বর্তমানে নিজেকে একা পেয়ে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন হলিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী ও গায়িকা জেনিফার লোপেজ। সম্প্রতি একটি ইন্টারনেট টক শোতে অংশ নিয়ে তিনি জানান, একা থাকাটাই এখন তাঁর কাছে সবচেয়ে স্বাভাবিক ও আরামদায়ক। এ প্রসঙ্গে তিনি মজার ছলেই বলেন, ‘আমার এটা আরও আগেই করা উচিত ছিল। আমি এত দিন সবকিছু ভুলভাবে করেছি।’ তবে ভালোবাসার ওপর থেকে তাঁর আস্থা এখনো অটুট রয়েছে। ভবিষ্যতে কারও সঙ্গে দেখা হলে সেটি শুধু তখনই হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন, যদি সেই ব্যক্তি সত্যিই তাঁর জন্য যথেষ্ট উপযুক্ত হয়।

পুরুষের চেহারা বা গঠন নিয়ে তিনি কোনো বৈষম্য করেন না বলেও জানান লোপেজ। রোগা, ভুঁড়িওয়ালা, দাড়িওয়ালা বা ক্লিন-শেভড—যে কেউই তাঁর পছন্দ হতে পারে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, মানুষের বাহ্যিক রূপ নয়, বরং ভেতরের মানুষটাই তাঁর কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার বিষয়ে নিজের দৃষ্টিভঙ্গি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে লোপেজ বলেন, বিচ্ছেদ মানে কোনো ব্যর্থতা নয়। বরং এটি নিজের আরও ভালো সংস্করণের দিকে এগিয়ে যাওয়ার একটি লঞ্চপ্যাড হিসেবে কাজ করে। তাঁর মতে, সম্পর্ক শেষ হলে তা উদযাপন করাই উচিত। তিনি বলেন, ‘যদি কেউ জানতে চায় তোমাদের বিচ্ছেদ হয়েছে কি না, তখন উত্তর হওয়া উচিত “অভিনন্দন!” কারণ প্রথমত, তোমরা একটি সিদ্ধান্ত নিয়েছ; দ্বিতীয়ত, সম্ভবত সেটিই সবার জন্য সর্বোত্তম সিদ্ধান্ত ছিল।’

হৃদয় ভাঙার অভিজ্ঞতা সম্পর্কে লোপেজের ধারণা, এটিই জীবনের সবচেয়ে বড় শিক্ষা এনে দেয়। তাঁর মতে, আবেগগত ও মানসিকভাবে যেসব বড় পরিবর্তন তিনি নিজের মধ্যে দেখেছেন, তার বেশির ভাগই এসেছে হৃদয় ভাঙার পর। শুধু প্রেম নয়, পেশাগত জীবনেও একই ঘটনা ঘটেছে। সেই সময়েই মানুষ নিজেকে সবচেয়ে বেশি প্রশ্ন করতে শুরু করে—কেন এমন হলো, কী ভুল হলো, আর কী ভালো করা যেত—এই প্রশ্নগুলোই মানুষকে বদলে দেয়।

যে সম্পর্ক ভাঙার সিদ্ধান্ত নেয়, লোপেজের মতে প্রকৃত বিজয়ী সে নয়। বরং যাকে ছেড়ে যাওয়া হয়, তারাই আসল বিজয়ী। তিনি বলেন, ‘আপনি যদি সারা জীবন মানুষের হৃদয় ভেঙে বেড়ান, তাহলে পরাজিত আসলে আপনিই।’

লোপেজের আলোচিত সম্পর্কের তালিকায় সবশেষে রয়েছেন অভিনেতা বেন আফ্লেক। ২০০০-এর দশকের শুরুতে তাঁদের প্রেম শুরু হয়, কিন্তু ২০০৪ সালে বাগদান ভেঙে যায়। দীর্ঘ বিরতির পর ২০২১ সালে আবার এক হন এবং ২০২২ সালে বিয়ে করেন। তবে সেই সংসার মাত্র দুই বছর টিকে। এর আগে ২০০৪ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত গায়ক মার্ক অ্যান্থনির সঙ্গে সংসার করেছিলেন লোপেজ, যাঁর ঘরে তাঁর ১৮ বছর বয়সী যমজ সন্তান ম্যাক্স ও এমে রয়েছে।

সম্প্রতি ‘অফিস রোমান্স’ ছবির সহশিল্পী ব্রেট গোল্ডস্টেইনের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক নিয়ে গুঞ্জন উঠলেও, গত মে মাসে পিপল ম্যাগাজিনকে দেওয়া এক সূত্র জানায়, বর্তমানে লোপেজ একাই ভালো আছেন এবং সুখী থাকার জন্য তাঁর কোনো প্রেমের প্রয়োজন নেই।