হলিউডে শোকের ছায়া নেমে এসেছে ‘গডজিলা বনাম কং’ ও ‘গডজিলা এক্স কং: দ্য নিউ এম্পায়ার’ সিনেমার জিয়া চরিত্রের অভিনেত্রী কেলি হটলের অকাল মৃত্যুতে। মঙ্গলবার সকালে মেরিল্যান্ডের ফ্রেডরিকে এক গাড়ি দুর্ঘটনায় তিনি নিহত হন বলে জানিয়েছেন তাঁর বাবা জশুয়া হটল। টেক্সাসে অবস্থান করে ফেসবুক লাইভে ২৩ মিনিটের এক ভিডিও বার্তায় তিনি মেয়ের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেন, যেখানে তিনি লেখেন, “আমি এমন একটি ফ্লাইট নিচ্ছি যা কখনো নিতে চাইনি।” বেশিরভাগ সংবাদমাধ্যম ১৮ বছর বয়স উল্লেখ করলেও আইএমডিবি প্রোফাইল অনুযায়ী কেলির জন্ম ২০০৭ সালের ১ মে, ফলে তাঁর বয়স ছিল ১৯।

জন্মসূত্রে বধির কেলি একটি বধির পরিবারে বেড়ে ওঠেন এবং কৈশোর থেকেই আমেরিকান সাংকেতিক ভাষায় (এএসএল) দক্ষ ছিলেন। অস্টিনের টেক্সাস স্কুল ফর দ্য ডিফ-এ তিনি পড়াশোনা করতেন এবং সেখান থেকেই সিনিয়র শ্রেণির ছাত্রী ছিলেন। ২০২১ সালে মুক্তি পাওয়া ‘গডজিলা বনাম কং’-এ প্রথম বড় পর্দায় আসেন তিনি। সিনেমায় তাঁর চরিত্র জিয়া স্কাল আইল্যান্ডের বাসিন্দা, যে কং-এর সাথে সাংকেতিক ভাষায় যোগাযোগ করে এবং গল্পে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ২০২৪ সালের ‘গডজিলা এক্স কং: দ্য নিউ এম্পায়ার’-এ তিনি একই চরিত্রে ফিরে আসেন, যেখানে জিয়াকে রেবেকা হল অভিনীত ইলিন অ্যান্ড্রুজের স্নেহচ্ছায়ায় দেখা যায়।

সহ-অভিনেতা আলেকজান্ডার স্কার্সগার্ড ২০২১ সালে জাঙ্কি ম্যাগাজিনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে কেলির প্রশংসা করে বলেন, তাঁর প্রথম সিনেমা হওয়া সত্ত্বেও ক্যামেরার সামনে কতটা স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করতেন তা দেখে তিনি মুগ্ধ হয়েছিলেন। পরিচালক অ্যাডাম উইংগার্ডের নির্দেশনা তিনি যত দ্রুত গ্রহণ করতেন এবং নিজের অভিব্যক্তি ও মুখের ভঙ্গিমায় যে সূক্ষ্মতা ফুটিয়ে তুলতেন তা প্রশংসনীয় ছিল বলে মন্তব্য করেন স্কার্সগার্ড। তিনি এবং রেবেকা হল ক্যামেরার বাইরে তাঁর সাথে কথা বলার জন্য এএসএল শিখেছিলেন বলেও জানান।

২০২৫ সালে সায়েন্স ফিকশন, ফ্যান্টাসি ও হরর ফিল্ম অ্যাকাডেমির স্যাটার্ন অ্যাওয়ার্ডে সেরা তরুণ অভিনয়শিল্পী বিভাগে মনোনয়ন পান কেলি। ‘গডজিলা’ ফ্র্যাঞ্চাইজির বাইরেও সিবিএসের ‘ম্যাগনাম পি.আই.’ রিবুটের একটি পর্বে কাজ করেন তিনি। তার আগে বধির সম্প্রদাহের জন্য তৈরি বিভিন্ন বিজ্ঞাপনে অংশ নিয়ে আলোচিত হন।

এদিকে টেক্সাস স্কুল ফর দ্য ডিফ ফেসবুকে এক পোস্টে জানায়, “গভীর দুঃখের সাথে আমরা জানাচ্ছি যে আমাদের টিএসডি-র সিনিয়র কেলি হটল গতকাল ফ্রেডরিক, মেরিল্যান্ডে এক গাড়ি দুর্ঘটনায় মারা গেছেন। এই কঠিন সময়ে তাঁর পরিবার, বন্ধু, সহপাঠী ও সকলের প্রতি সমবেদনা রইল।” এছাড়া এটলান্টায় জন্ম নেওয়া এই তারকার মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে তাঁর সহকর্মী ও ভক্তদের মাঝে।