মহাকাশ গবেষণা ও প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্সের ব্লকবাস্টার প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) পর কোম্পানিটির এক প্রাক্তন ওয়েল্ডার হুয়ান হার্নান্দেজের সম্পদ রাতারাতি বহুগুণে বেড়ে যায়। প্রায় ১.৭৭ ট্রিলিয়ন ডলারের এই আইপিওর পর ২০১৫ সালে ঘণ্টায় ২৮ ডলারে যোগ দেওয়া হার্নান্দেজের শেয়ারের মূল্য দাঁড়িয়েছে আনুমানিক ৮৮০,০০০ ডলার। বিলিয়নিয়ার বিনিয়োগকারী মার্ক কিউবানের মতে, এই মডেল অর্থাৎ কর্মীরা যেখানে কাজ করেন সেই কোম্পানির শেয়ার মালিকানা লাভ করবেন, তা ব্যতিক্রম না হয়ে বরং সাধারণ নিয়মে পরিণত হওয়া উচিত।

কিউবান সম্প্রতি একটি পডকাস্টে নিজের দর্শন তুলে ধরেন। তিনি বলেন, কোম্পানির স্টক অপশন শুধু কর্মীদের জন্য বড় অঙ্কের অর্থ এনে দেয় না, বরং ক্রমবর্ধমান আয়ের বৈষম্যের মতো সমস্যারও সমাধান করতে পারে। তার ইচ্ছা, প্রতিটি প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও), প্রতিষ্ঠাতা ও উদ্যোক্তা তার মতো করেই সব কর্মীকে ইকুইটি বা শেয়ার প্রদান করুন। ১৯৯৯ সালে ইয়াহু তার মিডিয়া কোম্পানি ব্রডকাস্ট ডট কম ৫.৭ বিলিয়ন ডলারে অধিগ্রহণ করার আগে তিনি সেখানকার ৩৩০ জন কর্মীকে শেয়ার দেন, যার ফলে তাদের মধ্যে ৩০০ জন মিলিয়নিয়ারে পরিণত হন।

যুক্তরাষ্ট্রের কর্মীদের মধ্যে বেতনের ব্যবধান দিন দিন বাড়ছে। ২০২৪ সালে এসঅ্যান্ডপি ৫০০ কোম্পানির সিইওরা তাদের কর্মীদের মধ্যম আয়ের চেয়ে ২৮৫ গুণ বেশি ক্ষতিপূরণ পেয়েছেন, যা ২০২৩ সালে ছিল ২৬৮ গুণ। এ বিষয়ে কিউবান দীর্ঘদিন ধরেই সোচ্চার। তিনি ন্যূনতম মজুরি ২০ ডলার করার পক্ষে ওকালতি করে এসেছেন। অন্যদিকে বিশ্বের ধনী ব্যক্তি এলন মাস্কও কর্মীদের কোম্পানির শেয়ার দেওয়ার পক্ষে মত দিয়েছেন, যাতে তারা কোম্পানির উন্নতিতে সরাসরি অংশীদার হতে পারেন।

মার্ক কিউবান 'সহানুভূতিশীল পুঁজিবাদ'-এ বিশ্বাসী। তার মতে, মুক্তবাজার অর্থনীতি সরকারি সামাজিক পরিষেবার মতো সমাধান দিতে পারে। এর উদাহরণ হিসেবে তিনি ২০২২ সালে চালু করা তার ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানি কস্ট প্লাস ড্রাগস-এর কথা উল্লেখ করেন, যা মধ্যস্বত্বভোগীদের বাদ দিয়ে ওষুধের দাম কমিয়ে এনেছে। এখন তিনি আয়ের দিকেও একই পদ্ধতি প্রয়োগ করতে চান। তিনি প্রস্তাব দিয়েছেন, সরকার সিইওদের সব কর্মীকে একই শতাংশ হারে শেয়ার ওয়ারেন্ট বা অপশন দিতে উৎসাহিত করতে কর্পোরেট করের হার বর্তমান ২১ শতাংশের চেয়ে কমিয়ে দিতে পারে। অর্থাৎ, কোনো সিইও যদি তার নগদ ক্ষতিপূরণের ১০ শতাংশ মূল্যের শেয়ার পান, তাহলে নিচের স্তরের কর্মীরাও যেন তাদের উপার্জনের একই শতাংশ হারে শেয়ার পান।

গবেষণায় দেখা গেছে, কর্মীদের মালিকানা আয়ের ব্যবধান কমানোর একটি কার্যকরী উপায় হতে পারে। হার্ভার্ড বিজনেস স্কুলের ২০২১ সালের একটি গবেষণা অনুসারে, যুক্তরাষ্ট্রের সব প্রাইভেট ফার্ম যদি ৩০ শতাংশ কর্মী-মালিকানাধীন হয়ে যায়, তাহলে দেশটির পরিবারের সম্পদ কার্যকরভাবে দ্বিগুণ হবে। অন্যদিকে শীর্ষ ১ শতাংশ ধনী ব্যক্তির সম্পদ গড়ে ১৪ শতাংশ কমতে পারে। এছাড়াও, রাটগার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০০৪ সালের এক গবেষণায় বলা হয়েছে, কমপক্ষে ৫ শতাংশ মালিকানা কর্মীদের দেওয়া কোম্পানিগুলোর টিকে থাকার সম্ভাবনা বেশি, যা গবেষকরা অধিকতর কর্মসংস্থান নিরাপত্তার জন্য দায়ী করেছেন।