অভিনেত্রী অঞ্জলি দিনেশ আনন্দ সম্প্রতি তাঁর কর্মজীবনের একটি বাস্তব চিত্র তুলে ধরে জানিয়েছেন, আর্থিক সংকট ও পারিবারিক দায়িত্বের কারণে তাকে ‘ধামাল ৪’-এর মতো ছবিতেও অভিনয় করতে হচ্ছে, যেখানে তাঁর শারীরিক গঠন নিয়ে কৌতুক করা হয়েছে। একটি সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, আদর্শ আর বাস্তবতার মধ্যে পার্থক্য রয়েছে এবং সংসার চালানোর জন্য তাকে সব ধরনের চরিত্রই গ্রহণ করতে হচ্ছে।
সম্প্রতি কনটেন্ট নির্মাতা সৌম্য দুবে একটি ভিডিও প্রকাশ করে প্রশ্ন তোলেন, যিনি শরীর নিয়ে ইতিবাচক বার্তা দেন, তিনি কীভাবে এমন একটি চলচ্চিত্রে অভিনয় করতে পারেন যেখানে তাঁর ওজন নিয়ে প্রতিটি দৃশ্যে বিদ্রুপ করা হয়েছে। সৌম্যের ভাষ্য, ‘ধামাল ৪’ দেখে তিনি মারাত্মক হতাশ হয়েছেন, কারণ অঞ্জলি পর্দায় এলেই হাতির শব্দ বাজানো হয়েছে এবং তাঁর সংলাপগুলো কেবল ওজনকেই লক্ষ্য করে রচিত। সৌম্য মনে করেন, এটি বডি পজিটিভিটির বিরুদ্ধে যাওয়া।
অভিনেত্রী অবশ্য এই সমালোচনার জবাব দিতে দেরি করেননি। ভিডিওটির মন্তব্য বিভাগে তিনি লেখেন, সমাজ এখনও কুৎসিত এবং তাঁর সামাজিক মাধ্যমের পাতায় আসা মন্তব্যগুলোই তার প্রমাণ। তিনি আরও উল্লেখ করেন, তাঁর কাছে এখন কাজ বাছাই করার সুযোগ নেই। ‘আমার সংসার চালাতে হবে, খাবার কিনতে হবে, তাই তেতো ওষুধ গিলেই সেই কাজ করছি যা আমার কাছে আসছে,’ মন্তব্য করেন অঞ্জলি।
পাশাপাশি, অঞ্জলি প্লাস-সাইজ অভিনেতাদের প্রতি ইন্ডাস্ট্রির দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনের ব্যাপারে আশাবাদী। তিনি বলেন, তিনি জানেন পরিবর্তন রাতারাতি আসবে না, তবে তিনি সেই অপেক্ষা করতে প্রস্তুত। ‘যদি কোনো নির্মাতা একজন পূর্ণকায় শিল্পীকে কাস্ট করতে চান, তাহলে আমি এমনভাবে সেই চরিত্র করব যা কেউ ভুলতে পারবে না,’ দাবি করেন তিনি।
অভিনেত্রী তাঁর সমালোচকদের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে বলেন, কোনো অভিনেতাকে শুধু চরিত্রের বিচার না করে তাঁর অভিনয় ও প্রতিভা দেখতে বলা উচিত। একটি উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, একজন অভিনেতা যদি পর্দায় ধারাবাহিক খুনির ভূমিকা পালন করেন, তার অর্থ এই নয় যে তিনি হত্যাকে সমর্থন করেন। একইভাবে, তাঁকে শুধু শারীরিক গঠনের মাপকাঠিতে বিচার না করার আহ্বান জানান।
উল্লেখ্য, ‘ধাই কিলো প্রেম’, ‘আনট্যাগ’, ‘রকি অউর রানি কি প্রেম কাহানি’-এর মতো একাধিক চলচ্চিত্রে অভিনয় করা অঞ্জলি সম্প্রতি ইন্দ্র কুমারের ‘ধামাল ৪’-এ অজয় দেবগন, রিতেশ দেশমুখ, আরশাদ ওয়ারসি, জাভেদ জাফরি, রবি কিশান ও এশা গুপ্তার সাথে পর্দায় হাজির হয়েছেন।




