মুক্তির আগেই ব্যাপক আলোড়ন তুলেছে দক্ষিণ কোরিয়ার সিনেমা ‘হোপ’। দেশটির চলচ্চিত্র ইতিহাসের সবচেয়ে বেশি ব্যয়ের এই ছবিটি আগামীকাল বুধবার (১৫ জুলাই) প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেতে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে অগ্রিম টিকিট কিনতে দর্শকরা লাইন দিচ্ছেন। কোরিয়ান ফিল্ম কাউন্সিলের তথ্য অনুযায়ী, গত সোমবার সকাল পর্যন্ত বিক্রি হওয়া আগাম টিকিটের ৬২ দশমিক ১ শতাংশই ছিল ‘হোপ’-এর। সে সময় প্রায় ৩ লাখ ৯০ হাজার টিকিট বুকিং হয়েছে, যা চলতি বছরের মধ্যে কোনো সিনেমার জন্যই দ্রুততম। দ্বিতীয় স্থানে থাকা ‘স্পাইডার-ম্যান: ব্র্যান্ড নিউ ডে’ মুক্তি পাবে ২৯ জুলাই, ফলে প্রথম দুই সপ্তাহে বড় প্রতিদ্বন্দ্বী নেই এই ছবিটির।

পরিচালক না হং-জিন গত দুই দশকে মাত্র তিনটি সিনেমা বানিয়েছেন—‘দ্য চেজার’, ‘দ্য ইয়েলো সি’ ও ‘দ্য ওয়েইলিং’। তিনটিই সমালোচক ও দর্শকদের প্রশংসা কুড়িয়েছিল। দীর্ঘ ১০ বছর পর নতুন ছবি নিয়ে ফিরছেন এই নির্মাতা। ‘হোপ’-এর শুটিং শেষ হয় ২০২৪ সালের মার্চে। প্রাথমিকভাবে ২০২৫ সালে মুক্তির পরিকল্পনা থাকলেও দীর্ঘ পোস্ট-প্রোডাকশনের কারণে তা পিছিয়ে যায়। গত মে মাসে কান চলচ্চিত্র উৎসবের প্রতিযোগিতা বিভাগে এর প্রিমিয়ার হয়। সেখানে ভিজ্যুয়াল ইফেক্ট নিয়ে কিছু সমালোচনা হলেও মুক্তির আগে সেগুলো আরও উন্নত করা হয়েছে। সম্প্রতি সিউলে সংবাদমাধ্যমের জন্য বিশেষ প্রদর্শনীতে সিনেমাটি ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া পায়, বিশেষ করে অ্যাকশন দৃশ্যের প্রশংসা করেন সমালোচকেরা।

শুধু বক্স অফিসের হিসাব নয়, ‘হোপ’-এর সাফল্যের সঙ্গে জড়িয়ে আছে পরিবেশক প্রতিষ্ঠান প্লাস এম এন্টারটেইনমেন্টের ভবিষ্যৎ। গত মাসে প্লাস এম, মাল্টিপ্লেক্স চেইন মেগাবক্স ও তাদের মূল প্রতিষ্ঠান জুংআং গ্রুপের কয়েকটি সহযোগী প্রতিষ্ঠান আদালতে দেউলিয়া সুরক্ষার আবেদন করে। এতে দক্ষিণ কোরিয়ার চলচ্চিত্র ব্যবসায় অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। বিশ্লেষকদের ধারণা, ‘হোপ’ ভালো ব্যবসা করলে প্রতিষ্ঠানটি ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ পাবে।

সরকারও দর্শক বাড়াতে নানা উদ্যোগ নিয়েছে। ৮ জুলাই থেকে ২০ লাখ ৫০ হাজার সিনেমার টিকিটে ছয় হাজার ওন করে ছাড়ের কুপন দিচ্ছে দক্ষিণ কোরিয়ার সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়। ধারণা করা হচ্ছে, এই সুবিধা সবচেয়ে বেশি পাবে ‘হোপ’। এর আগে মে মাসে একই কর্মসূচি চালুর পর এক সপ্তাহে দেশটির বক্স অফিসের আয় প্রায় ৪৮ শতাংশ বেড়েছিল।

করোনার ধাক্কা কাটিয়ে ধীরে ধীরে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে দক্ষিণ কোরিয়ার সিনেমার বাজার। কোরিয়ান ফিল্ম কাউন্সিলের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে বক্স অফিসের আয় মহামারির আগের সময়ের ৭৩ দশমিক ২ শতাংশে পৌঁছেছে, যা ২০২০ সালের পর সর্বোচ্চ। প্রথমার্ধে দেশীয় সিনেমার আয়ও বেড়েছে ৮১ দশমিক ৭ শতাংশ। এ বছর সবচেয়ে বেশি দর্শক টেনেছে ‘দ্য কিংস ওয়ার্ডেন’, যা প্রায় ১ কোটি ৬৯ লাখ টিকিট বিক্রি করেছে। এখন সবার নজর ‘হোপ’-এর দিকে—দক্ষিণ কোরিয়ার ইতিহাসের সবচেয়ে ব্যয়বহুল এই সিনেমা প্রত্যাশা পূরণ করতে পারে কি না, সেটিই দেখার।