বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার সম্পর্কের বিদ্যমান অস্বস্তি দূর করে তা নতুন ভিত্তিতে গড়ে তোলার বিষয়ে উভয় দেশ একমত হয়েছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান। বুধবার বিকেলে ঢাকায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর সঙ্গে তাঁর এবং প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামের একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। দায়িত্ব গ্রহণের পর এটিই ছিল পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে হাইকমিশনারের প্রথম সাক্ষাৎ।
বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান বলেন, দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে কিছু ইরিটেশন বা অস্বস্তি বিদ্যমান, যা উভয় পক্ষই জানে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, এই সমস্যাগুলো সমাধানের প্রয়োজনীয়তা সবাই উপলব্ধি করেন না, তবে সম্পর্ক পুনরায় চালু বা ‘রিসেট’ করার ব্যাপারে তাঁরা ঐকমত্যে পৌঁছেছেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ব্রিকস সম্মেলনের আউটরিচ পর্বে অংশ নিতে ভারত সফরের সম্ভাবনা নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে খলিলুর রহমান জানান, আমন্ত্রণের বিষয়টি বর্তমানে পর্যালোচনা করা হচ্ছে। শিগগিরই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে এবং তা জানিয়ে দেওয়া হবে। তিনি আরও স্পষ্ট করেন, ভবিষ্যতে দুই দেশের সম্পর্ক পারস্পরিক স্বার্থ ও সার্বভৌম সমতার ভিত্তিতে এগিয়ে নেওয়ার ব্যাপারে তারা একমত। কোনো নির্দিষ্ট বিষয়ে দীর্ঘ আলোচনা না হলেও সম্পর্কের সাধারণ উন্নয়ন নিয়েই কথাবার্তা হয়েছে বলে জানান তিনি।
পুশ-ইন ইস্যু নিয়ে আলোচনা হয়েছে কিনা—এমন প্রশ্নের উত্তরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সেদিন কোনো বিশেষ প্রসঙ্গে কথা বলেননি তাঁরা। তবে কিছু অস্বস্তি আছে যা উভয় পক্ষ জানে এবং সমাধান প্রয়োজন। ভারতে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রসঙ্গে আলোচনা হয়েছে কিনা—এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ভবিষ্যতে সব বিষয় নিয়েই আলোচনা হবে।
ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী বৈঠক প্রসঙ্গে বলেন, এটি অত্যন্ত ইতিবাচক ও আন্তরিক পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর হলে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আরও অগ্রগতি সম্ভব হবে। দুই দেশের সম্পর্কের ভিত্তি হবে জনগণের পারস্পরিক স্বার্থ এবং জনগণের সঙ্গে জনগণের সম্পর্ক—এমন মন্তব্য করে তিনি অদূর ভবিষ্যতে আরও ঘনিষ্ঠ সম্পৃক্ততার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
বৈঠকে ইতিহাস, সংস্কৃতি এমনকি ক্রিকেট নিয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানান হাইকমিশনার। গঙ্গা পানিবণ্টন চুক্তি নবায়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, উভয় দেশের ওয়ার্কিং গ্রুপ সক্রিয় রয়েছে এবং পারস্পরিক যোগাযোগ অব্যাহত থাকবে। তাঁর মতে, পারস্পরিক বোঝাপড়ার মাধ্যমে সমাধান করা যায় না—এমন কোনো সমস্যা নেই। তিনি আরও জানান, ভিসা কার্যক্রম চালু হওয়ায় দুই দেশের মানুষ খুশি, যা জনগণের কল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ।




