বাংলাদেশের ওটিটি প্ল্যাটফর্ম চরকির আয়োজনে সেনসেশন চরকি কার্নিভ্যালে অংশ নিতে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় আসে শিশুশিল্পী ত্রিধা পাল মান্। বাবা-মায়ের সঙ্গে শনিবার সকালে রওনা দিয়ে আড়াইশ কিলোমিটারের বেশি পথ পাড়ি করে তারা। ঢাকায় পৌঁছে এক আত্মীয়ের বাসায় কিছুক্ষণ বিশ্রাম নেয়ার পর সন্ধ্যায় কার্নিভ্যালে যোগ দেয় মান্। অনুষ্ঠান শেষে আর এক মুহূর্ত দেরি না করে আবার চট্টগ্রামের উদ্দেশে রওনা হয় সে। কারণ, পরদিনই ছিল তার স্কুলের পরীক্ষা।

মানের মা প্রথম আলোকে জানান, অনুষ্ঠানে যাওয়ার জন্য মান্ নিজের সাজ নিজেই করেছিল। এত দীর্ঘ ভ্রমণ ও ব্যস্ততার মধ্যেও তার উচ্ছ্বাসে কোনো কমতি ছিল না। গত ঈদুল ফিতরে মুক্তিপ্রাপ্ত তানিম নূর পরিচালিত ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ সিনেমায় নীতু চরিত্রে অভিনয় করে দর্শকের ভালোবাসা কুড়িয়েছে মান্। এর আগে নুহাশ হুমায়ূনের ওয়েব সিরিজ ‘২ষ’-এ অভিনয় করে পরিচিতি পায় সে।

কার্নিভ্যালে ঢুকতেই দীর্ঘদিন পর নুহাশ হুমায়ূনের সঙ্গে দেখা হয় মানের। মান্ প্রথম আলোকে জানায়, ‘নুহাশ আঙ্কেলের সঙ্গে অনেক দিন পর দেখা হয়েছে। আমাকে দেখেই বললেন, “আরে মান্, তোমাকে তো এখন সবাই চেনে। তুমি অনেক বড় তারকা।” তখন আমি বলেছি, “আঙ্কেল, আপনিই তো আমাকে প্রথম সুযোগ দিয়েছিলেন।”’ ‘বনলতা এক্সপ্রেস’-এ মোশাররফ করিম ও শরীফুল রাজের সঙ্গেও পর্দা ভাগ করে মান্। কার্নিভ্যালে তাঁদের সঙ্গেও দেখা হয়। ছোট্ট এই অভিনেত্রী বলেন, ‘মোশাররফ আঙ্কেল তো আমার সবচেয়ে প্রিয় অভিনেতা। আমাকে দেখেই বললেন, “মান্, তুমি এসেছ!” আর রাজ আঙ্কেল পাশে থাকা সবাইকে দেখিয়ে বললেন, “এই যে, আমাদের বনলতা এক্সপ্রেসের সবার আদরের মান্।”’

নুহাশ হুমায়ূনের ‘২ষ’ ওয়েব সিরিজে জয়া আহসানের সঙ্গেও অভিনয় করেছিল মান্। চরকি কার্নিভ্যালে জয়ার ঠিক পেছনের সারিতেই বসেছিল সে। অনুষ্ঠানের ফাঁকে দুজনে একসঙ্গে ছবিও তোলে। এ সময় স্নেহভরে মানের খোঁজখবর নেন জয়া। শুধু তাঁরা নন, তারিক আনাম খান, শহীদুজ্জামান সেলিম, জাহিদ হাসান, আফরান নিশোসহ ওটিটির অনেক পরিচিত মুখের সঙ্গেই দেখা হয়েছে মানের। এ ছাড়া রায়হান রাফী, স্পর্শিয়া, সাফা কবির, দীঘি ও সাদিয়া আয়মানদের সঙ্গেও ছবি তুলেছে সে। মানের সঙ্গেও ছবি তুলেছেন অনেকে। রেড কার্পেটেও হেঁটেছে মান্।

তবে তারকাদের সঙ্গে দেখা হওয়ার আনন্দের মাঝেও ছোট্ট একটি কষ্ট ছিল মানের মনে। একে একে সবার হাতে পুরস্কার উঠতে দেখে পাশেই মাকে জিজ্ঞেস করেছিল, ‘আমি কি পাব না?’ মা তাকে বুঝিয়ে বলেছেন, ‘নিশ্চয়ই তুমি একদিন পাবে।’ মায়ের কথা শুনে মুখে হাসি ফেরে মানের।