ বলে, সেখানে ছিল আরও ৩টি চার ও একটি ছক্কা। ওয়েবস্টারকে ডাউন দ্য উইকেট গিয়ে মারা সেই ছক্কাটিই ছিল ইনিংসের সবচেয়ে আকর্ষণীয় শট। ১৯৭ বল খেলে ১০১ রানে আউট হন তিনি। তবে তার আগেই দলকে সুসংহত অবস্থানে নিয়ে যান।
এর আগে প্রথম ইনিংসে ১৯৮ রানে অলআউট হওয়া অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে শেষ সেশনেই ১ উইকেটে ৯৬ রান তুলে ফেলে বাংলাদেশ। কিন্তু দিন শেষে সংবাদ সম্মেলনে স্টিভেন স্মিথ জানান, উইকেটটি বেশ 'ট্রিকি' এবং বাংলাদেশের জন্য দ্বিতীয় দিন ব্যাটিং করা কঠিন হবে। তবে আজ সকাল থেকেই অস্ট্রেলিয়ান বোলারদের আক্রমণ ও ফিল্ডারদের বাক্যবাণ কোনোটিই তানজিদের মনোযোগ ভাঙতে পারেনি। উল্টো স্মিথের কথাকে চ্যালেঞ্জ হিসেবেই নিয়েছিলেন বাংলাদেশি ব্যাটসম্যানরা। বাংলাদেশ দলের এক সদস্যের ভাষ্য অনুযায়ী, উইকেট নিয়ে স্মিথের মন্তব্য আসলে 'মাইন্ডগেম' ছাড়া কিছু নয়, উইকেটে তেমন কিছুই নেই।
মজার বিষয় হলো, তানজিদের সেঞ্চুরিতে কিছুটা অবদান আছে স্মিথেরও। ব্যক্তিগত ৬২ রানে স্লিপে তানজিদের ক্যাচ নিতে পারেননি স্মিথ, ফলে বেঁচে যান তানজিদ। সেঞ্চুরির পর আউট হলেও তানজিদের ইনিংসটি অস্ট্রেলিয়ানদের কাছে বিস্ময় হয়ে এসেছে। কারণ, মাত্র দ্বিতীয় টেস্ট খেলতে নামা এই ব্যাটসম্যান বিশ্বমানের বোলিং আক্রমণের বিপক্ষে যেভাবে ড্রাইভ ও পাঞ্চ করেছে, তা দেখে বোঝার উপায় নেই যে তার অভিজ্ঞতা সামান্যই।
সেঞ্চুরির ঠিক আগে ফিফটি পূর্ণ করেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেনও। ফলে, অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে লড়াই করার যে বার্তা বাংলাদেশ দল দিতে চেয়েছিল, তানজিদের ইনিংসে তা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।




