নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ধর্মীয় উসকানিমূলক পোস্ট ও মন্তব্য করার অভিযোগ তুলে দুই যুবকের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এরপরই একদল উত্তেজিত জনতা ওই দুজনের বাড়িতে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর করে। ঘটনাটি ঘটে গত রোববার রাতে। থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আবদুল মান্নান বাদী হয়ে সাইবার সুরক্ষা আইনে মামলাটি দায়ের করেন। পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার দুপুরে ওই যুবক তার ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে ভারতের চলমান একটি আন্দোলন নিয়ে একটি পোস্ট প্রকাশ করেন। পোস্টটির ভাষা ধর্মীয় বিদ্বেষ ও উত্তেজনা ছড়ানোর মতো বলে প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে। ওই পোস্টে আরেক যুবক মন্তব্য করেন, যা ধর্মীয় অবমাননাকর বলে দাবি করা হয়েছে। এই পোস্ট ও মন্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং জনমনে ধর্মীয় বিদ্বেষ, ঘৃণা ও উত্তেজনা সৃষ্টির আশঙ্কা তৈরি হয়। তাদের বিরুদ্ধে সাইবার সুরক্ষা আইন, ২০২৬-এর ২৬(১) ধারা অনুযায়ী মামলা রুজু করা হয়েছে। ওই অভিযোগ ছড়িয়ে পড়ার পরপরই গতকাল সন্ধ্যায় একদল লোক ওই দুজনের বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ভুক্তভোগী এক যুবকের স্বজন জানান, যারা অন্যায় করেছে তাদের শাস্তি তারা চান, কিন্তু বাড়িঘরে হামলা ও ভাঙচুর কেন করা হলো তা বুঝতে পারছেন না। তারা প্রাণ বাঁচাতে পালিয়ে গিয়েছিলেন এবং হামলাকারীরা চলে যাওয়ার পর এসে দেখেন বাড়িঘর তছনছ হয়ে গেছে। বর্তমানে তারা আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। কলমাকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোস্তাফিজুর রহমান জানান, উত্তেজিত জনতা অভিযুক্তদের বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর চালিয়েছিল। পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে এবং অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পুলিশ সতর্ক অবস্থানে আছে। তিনি আরও বলেন, দুই যুবকের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে এবং তাদের গ্রেপ্তারে পুলিশ কাজ করছে। তদন্তে প্রাপ্ত তথ্য ও প্রমাণের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নেত্রকোনায় ফেসবুক পোস্টের জেরে দুই যুবকের বাড়িতে হামলা, মামলা দায়ের
নেত্রকোনার কলমাকান্দায় ফেসবুকে ধর্মীয় বিদ্বেষমূলক পোস্ট ও মন্তব্যের অভিযোগে দুই যুবকের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। এর জেরে একদল লোক তাদের বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।




